ঢাকা শুক্রবার, ১৫ই নভেম্বর ২০১৯, ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৬

একটি বই এর কথা


৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২২:৫৭

আপডেট:
১৫ নভেম্বর ২০১৯ ০০:৪১

বই পাঠক তৈরি করবে, নাকি পাঠক বই তৈরি করবে। কে কার উপর নির্ভরশীল, বই এর জন্য পাঠক না পাঠকের জন্য বই, বিষয়টি আসলেই নাজুক এবং সংবেদনশীল। নতুন নতুন বই বাজারে আসছে, নতুন নতুন পাঠক গড়ে উঠছে, বই পড়–য়ার সংখ্যাও বাড়ছে (আসলেই কি বাড়ছে!) পাঠকের রুচী, স্বাদের উপর নির্ভর করে কি লেখক লিখেন নাকি লেখক তার নিজস্ব ভাবনা, দর্শন তার লেখায় তুলে ধরেন, পাঠকের মন চাইলে পড়তে পারে আবার নাও পড়তে পারে। না, বোধ করি লেখক পাঠকের সম্পর্ক তত রুঢ় নয়, যত না রুঢ় লেখার বিষয়বস্তু কিংবা উপস্থাপন রীতি বা ধরনের সাথে পাঠক মনের সেতু বন্ধন, লেখক পাঠকের এই সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ, সেতু নড়বড়ে হলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে যে কোন সময়। আসলে লেখকের শক্তিতো পাঠকই, পাঠকই লেখকের অনুপ্রেরণা।

এই ভূমিকাটুকুর অবতারণা এই জন্যই যে পাঠকের নিজস্ব একটা পছন্দ থাকে ভালো লাগা থাকে, কেউ পছন্দ করে গল্প কেউবা কবিতা আবার কেউবা উপন্যাস কেউবা নাটক, ইতিহাস কিংবা কেউবা বিজ্ঞান, যে বিষয়বস্তুটির উপর পাঠকের আগ্রহ থাকে সে সেই বিষয় সম্পর্কিত লেখাকেই প্রশ্রয় দেবে এটাই স্বাভাবিক, লেখকের দায়বদ্ধতা বোধ করি এখানেই; তার লেখা পাঠক কতটুকু নিতে পারছেন, পাঠকের জানার স্পৃহাও কিন্তু একজন লেখক জাগিয়ে তুলতে পারেন, এই স্পৃহা সৃষ্টিকারি একজন লেখক হলেন মল্লিকা ধর, যার লেখা পড়ে চোখ মুদে আপনি দৃশ্যকল্প তৈরি করতে পারবেন, বিষয়টি একটু খুলে বলা দরকার; পাঠক মন অবশ্যই যে কারো লেখা পড়েই দৃশ্যকল্প তৈরি করতে পারেন এটা আমার বিশ্বাস, তবে চ্যালেঞ্জিং হল বিজ্ঞানকে উপজীব্য করে শুধু মাত্র বিজ্ঞান বিষয়ের উপরই লেখা দৃশ্যকল্প তৈরি করতে ব্যাঘাত ঘটাতেও পারে যদি না বিষয়বস্তুটির সাথে পাঠক একাত্ম হতে পারে। মল্লিকা ধরের লেখায় বিজ্ঞান আছে, তিনি বিজ্ঞানের লেখক, তার লেখায় অযথা প্রতিশব্দ, সমার্থক শব্দের কচকচানি নেই, অকারণে সাহিত্য রস দেয়ার প্রবণতাও নেই ।

বিজ্ঞান বিষয়ের উপর বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞানের উপর আমার বিশেষ দূর্বলতা রয়েছে তেমনি অনেকেরই এক আধটু রয়েছে নিশ্চই বিশেষ করে অনুসন্ধ্যিৎসু মন যাদের, বিশ্বব্রক্ষ্মান্ড গ্রহ নক্ষত্র এ গ্যালাক্সি সে গ্যালাক্সি, কত কিছুরইতো জানার আছে। মূল প্রসঙ্গে চলে আসি, লাইব্রেরীতে এমনিতেই বিভিন্ন বই এর উপর চোখ রাখতে রাখতে একটা বই এ চোখ আটকে যায়, বইটির নাম “কণাজগৎ ও মহাজগৎ”, আগেই বলেছি বিজ্ঞানের উপর দূর্বলতা, পাতা উল্টাতে থাকলাম শুধু মাত্র বিজ্ঞান সম্পর্কিত বিষয়কে এত চমৎকার ভাবে গল্প বলার ছলে উপস্থাপন করা যায় তা এই বইটিতে চোখ বুলালেই বোঝা যাবে। বিজ্ঞানের ছাত্র না হলেও বুঝতে অসুবিধে হবে না আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞানের ইংরেজীতে লেখা বই পড়েছি, অল্প অল্প বুঝেছি বেশী বেশী মুখস্ত করেছি। আফসোস হচ্ছিল তখন কেন এই ধরনের বই কেউ লেখেনি ; ক্লাসিকাল মেকানিক্স কোয়ান্টাম মেকানিক্স রিলেটিভিটি সিঙ্গুলারিটি ইত্যাদি ইত্যাদি । যারা পদার্থ বিজ্ঞান পড়ছেন “কণাজগৎ ও মহাজগৎ” বইটি তাদের সহায়কই হবে আশা করি, মহাবিশ্ব বিষয়ে জটিল সমীকরণ এড়িয়ে সাবলীল ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। লেখক মল্লিকা ধর একে বলছেন আনন্দযাত্রা, এই আনন্দযাত্রার সঙ্গী করতে চান কিশোর কিশোরী তরুণ তরুণীসহ, উৎসুক পাঠকদের। মল্লিকাধর পশ্চিমবঙ্গের, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপনায় নিযুক্ত আছেন, “কণাজগৎ ও মহাজগৎ” প্রকাশ করেছে প্রকৃতি পরিচয়, লেখকের কাছ হতে এমনই সাবলীল উপস্থাপনের আরো আশা করছি। দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হোক লেখক পাঠকের সেতু।

লেখক- মোকাদ্দেম মোরশেদ; লেখক ও নির্মাতা