ঢাকা সোমবার, ৯ই ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬শে অগ্রহায়ণ ১৪২৬


বিএনপিতে উপেক্ষিত তারেক রহমান!


১৮ নভেম্বর ২০১৯ ১১:০৪

আপডেট:
১৮ নভেম্বর ২০১৯ ১৭:২৬

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মস্তিষ্কপ্রসূত ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বিএনপির নেতারা। ২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে এ নীতি গ্রহণ করা হয় এবং দলীয় গঠনতন্ত্রের ১৫ অনুচ্ছেদে তা যুক্ত করা হয়। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নানা কারণে এ নীতি বাস্তবায়ন না হলেও পর্যায়ক্রমে ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি বাস্তবায়ন হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক সাংগঠনকি সম্পাদক বলেন, “দলের নেতৃত্ব বিকাশে তারেক রহমান ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তা কার্যত বাস্তবায়ন হয়নি। দলের এ নীতি গঠনতন্ত্রেও রয়েছে। এখন তা স্থগিত হয়েছে নাকি অকার্যকর, এর সুস্পষ্ট জবাব সিনিয়র নেতারা দিতে পারবেন।’

বিএনপিতে ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি গ্রহণের পর দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কৃষক দলের সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি নেন। অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হওয়ায় তিনিও যুবদলের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহিত নেন। এর বাইরে তেমন কাউকে এ নীতি অনুসরণ করতে দেখা যায়নি।

এ ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফখরুল বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার বক্তব্য হচ্ছে, নো কমেন্টস।’

সূত্র মতে, উল্লেখযোগ্য নেতা একাধিক পদে রয়েছেন। স্থানীয় নেতৃত্বে নিজের আধিপত্য ধরে রাখার জন্য বিশেষ করে নির্বাচনের সময় দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তারা একাধিক পদ আঁকড়ে রেখেছেন। দলের হাই কমান্ড বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান একাধিকবার এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিলেও পদ আঁকড়ে থাকা নেতারা বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি বাস্তবায়নে তারেক রহমানের কৌশল কাজে আসছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত তারেক রহমান দলের মধ্যে দুই ধরনের নেতৃত্ব তৈরি করতে চেয়েছিলেন। একটি ধারার নেতারা জাতীয় পর্যায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন, অপর ধারার নেতারা স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী হবেন। এ চিন্তা থেকেই মূলত ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি। কিন্তু দায়িত্বশীল নেতাদের অধিকাংশই যেহেতু এ বিষয়ে ভ্রুক্ষেপ করছেন না তাই কাউকে অসন্তুষ্ট না করে ধীরগতিতে এটি বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে।

একাধিক পদ আঁকড়ে থাকা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন- এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান, আবার পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি। শামসুজ্জামান দুদু কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান, একই সাথে তিনি জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের আহ্বায়ক। শাহাজাদা মিয়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং ফরিদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি। সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি। মশিউর রহমান চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং ঝিনাইদহ জেলার আহ্বায়ক। আবুল খায়ের ভূইয়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, একই সাথে লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি। তবে গত ৯ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটি তারেক রহমান ভেঙে দেন।

রুহুল কবির রিজভী দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, একই সাথে দফতর সম্পাদক। অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার যুগ্ম মহাসচিব এবং বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি। আসলাম চৌধুরী যুগ্ম মহাসচিব এবং চট্টগ্রাম উত্তরের সভাপতি। খায়রুল কবির খোকন যুগ্ম মহাসচিব এবং নরসিংদী জেলার সভাপতি। হাবিব-উন-নবী খান সোহেল যুগ্ম মহাসচিব এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি। ফজলুল হক মিলন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গাজীপুর জেলার সভাপতি। আসাদুল হাবিব দুলু সাংগঠনিক সম্পাদক এবং লালমনিরহাট জেলার সভাপতি। নজরুল ইসলাম মঞ্জু সাংগঠনিক সম্পাদক এবং খুলনা মহানগরের সভাপতি। আফরোজা আব্বাস বিএনপির সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং মহিলা দলের সভাপতি। সুলতানা আহমেদ সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক। কামরুজ্জামান রতন সমাজ সেবা সম্পাদক এবং মুন্সীগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক। জেরিন খান সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবং মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

দুই পদে থাকা ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি স্থগিত বা অকার্যকর হয়নি। এটা বাস্তবায়ন হবে।

খায়রুল কবীর খোকন বলেন, আন্দোলন, নির্বাচন, সরকারের প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড, মামলা-হামলার কারণে ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি বাস্তবায়ন হয়নি। পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হবে।

নতুনসময়/আইকে