ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ই জুন ২০১৯, ৫ই আষাঢ় ১৪২৬


ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে প্রধান বিরোধী দল জাপা


১০ জুন ২০১৯ ২০:২৪

আপডেট:
১১ জুন ২০১৯ ০০:৪০

প্রতিকি

সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এবার নব রুপে ঘুরে দাড়ানোর মিশনে নেমেছে । চলতি বছরের মধ্যে সকল জেলা উপজেলা মেয়াদ উত্তীর্ন কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন করে সম্মেলন করে জাতীয় পার্টিকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। জেলা উপজেলা সম্মেলন শেষ করে দলের জাতীয় সম্মেলন সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের এমপি।

জানা গেছে, এবারের জাতীয় সম্মেলনকে জাতীয় পার্টির ইতিহাসে সব চেয়ে ঝাঁকজমক পূর্ণ ও অর্থবহ সম্মেলন করার পরিকল্পনা রয়েছে দলের নীতিনির্ধারকদের। এই সম্মেলনে পার্শ্ববর্তী বন্ধু প্রতি রাষ্ট্র ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।

দলের আগামী ছয় মাসের কর্মসূচি চুড়ান্ত করতে চলতি মাসে শেষ সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা নেতাদের মতামত নিতে ঢাকায় যৌথ সভাও ঢাকা হচ্ছে। এই সভায় দেশের সকল জেলা নেতাদের মতামত নিয়ে দলীয় কর্মসূচী চুড়ান্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছেন জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি।

এই ব্যাপারে জি এম কাদের এমপি বলেন, আমি জাতীয় পার্টিকে সত্যিকার অর্থে একটি যুগোপযোগী - গণমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কিন্তু একার পক্ষে এটা সম্ভব নয়, তাছাড়া ঢাকায় বসে দল পরিচালনা করলেও জাতীয় পার্টির ম্যাসেজ সাধারণ মানুষের মধ্যে পৌছাবে না। এর গণভিত্তিও মজবুত হবে না।

তাই আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি, তৃলমুল পযার্য়ে দলকে শক্তিশালী করার। এজন্য সকল জেলা উপজেলার সম্মেলন সম্পন্ন করা হবে। তারপর কেন্দ্রীয় সম্মেলন করা হবে। এই জন্য প্রতিটি বিভাগের জন আলাদা আলাদা কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি স্ব স্ব বিভাগের জেলা উপজেলার সম্মেলন সম্পন্ন করবে।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, যৌথসভার পর পর প্রেসিডিয়াম সভা ডেকে আটটি বিভাগের জন্য আটটি সংগঠনিক টিম গঠন করা হবে। জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্যরা এই টিমের নেতৃত্বে থাকলেও অপেক্ষাকৃত তরুন নেতারাই এই টিমের মুল দায়িত্ব পালন করবেন। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি জাতীয় পার্টিতে অপেক্ষাকৃত তরুন নেতাদের পদান্নতি দেয়া হয়েছে। যাদের পদান্নতি দেয়া হয়েছে তারা নিজ নিজ এলাকা ও পার্টির মধ্যে নিবেদিত নেতা হিসেবে পরিচিতি। এছাড়া প্রত্যোকের ক্লিন ইমেজও রয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই ধরণের আরো কয়েকজন নেতাকে পদান্নতি দিয়ে জাপার বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে ।

এদিকে এবার জাতীয় সম্মেলনে সার্কভুক্ত বিভিন্ন দেশের বন্ধুপ্রতিম বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি।

তিনি বলেন, আমরা দলকে তৃণমুল পর্যায়ে আরো সুসংগঠিত করার পাশাপাশি বিদেশে আমাদের যারা বন্ধু রয়েছে তাদেরকেও আমাদের দলের কর্মসূচি ও সাংগঠনিক শক্তি সর্ম্পকে অবগত করতে চাই। এই জন্য এবারের জাতীয় সম্মেলনে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস সহ সার্কভুক্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দল এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই ব্যাপারে আমাদের পার্টির যারা আর্ন্তজাতিক সর্ম্পক বিভাগের দায়িত্বে আছেন তারা কাজ করছেন।

এদিকে জাপার সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদেও সরব ভুমিকা রাখতে চায় জাতীয় পাটি। সংসদের চলতি বাজেট অধিবেশনে এই ব্যাপারে সকল সংসদ সদস্যকে কার্য়কর ভুমিকা পালন করার জন্য বলা হয়েছে। বাজেটে গণবিরোধী কোনো কিছু থাকলে তার তিব্র প্রতিবাদ জানাবে জাপা।

উল্লেখ্য নানা নাটকীয়তার পর সম্প্রতি দলটির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা এইচ এম এরশাদ সংবাদ সম্মেলন করে জি এম কাদেরের হাতে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অর্পণ করেন। দলটির বেশিরভাগ নেতা-কর্মী এরশাদের এ সিদ্ধান্তে খুশি। তাদের মতে, পার্টি চেয়ারম্যানের অসুস্থতার কারণে দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড অনেকটা থেমে ছিল। বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো- চেয়ারম্যান রওশন এরশাদও অনেকটা অসুস্থ। এ অবস্থায় দলের ঐক্য বজায় রাখার পাশাপাশি জাতীয় পার্টিকে এগিয়ে নিতে জি এম কাদেরই শেষ ভরসা। তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে এরশাদ ঠিক কাজটিই করেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই তিনি বিবৃতি দিয়ে জানান, ছোট ভাই জি এম কাদেরই তার রাজনৈতিক উত্তরসূরি। সম্প্রতি জি এম কাদেরকে কো- চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে নেতা-কর্মীরা মেনে নিতে পারেননি। তাদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ এবং দাবির মুখে জি এম কাদেরকে ৪ মে জাতীয় পার্টির কো- চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করেন এরশাদ। নেতা-কর্মীরা মনে করেন, জি এম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করায় জাতীয় পার্টিতে যে স্থবিরতা চলছে তা কেটে যাবে। পাশাপাশি দলটি নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবে।

নতুনসময়/আইএ/