ঢাকা রবিবার, ৬ই এপ্রিল ২০২৫, ২৪শে চৈত্র ১৪৩১


জিজ্ঞাসাবাদের সময় খাশোগির মৃত্যু হয়!


১৬ অক্টোবর ২০১৮ ২২:৪৬

সৌদির খ্যাতনামা সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিখোঁজের পর থেকেই নানা গুঞ্জন চলছে। তুরস্কের অভিযোগ সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হলেও এবার স্বীকারোক্তিমূলক প্রতিবেদন বলা হচ্ছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় মৃত্যু হয়েছে খাশোগির। একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তুরস্ক দাবি করে আসছিল কনস্যুলেটের ভেতরে প্রখ্যাত সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরবের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে রিয়াদের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরুর এ সিদ্ধান্ত এলো।

একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ২টি সূত্র বলছে, খাশোগিকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া খারাপ দিকে গেছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার মৃত্যু হয়েছে। তুরস্কের সৌদি কনস্যুলেট থেকে তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে এভাবেই ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে সৌদি।

ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক ও সৌদি নাগরিক খাশোগি গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে নিখোঁজ হন। এ মাসের শেষের দিকে রিয়াদে বিনিয়োগবিষয়ক একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। খাশোগির ঘটনার প্রেক্ষাপটে বহু ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তাঁরা সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না।

খাশোগির অন্তর্ধানের দিন সৌদি আরব থেকে ব্যক্তিগত বিমানে করে একটি দল ইস্তাম্বুলে আসে। এই দলটিই খাশোগির হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় বলে মনে করা হয়। খাশোগির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে ব্যাপক অবনতি ঘটে। খাশোগি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সৌদি আরবের ইয়েমেনে অভিযানের তীব্র সমালোচক। রিয়াদের দাবি, কনস্যুলেটে প্রবেশের পরপরই ভবন ছেড়ে যান খাশোগি। তবে তুরস্কের পুলিশের দাবি, খাশোগি ওই ভবন ছেড়ে বের হননি।

সৌদি রাজতন্ত্রের ঘোর বিরোধিতাকারী খাশোগি ২০১৭ সাল থেকে আমেরিকায় স্বেচ্ছা-নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন। সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান ব্যাপক ধরপাকড় অভিযান শুরু করার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

অপরদিকে সৌদির দাবি ছিল, খাশোগি তার কাজ শেষ করে কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে গেছেন। কিন্তু ওই ভবনের বাইরের সিসিটিভি ফুটেজে খাশোগিকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা গেলেও তাকে বাইরে বের হতে দেখা যায়নি।

একটি সূত্র বলছে, ওই প্রতিবেদনটি এভাবে শেষ করা হতে পারে যে, তদন্ত প্রক্রিয়া কোন ধরনের সাফাই বা স্বচ্ছতা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। যারা এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের ওপর এর দায় আনা হবে। অন্য একটি সূত্র বলছে, স্বীকারোক্তিমূলক ওই প্রতিবেদনটি এখনও প্রস্তুতাধীন রয়েছে। এক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বণ করা হচ্ছে কারণ অনেক কিছুই পরিবর্তন হতে পারে।

খাশোগিকে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করতে দেখা গিয়েছিল। গত ২ অক্টোবরের পর তাকে তার জনসম্মুখে দেখা যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রথমে বলেছিল যে, খাশোগি ওই কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে গেছেন। কিন্তু এ বিষয়ে তারা কোন প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

খাশোগির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল হাতিস চেঙ্গিজ নামে একজন তুর্কী নারীর। তাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। হাতিসকে নিয়েই ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেট ভবনে গিয়েছিলেন খাশোগি। হাতিস বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন এবং খাশোগি কনস্যুলেটের ভেতরে যান। কিন্তু দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অপেক্ষার পরেও ফিরে আসেননি খাশোগি।

খাশোগির নিখোঁজ হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ সাড়া পড়েছে। ব্রিটেন, জার্মানি ও ফ্রান্স বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে এত প্রতিক্রিয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রিয়াদ। গত রবিবার তারা জানায়, এ নিয়ে কোনো দেশ যদি তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তারাও কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।

এসএমএন