রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার শূন্যতা, দেশ-দল পরিচালনায় নতুন নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ
রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার শূন্যতা, দেশ-দল পরিচালনায় নতুন নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে রাজনীতির নেতৃত্বে পালাবদল হয়েছে অনেক। তবে এবারের চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। দল হিসেবে বিএনপির সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকলেও, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর, সরকার প্রধানের অভিজ্ঞতা শূন্য এখন সব দল। বিশ্লেষকদের মতে, খালেদা জিয়ার মতো নেতৃত্বের অনুপস্থিতি দেশের রাজনীতিতে সংকটের শংকা তৈরি করেছে।
তবে আগামীতে যারাই দেশ ও দল পরিচালনায় যুক্ত হবেন, তাদের স্মরণে রাখতে হবে বিগত রাজনৈতিক ইতিহাস। মোাকাবিলা করতে হবে, ভোটের রাজনীতিতে জনতার আস্থা অর্জন, ব্যক্তির নেতৃত্ব ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মত চ্যালেঞ্জ।
মূলত, অভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতায় বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় দল এখন বিএনপি। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর, যে দলের হাল ধরেছিলেন খালেদা জিয়া। বিরোধী দলে আর সরকারে নেতৃত্ব দেন চার দশকের বেশি সময়। তার প্রস্থানের পর এই প্রথম সরকারপ্রধানের অভিজ্ঞতাশূন্য বিএনপি'র নেতৃত্ব ।
২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দী হওয়ার পর থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিএনপির পূর্ণ নেতৃত্বে। যদিও ছায়া হয়ে ছিলেন মা খালেদা জিয়া। মায়ের পাশে থেকে, রাজনীতির সুসময় দুঃসময়ও দেখেছেন তিনি।
নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, খালেদা জিয়ার আদর্শ নিয়েই দলের হাল ধরবেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে দীর্ঘ সময় দেশের বাহিরে থাকা, অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই কাজটি যে সহজ হবেনা, তাও মনে করেন অনেকে।
এই শূন্যতা পূরণে তারেক রহমানই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মত দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের। আইনের শাসনের পাশাপাশি দেশে শান্তিপূর্ণ আবহ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দিকেই চেয়ে রয়েছেন তারা।
অপরদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করেন, এই মুহুর্তে তারেক রহমানের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ । খালেদা জিয়া'র অবর্তমানে জিয়া পরিবারের উত্তরাধিকারের প্রতি, প্রত্যাশার পারদও বেশি। যা তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাড়তি চাপই তৈরি করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আসিফ এম শাহান বলেন, তারেক রহমানের নিজস্ব অভিজ্ঞতার সঙ্গে দেশে ফেরার পর তার যে পরিকল্পনার বার্তা, এই দুয়ের মিশ্রণই পারবে প্রত্যাশার চাপকে কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে। তবে নতুন নেতৃত্বে যারা আসবেন, তারা খালেদা জিয়ার প্রস্থানে যে শূন্যতা— এর গুরুত্ব বোঝার পাশাপাশি, সেই অনুযায়ী কাজ করছেন কি না, সেটিও সমান প্রভাবক হিসেবে আবির্ভুত হবে।
২০০৭ এর পর থেকে রাজনীতির আলোচনায় স্পর্শকাতর বিষয় ছিল 'মাইনাস টু' ফর্মুলা। ঘটনাপ্রবাহে এটাই এখন বাংলাদেশের বাস্তবতা। রাজনীতির এমন মেরুকরণে এর আগে কখনও পড়েনি বাংলাদেশ। ফলে বর্তমান রাজনীতি হবে শূন্যস্থান পূরণের। ব্যাক্তির দক্ষতা, প্রজ্ঞা, মেধা ও জনগণের আস্থার উপরই নির্ভর করবে বাংলাদেশের আগামী রাজনীতি ও সরকারের নেতৃত্ব, এমনটাই বলছেন অনেকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদের মতে, তারেক রহমানের মধ্যে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পরিপক্কতার মেলবন্ধন রয়েছে। এই দুটোর সঙ্গে নিজেও কিছু যুক্ত করবেন যা আগামীর রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের নেপথ্যে কাজ করবে।
তবে সব ছাপিয়ে ভোটের রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, কতটা বিচক্ষণতার সঙ্গে তার পূর্বসূরীদের অনুসরণ করতে পারে,তার উপরও নির্ভর করছে তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
