ঢাকা শুক্রবার, ২রা জানুয়ারী ২০২৬, ২০শে পৌষ ১৪৩২


ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত


২ জানুয়ারী ২০২৬ ২০:৩৫

সংগৃহীত

টানা পঞ্চম দিনের মতো সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তপ্ত ইরান। একদিনে নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষে প্রাণ গেছে অন্তত ছয়জনের। আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে অর্ধশত। এমন পরিস্থিতিতে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজ এ তথ্য জানায়।

 

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতা হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত।

 

অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে গত রোববার ইরানের রাজধানী তেহরানে ধর্মঘট শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। খুব দ্রুতই এই আন্দোলনে সাড়া দেয় সাধারণ মানুষ। দেশটির বিভিন্ন শহরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং গতকাল সহিংস রূপ নেয়।

 

ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপকে 'দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়' হিসেবে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। 

 

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি বলেন, 'যেকোনো মার্কিন হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা এবং আমেরিকার স্বার্থের ধ্বংস ঘটাবে এবং পতন বয়ে আনবে।' 

 

এদিকে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা আলি শামখানি তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'ইরানের নিরাপত্তার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা যেকোন হাত কেটে ফেলা হবে'।

 

সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লোরদেগান ও আজনা শহরে অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৭ জন।এছাড়াও কুহদাশত শহরে বিক্ষোভকারীদের হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

 

চাহারমাহাল ও বখতিরি প্রদেশের লর্ডেগান কাউন্টিতে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত দুইজন নিহত হয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ছুঁড়তে দেখা গেছে। ফার্স জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা গভর্নরের অফিস, ব্যাংক এবং অন্যান্য সরকারি ভবনে পাথর নিক্ষেপ করেছে।

 

কুহদাশতের প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, বিক্ষোভের ঘটনায় ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তেহরানের মালার্ড কাউন্টিতে ৩০ জনকে 'জনসাধারণের শৃঙ্খলা বিনষ্ট করার' অভিযোগে আটক করা হয়েছে।

 

এই বিক্ষোভগুলো ইরানের ২০২২ সালের জাতীয় বিক্ষোভের পর সবচেয়ে বড় ঘটনা, যা মহসা আমিনি নামের ২২ বছর বয়সী নারীর পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর পর শুরু হয়েছিল।

 

এই ঘটনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) এক্সে বলেছে, তারা ইরানে চলমান 'ভীতি, সহিংসতা ও গ্রেফতার' সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং কর্তৃপক্ষকে সাধারণ মানুষের ওপর দমনপীড়ন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।