ঢাকা শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর ২০২০, ১৩ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ই-কমার্সের নামে ২৬৮ কোটি টাকার প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৬


৩ নভেম্বর ২০২০ ১৬:০১

আপডেট:
২৭ নভেম্বর ২০২০ ০৫:৫৪

ই-কমার্সের নামে ২৬৮ কোটি টাকার প্রতারণায় জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। আজ মঙ্গলবার সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আলামিন প্রধান (এমডি ও সিইও), মো. জসীম (নির্বাহী অফিসার), মো. মানিক মিয়া (ম্যানেজার, হিসাব), মো. তানভীর আহম্মেদ (ম্যানেজার, প্রোডাক্টস), মো. পাভেল সরকার (সহকারী ম্যানেজার, প্রোডাক্টস), নাদিম ও অফিস সহকারী মো. ইয়াসির উল্লাহ।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, ‘এসপিসি ওয়ার্ল্ড লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানি ই-কমার্সের নামে লাইসেন্সবিহীন পিরামিড আকৃতির অনলাইনভিত্তিক মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পরিচালনা করে সাধারণ মানুষকে অধিক কমিশনের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৬ অক্টোবর রাজধানীর কলাবাগান থানা এলাকার এফ হক টাওয়ারে অবস্থিত এসপিসি ওয়ার্ল্ড লিমিটেড’র কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা ডিবি। এ সময় ৪ জনকে আটক করা হয়। পরে কলাবাগান থানায় এ সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় আটক ৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

জিজ্ঞাবাদে গ্রেপ্তার চারজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মোতাবেক গতকাল সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে এসপিসি ওয়ার্ল্ড লিমিটেড’র মূলহোতা আলামিন প্রধান মো. জসীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি হ্যারিয়ার গাড়ি, ২টি পিকআপ ভ্যান, সার্ভারে ব্যবহৃত ৬টি ল্যাপটপ, ২টি রাউটার, ২টি পাসপোর্ট ও বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য ও কোম্পানির সার্ভারের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এসপিসি ওয়ার্ল্ড লিমিটেড কোম্পানি চলতি বছরের প্রথম দিন ই-কমার্স লাইসেন্স নিয়ে যাত্রা শুরু করে। কোম্পানির এমডি ও সিইও আলামিন প্রধান একসময় ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড কোম্পানিতে সক্রিয় ছিলেন। ডেসটিনি বন্ধ হয়ে গেলে দীর্ঘদিন গবেষণা করে সেটির ব্যবসা পদ্ধতি অনুসরণ করে এসপিসি ওয়ার্ল্ড লিমিটেড কোম্পানির প্রতারণা শুরু করেন।

এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘এ কোম্পানির প্রধান, ডিএমডি, ডিরেক্টর, অফিসার সম্মিলিতভাবে মাত্র ১০ মাস সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুজি করে উচ্চ কমিশনের প্রলোভন দেখিয়ে মোট বাইশ লক্ষ ছাব্বিশ হাজার ছয়শত আটষট্টি মেম্বার আইডি থেকে প্রায় ২৬৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ব্যবসা কার্যক্রম অনলাইন অ্যাপ ভিত্তিক হওয়ায় বাংলাদেশের বাইরেও ১৭টি দেশে প্রবাসী ও বিদেশি মোট ৫ লাখ মেম্বার রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া যায়।’

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) আরও বলেন, ‘কোম্পানির এমডি আলামিন প্রধান ও কোম্পানির নামে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫টি গাড়ি, বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ৮টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। তারা ই-কমার্সের কথা বলে সাধারণ জনগণকে লোভনীয় কমিশনের লোভ দেখিয়ে প্রতারনার ফাঁদে ফেলতেন।’