স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর গাইবান্ধায় প্রথমবারের মতো দুই শহীদ কে শ্রদ্ধা জানালেন সামাজিক সংগঠনের নেতারা!

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর গাইবান্ধায় প্রথমবারের মতো মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও পুষ্প মাল্য অর্পণের মাধ্যমে দুই শহীদ কে শ্রদ্ধা জানালেন সামাজিক সংগঠন গাইবান্ধা জেলা শাখার নাগরিক মঞ্চ ও সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ। আজ বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে দশটার দিকে পুলিশ লাইনের দক্ষিনে বটতলার সামনে পরগাছায় জরাজীর্ণ হওয়া শহীদ স্মৃতি মন্দির উপেন্দ্র চন্দ্র রায় ও যোগেশচন্দ্র রায় সমাধি স্থলে এই দুই শহীদকে শ্রদ্ধা জানান তারা।
সামাজিক দুই সংগঠনের মাধ্যমে জানা যায়, একাত্তরের গণহত্যার শিকার মাতৃভান্ডারের শহীদ দুই ভ্রাতৃদ্বয় উপেন্দ্র চন্দ্র রায় ও যোগেশ চন্দ্র রায়কে তাদের এই সমাধি স্থলে( শহীদ স্মৃতি মন্দির উপেন্দ্র চন্দ্র রায় ও যোগেশচন্দ্র রায় সমাধি স্থল) পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মমভাবে হত্যা করেন।তারা গাইবান্ধার শীর্ষ দুই স্থানীয় ব্যবসায়ী ছিলেন।বর্তমানে গাইবান্ধার পুলিশ লাইনের দক্ষিনে বটতলার সামনে এ সমাধি স্থলের জায়গায় তাদের পরিবার স্মৃতি হিসেবে সমাধি করে রেখে গিয়েছিলেন।তবে পরিবারের লোকজন এখন কোথায় আছে গাইবান্ধাবাসি কেউ জানেন না।এই প্রথম সামাজিক সংগঠন গাইবান্ধা জেলা শাখার নাগরিক মঞ্চ ও সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ শ্রদ্ধা জানালেন বলে দাবি সামাজিক নেতাদের। সামাজিক নেতা ও তরুণ প্রজন্মদের দাবি দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে জন সম্মুখে আনোয়ার ব্যবস্থা করা হোক এই দুই শহীদের ইতিহাস।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অরুণ বলেন, আগে এরকম শহীদের কথা জানতাম না এই দুই সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে জানতে পারলাম। শ্রদ্ধা জানালাম তবে আমাদের অনেক তরুণ প্রজন্মই জানে না এখানে দুই শহীদের সমাধি রয়েছে। আমরা চাই দ্রুত এটি রিপ্রেজেন্টিং এর মাধ্যমে সকলের মাঝে জানানো হোক। তাহলেই জানতে পারবে আগামী তরুণ প্রজন্ম।
সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কজাহাঙ্গীর কবীর তনু বলেন, আজ থেকে ৫৪ বছর আগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে যে হত্যাযজ্ঞ হয়েছিল, সেই হত্যাযজ্ঞের শিকার গাইবান্ধার শীর্ষ দুই স্থানীয় ব্যবসায়ীর সমাধি স্থলে এসেছি ইতিপূর্বে কোন ধরনের শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানোর বিষয়টি আসেনি।একটি প্রায় হারিয়ে যাওয়া একটি সমাধিস্থল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শারদ এই সমাধি স্থলে আমরা এসেছি যাতে গাইবান্ধার মানুষ তথা সারাদেশের মানুষ যে এই সমাধি স্থলে ঘুমিয়ে আছে এ দুই সৈনিককে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। সেই সাথে স্বাধীনতা সংগ্রামে ত্রিশ লক্ষ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।এজন্যই যে আগামীতে স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা না হারিয়ে যায় এবং এই স্মরণের মাধ্যমে যেন এ জনপদের মুক্তিযুদ্ধের শারদ গুলো চিহ্নিত হয়ে থাকে আর মানুষ যেন জানতে পারে যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি তাদেরকে আমরা স্মরণ করছি।
নাগরিক মঞ্চ গাইবান্ধা জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু কালবেলাকে বলেন,আমার জানামতে ৫৪ বছরেও এই দুই শহীদ কে শ্রদ্ধা জানানো হয়নি আমরাই প্রথম শ্রদ্ধা জানালাম। আগামীতে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক লেখক এবং দেশের প্রশাসনের প্রতি আহ্বান যেন এই দুই শহীদ কে স্মরণ করার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবস্থা করা হয়।
এই সময় বক্তব্য রাখেন, নাগরিক মঞ্চ গাইবান্ধা জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, প্রবীর চক্রবর্তী সদস্য সচিব, সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক
জাহাঙ্গীর কবীর তনু, সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব হাসান মোর্শেদ দ্বীপন, এডভোকেট কুশলাশিষ চক্রবর্তী সাগর, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী প্রামানিক, এডভোকেট ফারুক কবীর, আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদ গাইবান্ধা সদর উপজেলা শাখার সদস্য সচিব কাজী আব্দুল খালেক, মনির হোসেন সুইট, গাইবান্ধা আইন কলেজের ছাত্রও আদিবাসী সাঁওতাল নেতা রাজাবিরাট মানঝি পরিষদ প্রধান ব্রিটিশ সরেন প্রমূখ।