ঢাকা শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৫, ২২শে চৈত্র ১৪৩১


মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে সেনা হেফাজতে কলেজশিক্ষার্থী


২৯ অক্টোবর ২০২৪ ০৭:২৮

ফাইল ফটো

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ইসলাম ধর্মের শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে এক কলেজশিক্ষার্থীকে অবরুদ্ধ করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। সোমবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে কলেজ শিক্ষার্থীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়ে তাকে সেনা হেফাজতে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে কাদিরদী ডিগ্রি কলেজ চত্বরে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা।

 

সরেজমিন ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ওই কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মুহাম্মদ (সা.) কে কটূক্তি করে একটি স্টোরি আপলোড করেন। এ খবর জানাজানি হলে কাদিরদী কলেজে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে অধ্যক্ষের রুমে নিয়ে বিষয়টি জানার চেষ্টা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

 

মুহূর্তে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের কয়েকটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কলেজ চত্বরে জড়ো হয়ে তাকে তাদের হাতে তুলে দিতে দাবি জানাতে থাকেন। এ সময় অধ্যক্ষের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্র-জনতা। বিক্ষুব্ধ জনতা মারমুখি হয়ে পড়লে সাতৈর ইউপি চেয়ারম্যান রাফিউল আলম মিন্টু ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা চালান। এ সময় বিক্ষুব্ধরা কলেজের জানালার গ্লাস, ফুলের টব, কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন।

 

খবর পেয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান চৌধুরী, বোয়ালমারী থানার ওসি মো. গোলাম রসুল পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ দিন বিকাল ৩টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষুব্ধ জনতার দাবি মেনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাকে বের করে সেনা ক্যাম্পে নেওয়ার সময় উত্তেজিত বিক্ষুব্ধ জনতা জুতা, স্যান্ডেল ও ইটপাটকেল মারতে থাকেন।
 
অভিযুক্ত দাবি করেন, আমি মোবাইল ব্যবহার করি না। আমার নামের ফেসবুক আইডি গত দুই বছর আগে হ্যাক হয়েছে। হ্যাক হওয়া আইডি থেকে দুই বছর আগে একটি আপত্তিজনক পোস্ট করে অন্য কেউ। ইতোপূর্বে এ বিষয়ে থানা পুলিশ তদন্ত করে আমার সম্পৃক্ততা পায়নি। এরপর থেকে আমি মোবাইল ব্যবহার করি না।

 

কাদিরদী কলেজের অধ্যক্ষ নুরুজ্জামান মোল্লা বলেন, মহানবী (সা.) কে নিয়ে কটূক্তি করায় একটি উদ্ভূত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউএনও, পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। সেনাবাহিনী ছেলেটিকে হেফাজতে নিয়ে গেলে এলাকার পরিবেশ শান্ত হয়ে যায়।

 

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভির হাসান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, কাদিরদী কলেজের ওই শিক্ষার্থী ফেসবুক পোস্ট নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। বিক্ষোভকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সেনা হেফাজতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী তদন্তপূর্বক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।