infonatunsomoy@gmail.com শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
২৫ বৈশাখ ১৪৩৩

সরেজমিন দেখতে আজ বগুড়ায় যাচ্ছেন তিন মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৭ মে ২০২৬ ১০:০৫ এএম

সংগৃহিত

বগুড়া বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ ঘিরে আবার জোরালো প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই বিমানবন্দরকে বাণিজ্যিক ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনায় আজ সরেজমিন পরিদর্শনে যাচ্ছেন সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। সম্ভাবনার এই প্রকল্পের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ। প্রায় ৭০০ একর জমি অধ

বগুড়া বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ ঘিরে আবার জোরালো প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই বিমানবন্দরকে বাণিজ্যিক ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনায় আজ সরেজমিন পরিদর্শনে যাচ্ছেন সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। সম্ভাবনার এই প্রকল্পের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ। প্রায় ৭০০ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে বগুড়া বিমানবন্দর উন্নয়ন পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। বর্তমানে এটি একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য উড্ডয়ন ও অবতরণ উপযোগী বিমানঘাঁটি (স্টলপোর্ট) হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রায় ১০৯ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই বিমানবন্দরে রয়েছে ৪ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ ও ১০০ ফুট প্রশস্থ রানওয়ে, একটি চারতলা টার্মিনাল ভবন, দোতলা

ফায়ার স্টেশন, পাওয়ার হাউস এবং সীমিত নিরাপত্তা অবকাঠামো। তবে রানওয়ে লাইটিংব্যবস্থা না থাকায় রাতের অপারেশন সম্ভব নয়, আর বর্তমান অবকাঠামো বড় আকারের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিমানবন্দরকে পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ৪০০ একর জমির ওপর ৯ হাজার ফুট দীর্ঘ ও ১৫০ ফুট প্রশস্থ রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে ১০ হাজার ফুটে সম্প্রসারণ করা হবে। এর ফলে প্রায় ৯০০ একর জমির পরিকল্পনার মধ্যে নতুন করে প্রায় ৭০০ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। অনেক বসতবাড়ি, কৃষিজমি অধিগ্রহণের আওতায় পড়বে। এর ফলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

ইতোমধ্যেই এ প্রকল্পের কারিগরি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। পরামর্শক সেবার আওতায় সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, পেভমেন্ট নকশা এবং আধুনিক টার্মিনাল ভবনের বিস্তারিত ডিজাইন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ঐতিহাসিকভাবে বগুড়া বিমানবন্দর প্রকল্পটি ১৯৯০-এর দশকে অনুমোদন পেলেও নানা কারণে চালু করা যায়নি। ২০০৬ সাল থেকে এটি মূলত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান জানান, বগুড়া বিমানবন্দর বাণিজ্যিক রূপ দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আজ বিমান মন্ত্রণালয়ের দুই মন্ত্রী সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা পরের পদক্ষেপ নেব।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বগুড়াকে বিমানবন্দরে রূপ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা দেন।

জানা গেছে, প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নের প্রস্তাবিত এই প্রকল্প চালু হলে বগুড়াকে কেন্দ্র করে জয়পুরহাট, নওগাঁ, গাইবান্ধা, জামালপুর ও সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের জেলাগুলো সরাসরি উপকৃত হবে। কৃষিপণ্য, বিশেষ করে সবজি দ্রুত পরিবহন ও রপ্তানির সুযোগ বাড়বে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে এবং নতুন শিল্প ও বিনিয়োগের পথ খুলবে। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পর্কিত খবর


সরেজমিন দেখতে আজ বগুড়ায় যাচ্ছেন তিন মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭ মে ২০২৬ ১০:০৫ এএম

সংগৃহিত

বগুড়া বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ ঘিরে আবার জোরালো প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই বিমানবন্দরকে বাণিজ্যিক ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনায় আজ সরেজমিন পরিদর্শনে যাচ্ছেন সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। সম্ভাবনার এই প্রকল্পের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ। প্রায় ৭০০ একর জমি অধ

বগুড়া বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ ঘিরে আবার জোরালো প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই বিমানবন্দরকে বাণিজ্যিক ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনায় আজ সরেজমিন পরিদর্শনে যাচ্ছেন সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। সম্ভাবনার এই প্রকল্পের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ। প্রায় ৭০০ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে বগুড়া বিমানবন্দর উন্নয়ন পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। বর্তমানে এটি একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য উড্ডয়ন ও অবতরণ উপযোগী বিমানঘাঁটি (স্টলপোর্ট) হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রায় ১০৯ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই বিমানবন্দরে রয়েছে ৪ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ ও ১০০ ফুট প্রশস্থ রানওয়ে, একটি চারতলা টার্মিনাল ভবন, দোতলা

ফায়ার স্টেশন, পাওয়ার হাউস এবং সীমিত নিরাপত্তা অবকাঠামো। তবে রানওয়ে লাইটিংব্যবস্থা না থাকায় রাতের অপারেশন সম্ভব নয়, আর বর্তমান অবকাঠামো বড় আকারের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিমানবন্দরকে পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ৪০০ একর জমির ওপর ৯ হাজার ফুট দীর্ঘ ও ১৫০ ফুট প্রশস্থ রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে ১০ হাজার ফুটে সম্প্রসারণ করা হবে। এর ফলে প্রায় ৯০০ একর জমির পরিকল্পনার মধ্যে নতুন করে প্রায় ৭০০ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। অনেক বসতবাড়ি, কৃষিজমি অধিগ্রহণের আওতায় পড়বে। এর ফলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

ইতোমধ্যেই এ প্রকল্পের কারিগরি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। পরামর্শক সেবার আওতায় সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, পেভমেন্ট নকশা এবং আধুনিক টার্মিনাল ভবনের বিস্তারিত ডিজাইন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ঐতিহাসিকভাবে বগুড়া বিমানবন্দর প্রকল্পটি ১৯৯০-এর দশকে অনুমোদন পেলেও নানা কারণে চালু করা যায়নি। ২০০৬ সাল থেকে এটি মূলত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান জানান, বগুড়া বিমানবন্দর বাণিজ্যিক রূপ দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আজ বিমান মন্ত্রণালয়ের দুই মন্ত্রী সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা পরের পদক্ষেপ নেব।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বগুড়াকে বিমানবন্দরে রূপ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা দেন।

জানা গেছে, প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নের প্রস্তাবিত এই প্রকল্প চালু হলে বগুড়াকে কেন্দ্র করে জয়পুরহাট, নওগাঁ, গাইবান্ধা, জামালপুর ও সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের জেলাগুলো সরাসরি উপকৃত হবে। কৃষিপণ্য, বিশেষ করে সবজি দ্রুত পরিবহন ও রপ্তানির সুযোগ বাড়বে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে এবং নতুন শিল্প ও বিনিয়োগের পথ খুলবে। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পর্কিত খবর