ঢাকা মঙ্গলবার, ২০শে আগস্ট ২০১৯, ৬ই ভাদ্র ১৪২৬

প্রতিটি মানুষের হাতে বই তুলে দিতে হবে


২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ২২:৩৩

আপডেট:
২০ আগস্ট ২০১৯ ১৫:১৪

পারভিন রেজা

বিশিষ্ট কবি, গল্পকার ও নাট্যকার পারভিন রেজা। ছেলে বেলাতেই লেখালেখির হাতে খড়ি। প্রথমে বাবা ও পরে স্বামীর অনুপ্রেরণায় লেখালেখির কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। এ পর্যন্ত তার ৮টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এ বছরও বেরিয়েছে তার দুটি গ্রন্থ। সম্প্রতি তার লেখালেখির বিষয়ে কথা হয়। পারভিন রেজার সাথে কথোপকথন স্বাক্ষাতকার হিসেবে নতুন সময় অনলাইনে তুলে ধরা হলো

নতুন সময়: লেখা-লেখি নিয়ে আপনার চিন্তা-ভাবনার কথা বলেন?
পারভিন রেজা: আমি একজন নারী। আমি যখন খুব ছোট তখন আমার মা মারা যান। তখন নিজের কষ্ট লুকানোর জন্য আমি লেখা-লেখি শুরু করি। কিন্তু এখন আমি নিজেকে এগিয়ে নেয়ার জন্য লেখা-লেখি করি।

নতুন সময়: লেখা-লেখি নিয়ে আপনি কতদূর যেতে চান?
পারভিন রেজা: প্রতিটি মানুষ অনেক স্বপ্ন দেখেন অনেক বিশাল। আমিও স্বপ্ন দেখি। লেখা লেখি নিয়ে আমার স্বপ্ন হলো একজন লেখক হিসেবে যতদূর গেলে স্বপ্ন পূরণ হতে পারে আমি সেই পর্যন্ত যেতে চাই। স্বয়ংসম্পূর্ণ লেখক হয়ে ওঠা যায় ততদূর যেতে চাই।

নতুন সময়: নতুন লেখকদের নিয়ে আপনার চিন্তা কি?
পারভিন রেজা: নতুন লেখকরা ভালো প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। আমি বাঙালি, বাংলা ভাষাকে ভালোবাসি। প্রতিটি বাঙালি তার সুকুমার বৃত্তিতে লেখক হয়ে ওঠে। কারো প্রতিভা প্রকাশ পায়, কেউ সুযোগ পায় না। এই নতুন লেখকরা আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তারাই বাংলা ভাষাকে আরো দূরে নিয়ে যাবে। বাংলা একদিন পুরো বিশ্বে অবস্থান করে নেবে, আর নতুন লেখকরাই সেই কাজটা করবেন।

নতুন সময়: কবে, কখন আপনি লেখক হয়ে উঠলেন?
পারভিন রেজা: ক্লাস ফোরে পড়ার সময় আমার মা মারা যান। আমার ছোট ছোট ভাইবোন ছিলে। আমি বড় বোন হিসেবে তাদের দেখভাল করতাম। ঐ সময় আমার মন ভালো করার জন্য আব্বা বই পড়তে বলতেন। বিভিন্ন বই কিনে দিতেন। তখন ঐ লেখকদের লেখা পড়ে আমিও লেখা লেখি শুরু করি। ক্লাস ফাইভে পড়ার সময় আমার প্রথম কবিতা প্রকাশ পায়। খুলনাতে দৈনিক অর্ণিবাণ পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতার নাম একটু সঙ্গ দিতে।

নতুন সময়: আপনার লেখক হবার পেছনের অনুপ্রেরণা কে?
পারভিন রেজা: লেখক হবার পেছনে ছোট বেলা থেকে আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন আমার আব্বা। তবে বিয়ের পর আমার স্বামী শ ম রেজাউল করিম। তারই অনুপ্রেরণায় ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম কাব্যগ্রন্থ নীহারিকা।

নতুন সময়: আপনার লেখাতে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়?
পারভিন রেজা: যা আমার মনকে স্পর্শ করে তাই আমার লেখাতে প্রকাশ পায়। মনকে আন্দোলিত করে এমন সব কিছুই আমার ভালো লাগে। যেই লেখা আমার মনকে ভাবায় তাই প্রকাশ পায়। একটা বিষয় যা আমাকে আকৃষ্ট করে তাই আমি লিখি। নাটক, প্রবন্ধ, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, কবিতা সবই লেখার চেষ্টা করি।

