মোস্তাফিজ ইস্যুতে ক্ষোভ ঝাড়লেন শশী থারুর, বললেন 'বাংলাদেশ পাকিস্তান নয়'
বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার নির্দেশ দেওয়ায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার সদস্য শশী থারুর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ পাকিস্তান নয় এমন মন্তব্য করে দেশটির সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে সন্ত্রাসী পাঠায়নি। দুই দেশের পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। তাছাড়া দুই দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কও আলাদা। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের স্তর পাকিস্তানের মতো নয়। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে দুটি ভিন্ন বিষয়কে এক কাতারে ফেলা যায় না।
মোস্তাফিজকে বাদ দেয়া 'অপ্রয়োজনীয় রাজনীতিকরণ' বলেও মন্তব্য করেন এই নেতা। বলেন, বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্ত একেবারেই নিন্দনীয়। ক্রীড়াঙ্গন এবং রাজনীতি দুটি ভিন্ন বিষয়।
থারুরের মতে, 'শুধু ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এই সিদ্ধান্তের কোনো মানে হয় না। বিসিসিআই নিজেই নিবন্ধিত খেলোয়াড়দের একটি পুল থেকে দলগুলোকে খেলোয়াড় বাছাইয়ের সুযোগ দিয়েছিল। যদি কোনো খেলোয়াড় সেই পুলে থাকে, তাহলে কেকেআর কেনো দোষী হবে? বিসিসিআই নিজেই যাকে যোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, তাকে দলে নেয়ার বিরোধিতা করার কোনো যুক্তি নেই।'
আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশ্নও তুলেছেন,‘আমরা আসলে কাকে শাস্তি দিচ্ছি? একটি দেশকে নাকি একজন ব্যক্তিকে নাকি তার ধর্মকে, আসলে কোনটা?’
বর্তমানে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ আয়োজন বন্ধ। পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা আইপিএলে অংশও নিতে পারে না। তবে, বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে এমন নজির স্থাপন হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন থারুর।
বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা নিয়ে একাধিক আপত্তি তোলেন এই রাজনীতিবিদ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নিলামে যদি বাংলাদেশের হিন্দু ক্রিকেটার লিটন দাস বা সৌম্য সরকার নির্বাচিত হতেন, তাহলে কি তাদেরও আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হতো?
তিনি বলেন, 'আমার একটি নৈতিক আপত্তিও আছে। কেন খেলাধুলা বিশেষ করে ক্রিকেটকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষোভের বোঝা বইতে হবে? প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের বহু স্তরে সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সব কিছুর চাপ গিয়ে পড়ে ক্রিকেটের ওপর। আর একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড় যিনি কখনও ঘৃণামূলক বক্তব্য দেননি কিংবা ভারতের বিরুদ্ধে বা বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কখনোই কিছু বলেননি, তাকে রাজনৈতিক দিকে টানা হচ্ছে। অথচ তিনি তো কেবল একজন ক্রীড়াবিদ। এখানে কাকে আসলে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে?'
