ঢাকা বুধবার, ২০শে নভেম্বর ২০১৯, ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৬


হঠাৎ বড় ধাক্কা খেলেন ড. কামাল


২৮ নভেম্বর ২০১৮ ১৯:২৭

আপডেট:
২৮ নভেম্বর ২০১৮ ১৯:২৯

গত এক বছর ধরে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে বেশি সোচ্চার ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও ছিল চোখে পড়ার মত।

কিন্তু বুধবার (২৮ নভেম্বর) ইউরোপীয় পার্লামেন্ট (ইপি) আনুষ্ঠানিকভাবে জানালো যে, বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তারা পর্যবেক্ষণ করবে না। ইপির দুই কর্মকর্তা আজ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই বিবৃতি সরকার বিরোধী জোটের জন্য এক বড় আঘাত। শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়ন নয়, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রও ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর ফলে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন একটি বড় ধাক্কা খেলেন। গত একমাস ধরে তিনি চেষ্টা চালান ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্য যেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে। তাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুরোধ জানিয়ে ড. কামাল হোসেন ব্যক্তিগতভাবে চিঠিও দিয়েছিলেন।

ঐ চিঠিতে ড. কামাল বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র পূন:প্রতিষ্ঠার জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার নির্বাচনকে প্রভাবিত করার সব চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় নির্বাচন নিরপেক্ষ করার স্বার্থে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।’

ক’দিন আগে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে ডেকেও ড. কামাল হোসেন একই কথা বলেন। কিন্তু ড. কামালের ডাকে সাড়া দিলো না কেউ। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ডেমোক্রেসি সাপোর্ট অ্যা ইলেকশন কো অর্ডিনেশন গ্রুপ সাধারণত বিদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে। এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে যে পাঁচটি বিষয় তারা বিবেচনা করে সেগুলো হলো: ১. একটি দেশ যখন অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য নির্বাচন করে। ২. একটি দেশে যখন ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। ৩. গৃহযুদ্ধ বা গৃহযুদ্ধ অবসানের পরিপ্রেক্ষিতে যখন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৪. সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটি দেশ, যেখানে গণতন্ত্রের পরিকাঠামো তৈরি হয়নি। ৫. যে দেশগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তার উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সূত্রে জানা গেছে, এই পাঁচটি বিষয়ের একটিও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলেই শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাবে না।

বিএনপি আগামী নির্বাচনে তাদের পক্ষে যেন মার্কিন প্রশাসন অবস্থান নেয়, এজন্য দুটি লবিস্ট ফার্মকেও নিয়োগ দিয়েছিল। এই লবিস্ট ফার্ম দুটির মূল কাজ ছিল, বাংলাদেশের সরকারের উপর যেন মার্কিন প্রশাসন চাপ সৃষ্টি করে। তারা যেন সরকারকে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধ্য করে। শুধু এই দুই লবিস্ট ফার্ম নয়, ড. কামাল হোসেনেও এব্যাপারে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কিন্তু এখানেও ড. কামাল হোসেন ব্যর্থ হয়েছেন।

বিএনপির নেতারা বলছেন, ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল, বিএনপি যেন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমর্থন পায়। এজন্যেই বিএনপি ড. কামাল হোসেনকে ফ্রন্টের আহ্বায়ক করেছিলেন। কিন্তু ড. কামাল হোসেন এক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন। আর সে কারণেই বিএনপিতে ড. কামাল হোসেনের প্রয়োজনও ফুরিয়ে গেছে। বিএনপিও এখন বুঝেছে, আসলে তার ক্ষমতা কত।

এমএ