‘বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলার মানচিত্র আঁকা যেত না’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩ তম শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আলোচনা সভা র্যালী ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০) বিকেলে শহরের মেইন বাসটার্মিনালে “আমরা সবাই মুজিব সেনা” কালীগঞ্জ শাখার আয়োজনে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ডাঃ রাশেদ শমসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, কালীগঞ্জ পৌর সভার সাবেক মেয়র, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বিজু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজু বলেন, যে নেতার জন্ম না হলে এ বাংলার মানচিত্র আঁকা যেত না। যে নেতার আহবানে বাংলার জন্ম হয়েছিল সে নেতাকে আগস্ট মাসে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তিনি ইতিহাসের এ ঘৃন্য ও জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি আরো বলেন, সেই আগস্ট মাসে যেদিন জাতির জনকের মৃত্যুবার্ষিকী পালন হয় সেদিন দেশের বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া জন্মদিন পালন করেন। তারা মূলত বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী নিয়ে আনন্দ করে, অবহেলা করে। এরা ইতিহাসের চরম ঘৃনিত ব্যক্তি। তিনি খালেদা জিয়ার ৬টি জন্মদিন পালনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি খালেদা জিয়াসহ তার নেতাকর্মীদের এ ধরনের ঘৃনিত কাজ থেকে সরে আসার আহবান জানান।
বিজু আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারের হত্যা করেই হত্যাকারীরা ক্ষ্যান্ত হয়নি। এই আগস্ট মাসে তাদেরই উত্তরসূরিরা ২১ আগস্ট জাতির জনকের কন্যা সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করে। কিন্তু আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।
তিনি সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে দেশের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়। তিনি মেয়র থাকাকালীন সময়ে তার বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নের কথা আলোচনা সভায় তুলে ধরেন।
তিনি আরো বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে যদি আমরা ক্ষমতায় না রাখতে পারি, তাহলে এদেশকে ওরা পিছনের দিকে ছাড়া সামনের দিকে নিতে পারবে না। তিনি বিএনপি-জামায়াতের কর্মকা-ের কথা তুলে ধরে বলেন, ২০০৪ সালে তিনি পৌরসভার কমিশনার প্রার্থী হয়েছিলেন। সেই প্রার্থী হওয়ার কারনে তারা তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ৪ হাত-পা ভেঙ্গে দিয়েছিল। সে সময় সাথে থাকা তার পিতাও তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।
আলোচনা সভায় মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি খুনি না, খুন করা আমার পিতা-মাতা শেখায়নি। আমার বংশের কেউ কোনদিন খুন করেনি। অথচ আমাকে ষড়যন্ত্রকারী বানানো হয়েছে। আলোচনা সভায় তিনি নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করে বলেন, নেত্রী যাকে মনে করবেন তাকেই মনোনয়ন দিবেন। নৌকার প্রার্থী যেই হোক না কেন তার পক্ষে কাজ করার জন্য তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান তপু, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহম্মেদ লাভলু, স্বেচ্ছাসেবক লীগের জিহাদ হাসান, মুজাহিদুল ইসলাম রুমি, সজিব আহম্মেদ। সার্বিক অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সদস্য জিয়াউল হক অপু। আলোচনা সভা শেষে এক শোক র্যালী কালীগঞ্জ শহর প্রদক্ষিণ করে।