নতুন সময়: এ পর্যন্ত আপনার কতটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে?
পারভিন রেজা: এ পর্যন্ত মোট আটটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ৯৯ সালে নীহারিকা(কাব্যগ্রন্থ), ২০১০ সালে এবং যুদ্ধ(নাটক), ২০১১ সালে ডানা ভাঙ্গা পাখি (কাব্যগ্রন্থ), ২০১৫ সালে প্রিয়জন (গল্পগ্রন্থ), ২০১৬ সালে প্রিয় শিমুল কাব্যগ্রন্থ, ২০১৮ সালে নোনাজল কাব্যগ্রন্থ
২০১৯ সালে ডাকাতিয়া জয় এবং পদ্মপাতা কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

নতুন সময়: এ বছরের আপনার লেখা সম্পর্কে বলুন
পারভিন রেজা: মনে যে বিষয়গুলো বিচরণ করে সে বিষয়গুলোই লেখাতে প্রকাশিত হয়েছে। যা পাঠকের মনে অবশ্যই জায়গা করে নিবে।

নতুন সময়: কোন লেখকের লেখা পছন্দ?
পারভিন রেজা: আমি ছোট বেলা থেকেই একটু বইপোকা। তাই সবার লেখকের লেখাই আমার ভালো লাগে। তবে রবীন্দ্রনাথ ও জসিমউদ্দিনের লেখাগুলোর প্রতি আমার দুর্বলতা একটু বেশি।

নতুন সময়: তরুন লেখকদের লেখার মান কতদূর?
পারভিন রেজা: তরুণ লেখকরা অনেক ভালো লিখছেন। চর্চা, সাধনা ও পড়াশুনা খুবই প্রয়োজন। চর্চা হলে তরুণ লেখকদের লেখা আরো ভালো হবে। চর্চা এবং পড়াশুনার প্রতি জোর দেয়া প্রয়োজন।

নতুন সময়: লেখাতে যুগোপযোগী বিষয়গুলো থাকছে কিনা?
পারভিন রেজা: তরুণ লেখকদের লেখাতে যুগোপযোগী বিষয়গুলো উঠে আসছে। তারা বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাচেছন। তাদের মাঝ থেকেই তৈরী হচেছ নতুন কবি।

নতুন সময়: পাঠকদের সম্পর্কে বলুন?
পারভিন রেজা: আমার পাঠকরা অনেক আন্তরিক। কারো কাছ থেকে রুষ্ঠ আচরণ পায়নি। আমার পাঠকের সংখ্যাও কম। পাঠকরা বইকে অনেক বেশি গ্রহণ করেন। পাঠক না থাকলে কি এত বই বের হতো। পাঠকের সুদৃষ্টি রয়েছে নতুন পুরাতন লেখকদের প্রতি, লেখার প্রতি। আর পাঠকরা আছেন বলে এখনও লেখকরা প্রাণের মেলায় মিলিত হন।

নতুন সময়: পাঠকদের আগ্রহ কেমন দেখছেন?
পারভিন রেজা: পাঠকরা এখনও অনেক বই পড়েন। তাদের আগ্রহ রয়েছে। তারা বই কেনেন এবং পড়েন।

নতুন সময়: প্রগতিশীল, নারী উন্নয়নে, নারী নেতৃত্বে বইয়ের গুরুত্ব কতটুকু?
পারভিন রেজা: আমরা জ্ঞান আহরন করি বইয়ের মাধ্যমে। বই মানুষকে উৎকর্ষিত করে। আর তাই নারীর অগ্রযাত্রায় বইয়ের বিকল্প নেই। নারী নেতৃত্ব গড়ে তুলতেও বইয়ের ভূমিকা অপরিসীম। বই আমাদের আলো দেখায়। আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে বই।

নতুন সময়: সমাজ পরিবর্তনে বইয়ের ভূমিকা?
পারভিন রেজা: সমাজ পরিবর্তনের বইয়ের ভূমিকা প্রয়োজন। আকাশ সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে। প্রতিটি মানুষের হাতে বই তুলে দিতে হবে। তাহলেই সমাজ থেকে সব ধরনের কলুষতা দুর হয়ে যাবে।

নতুনসময়/আইএ