ঢাকা বুধবার, ১১ই ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮শে অগ্রহায়ণ ১৪২৬


নিউজিল্যান্ডের কাছে ইংল্যান্ডের ইনিংশ হার


২৫ নভেম্বর ২০১৯ ১৩:১৩

আপডেট:
১১ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৬:৪৪

সংগৃহীত

কিউই পেসারদের গতির বিষে দিশেহারা হয়ে পরে ইংল্যান্ড শিবির। আর তাতেই এরানো গেলো না ইনিংস ব্যবধানের পরাজেয় হারটা।
মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের শেষ দিন পুরোটা খেলতেই পারল না ইংল্যান্ড।
আগের দিন শেষ বিকেলে তিন উইকেট নিয়ে চোখ রাঙিয়েছিলেন স্পিনার মিচেল স্যান্টনার। মনে হচ্ছিল, ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে এই স্যান্টনারই যম হিসেবে আবির্ভূত হবেন। কিন্তু শেষ দিনে হিসাব বদলে দিলেন নিউজিল্যান্ডের পেসাররা। আর তাতেই ইনিংসে হেরে বসল ইংল্যান্ড।

বিশেষ করে বললে নিল ওয়াগনার। এই ওয়াগনারের তোপেই খেই হারিয়ে ফেলেছে ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। একাই পাঁচ উইকেট নিয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার। বাকি দুই উইকেট নিয়েছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার কলিন ডি গ্রান্ডহোম ও পেসার টিম সাউদি।

সকালে ব্যাট করতে নেমেছিলেন জো ডেনলি আর জো রুট। দুজনই ছিলেন বেশ সাবধানী। ইংল্যান্ডও আশা করছিল, এই দুজনের ব্যাটে চড়ে যেন অন্তত লাঞ্চ পর্যন্ত যাওয়া যায়। কিন্তু অধিনায়ক রুট নিজেই ধৈর্যহারা হয়ে পড়লেন। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের অফ স্টাম্পের বাইরের মোটামুটি নির্বিষ শর্ট বল খামোকা খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে এলেন। ১১ রানেই শেষ হয়ে যায় রুটের ইনিংস। এরপর উইকেটে আসেন বেন স্টোকস। ইংল্যান্ডের তখন আশা, অ্যাশেজের সেই বিধ্বংসী ফর্ম মাউন্ট মঙ্গানুইতেও নিয়ে আসবেন স্টোকস। ডেনলির সঙ্গে বোঝাপড়াটা বেশ ভালোই হচ্ছিল এই অলরাউন্ডারের। লাঞ্চ পর্যন্ত আর কোনো উইকেট হারায়নি ইংল্যান্ড। টেস্ট বাঁচানোর আশা তখন ইংল্যান্ড শিবিরে, একটু একটু করে বাড়ছে।

কিন্তু লাঞ্চের পরই আউট হয়ে গেলেন স্টোকস। সাউদিকে মারতে গিয়ে বোল্ড হয়ে ফিরে এলেন। স্কোরবোর্ডে নিজের নামের পাশে তখন মাত্র ২৮ রান। ইংল্যান্ডের ম্যাচ বাঁচানোর সম্ভাবনা তখনই শেষ প্রায়।

কিন্তু এরপরই মঞ্চে আবির্ভাব ওয়াগনারের। বহুক্ষণ ধরে মাটি কামড়ে বসে থাকা জো ডেনলিকে আউট করে ইংল্যান্ডের চূড়ান্ত পতনের শুরুটা করে দেন তিনি। আসতে আসতে ড্রেসিংরুমের পথ ধরলেন ওলি পোপ, জস বাটলার। চা পানের বিরতি যখন এল, ইংল্যান্ড তখনই পরাজয়ের ক্ষণ গণনা করা শুরু করে দিয়েছে। আট উইকেট নেই তখন তাদের।

শেষ লড়াই করে গিয়েছেন দুই টেল এন্ডার স্যাম কুরান ও জফরা আর্চার। কোনোমতে দুজনই কাটিয়ে দিয়েছিলেন ষেলো ওভার। সাউদি, গ্রান্ডহোমরা আউট করতে পারছিলেন না এদের। পারবেন কীভাবে? ওয়াগনারের ভাগ্যে যে পাঁচ উইকেট লিখে রেখেছিলেন ক্রিকেট-বিধাতা! পরপর দুই বলে আর্চার আর স্টুয়ার্ট ব্রডকে ফিরিয়ে নিজেই যবনিকা টেনেছেন টেস্টের। আর তাতেই ইনিংস ও ৬৫ রানে জিতেছে নিউজিল্যান্ড। ম্যাচসেরা হয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরি করা বিজে ওয়াটলিং।