ঢাকা রবিবার, ১১ই এপ্রিল ২০২১, ২৯শে চৈত্র ১৪২৭


ঐক্যবদ্ধভাবে ধর্ম ব্যবসায়ীদের মূলোৎপাটনের আহ্বান


৭ এপ্রিল ২০২১ ২১:২৩

সংগৃহিত

হেফজতে ইসলামের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাধারণ মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর দেখতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকা পরিদর্শন করে।

সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ধর্ম ব্যবসায়ীরা মানবতার শত্রু, মানুষের শত্রু। তারা এই দেশকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে চায়। আমরা কোন ক্রমেই এই বাংলাদেশকে কোন অপশক্তির হাতে ছেড়ে দিতে পারি না। সাংবাদিক সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে এদের শেকড় মূলোৎপাটন করতে হবে। এদের উৎখাত করতে হবে। প্রয়োজনে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল করে এদের বিচার করতে হবে। আওয়ামী লীগ কখনই এদের ছাড় দেয়নি, ছাড় দেবে না।

বুধবার (০৭ এপ্রিল) আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল সোনারগাঁও এলাকা পরিদর্শন করে সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের বাড়িঘর দেখেন এবং হেফজতের তাণ্ডবের চিত্র তুলে ধরেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, পাকিস্তানের এজেন্ট, আইএসআই এর এজেন্ট ধর্ম ব্যবসায়ী যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা মেনে নেয়নি তারা বাংলাদেশকে মেনে নিতে পারেনি, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাস করে না তারাই নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।

তিনি বলেন, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য যখন তারই সুযোগ্য সন্তান জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন অগ্রগতিতে বাংলাদেশ এগিযে যাচ্ছে ঠিক সেই মুহূর্তে এমনকি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যখন সারাবিশ্বে বৃদ্ধি পেয়েছে, যখন বাংলাদেশে বাঙালি জাতির মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে, উন্নয়ন অগ্রগতি বৃদ্ধি পেয়েছে এই অবস্থায় বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য, বাংলাদেশকে তালেবানি স্টাইলের দেশ পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সুদান, ইথোপিয়ার মতো রাষ্ট্র বানাতে ধর্ম ব্যবসায়ীরা বিএনপি জামায়াত এবং শিবিরি যারা ধর্ম ব্যবসায়ী ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করবে এই অপশক্তি দেশে নেমে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। তারা দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করেছে। বিএনপি জামায়াত অপশক্তি সকলে মিলে বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতায় নেমেছে। অপকৌশলে তারা দেশ বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, তারা থানা লুট, রেললাইন উপড়ে ফেলা, জ্বালিয়ে দেওয়া ফাঁড়িতে হামলা করা, মানুষ হত্যা করেছে। তারা সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করেছে, শিশুদেরকে ব্যবহার করেছে এরা খুবই হিংস্র, অমানবিক এবং দানবীয় কায়দায় পাকিন্তানি হানাদার বাহিনীর চাইতেও জঘন্য ভয়ংকর। তারা নারী পুরুষ এবং অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে। তারা শুধু টার্গেট করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে তাই নয়, তারা সরকারি সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা করেছে।

তিনি আরও বলেন, মূলত বাংলাদেশ বিরোধী এই অপশক্তি অপকর্মের পরে তারা আরাম আয়েশে সময় কাটানোর জন্য রিসোর্টে এসে অবকাশকালীন সময়ে তামাশা করতে এসেছে। আর সেই তামাশা দেশের জনগণের কাছে ধরা পড়েছে। ধরা পরার পর তারা উন্মাদ হয়ে গেছে। এরা কারা? এরা কেমন ধর্ম ব্যবসায়ী? এরা অপকর্ম করার পরে এদের যারা নেতা তাদের রক্ষা করার জন্য তারা অপপ্রচার করছে। এরা ধর্মকে নিজেদের অপকর্ম ও তামাশা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যা তা বলতে পারেন।

নাছিম বলেন, এদের বিরুদ্ধে শুধু আওয়ামী লীগ নয়, সকল মিডিয়া, সচেতন নাগরিক বুদ্ধিজীবীসহ সমাজের সকলে সন্মিলিতভাবে এদের মোকাবিলা করতে হবে। এদের প্রতিহিত করতে হবে, এদের নিশ্চিহ্ন করতে হবে। এরা সুযোগ পেলে কাউকে ছাড়বে না, এরা বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চায়। এরা বাংলাদেশকে তালেবানি রাষ্ট্র বানাতে চায়।