ঢাকা শনিবার, ৫ই এপ্রিল ২০২৫, ২২শে চৈত্র ১৪৩১


সেমির লড়াইয়ে মুখোমুখি ইংল্যান্ড-নেদারল্যান্ডস, কার শক্তি কোথায়?


১০ জুলাই ২০২৪ ২১:০১

ছবি: সংগৃহীত

চলমান ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নামবে নেদারল্যান্ডস। শিরোপার মঞ্চে চোখ রেখে ম্যাচটিতে জয়ের বিকল্প ভাবছে কেউই। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচটিতে যে কেউই ছেড়ে কথা বলবে না, তা অনুমেয়। 

 

এদিকে ১৯৬৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের পর আর কোন বড় শিরোপা পাওয়া হয়নি ইংল্যান্ডের। অন্যদিকে ১৯৮৮ সালে ইউরো শিরোপা পাওয়া নেদারল্যান্ডস ৩৬ বছর ধরে শিরোপা খরায় ভুগছে। দুই দলের মধ্যকার সেমিফাইনাল এ কারণে হয়ে উঠেছে মর্যাদার লড়াই।

 

আগামী ১৪ জুলাই বার্লিনে এবারের ইউরোর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে স্পেন। বাকি একটি দল হিসেবে কে খেলবে তা নির্ধারণের জন্য ইংল্যান্ড-নেদারল্যান্ডস শেষ চারের লড়াইকে ছাপিয়ে যাবে আরো কিছু লড়াই। 

 

চলুন একনজরে দেখে নেয়া যাক সেসব:

 

বেলিংহাম বনাম শুটেন ও রেইন্ডার্স:

 

ইংল্যান্ড ও রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম এখনো তার সেরা ফর্ম দেখাতে না পারলেও ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালের পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ২১ বছর বয়সী বেলিংহামের নাটকীয় ওভারহেড কিকে স্লোভাকিয়ার শেষ ষোল থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়।

 

নেদারল্যান্ডস মধ্য মাঠে টিয়ানি রেইন্ডার্স ও জার্ডি শুটেনকে দিয়ে বেলিংহামকে বাক্সবন্দী করার চেষ্টা করবে। ডাচ এই জুটি একসঙ্গে দারুণ ফর্মে রয়েছে। কোচ রোনাল্ড কোম্যান তাদের জুটি ভেঙ্গে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জো ভারম্যানকে খেলিয়ে পরাজয়ের মুখে পড়েছিলেন।

 

ট্রিপিয়ার বনাম ডামফ্রিস:

 

ইংলিশ রক্ষণভাগের বামদিকে কিয়েরন ট্রিপিয়ারকে খেলানোর সাউথগেটের সিদ্ধান্তে সমালোচকদের সমালোচনা চলছেই। তাদের দাবি,  এতে করে ইংল্যান্ড নাকি অতি মাত্রায় রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করেছে।

 

ট্রিপিয়ারের উপস্থিতি প্রমাণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হতে যাচ্ছে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে। ডাচ রাইট-ব্যাক ডেনজেল ডামফ্রিস তিন বছর আগে ইউরো ২০২০’এ যেভাবে নিজেকে এগিয়ে নিয়েছিলেন এবারের আসরেও তার একটুও ব্যতিক্রম হয়নি।

 

মাঠে সবসময়ই উজ্জীবিত ডামফ্রিস তুরষ্কের বিপক্ষে বিপদজনক এত ক্রস করে কোয়ার্টার ফাইনালে দলকে জয় উপহার দিয়েছিলেন। ট্রিপিয়ারের প্রথম কাজ হবে ডামফ্রিসকে পুরোপুরি অকার্যকর করে দেয়া, যা কোনভাবেই সহজ কাজ হবে না।

 

কেইন বনাম ভন ডাইক:

 

ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন এখন পর্যন্ত ইউরোর এবারের আসরে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে জার্মান লিগে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারছেন না তিনি। অথচ প্রথম মৌসুমে তিনি বায়ার্নের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৬ গোল করেছেন।

 

পিঠের ইনজুরি নিয়ে মৌসুম শেষ করার পর কেইন কোনভাবেই শতভাগ ফিটনেস ফিরে পাননি। যা ইউরোতে তার পারফরমেন্সে দৃশ্যমান। সেমিফাইনালে তাকে লিভারপুলের ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইক বিপক্ষে লড়তে হবে। দীর্ঘদেহী এই ডাচম্যানও নিজেকে প্রমাণে ব্যর্থ।

 

ইংল্যান্ডের কোচ গ্যারেথ সাউথগেট অবশ্য তার দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকারকে যতটা সম্ভব মাঠে রাখতে চাচ্ছেন। আগের ম্যাচগুলোতেও ইংলিশ বস সেটাই করেছেন। তবে ডাচ রক্ষনভাগ ভেঙ্গে কেন এবার কতটা এগিয়ে যেতে পারবেন তা সময়ই বলে দিবে।

 

ডাচ লেফট বনাম ইংল্যান্ড রাইট:

 

লিভারপুল উইঙ্গার কোডি গাকপো ইউরোতে এখন পর্যন্ত তিন গোল করে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। নেদারল্যান্ডসের আক্রমণভাগে তিনিই মূল হুমকি।

 

এ পর্যন্ত ডাচদের প্রায় সবকটি বিপদজনক আক্রমণে গাকপোর সংশ্লিষ্টতা ছিল। কিন্তু ইংলিশ রাইট-ব্যাক কাইল ওয়াকারও কম যাননি। গাকপোকে আটাকাতে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন।

 

বিশেষ করে গাকপোর গতিকে থামানোর জন্য ম্যানচেস্টার সিটির এই ডিফেন্ডার একাই যথেষ্ঠ বলে সাউথগেট বিশ্বাস করেন। নেদারল্যান্ডসের লেফট সাইডের হুমকিকে নষ্ট করার করা বুকায়ো সাকাকে এক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য খেলাতে পারেন ইংলিশ বস।

 

সাউথগেট বনাম কোম্যান:

 

সেমিফাইনালে ফলাফলের উপর দুই কোচের খেলোয়াড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত একটি প্রভাব ফেলতে পারে। শেষ আটের নিজ নিজ ম্যাচে যা প্রমাণ হয়েছে। সাউথগেট লুক শ’কে মাঠে নামিয়ে সুইসদের বিপক্ষে ১০ মিনিটের মধ্যে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান।

 

এছাড়া ইভান টনি, ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আর্নল্ড ও কোল পালমারকে বদলি বেঞ্চ থেকে একসঙ্গে উঠিয়ে আনেন। যাদের গোলে ইংল্যান্ড পেনাল্টিতে ৫-৩ গোলের জয় পায়।

 

অন্যদিকে ১৯৮৮ ইউরো জয়ী নেদারল্যান্ডস দলের অধিনায়ক কোম্যান তুরষ্কের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর ওট উইগর্স্টকে মাঠে নামিয়ে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন।