যৌনদাসী থেকে নোবেলজয়ী নাদিয়া

যুদ্ধে যৌন সহিংসতা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার বন্ধে লড়াই করে এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন আইএস জঙ্গিদের হাতে ধর্ষণের শিকার ইয়াজিদি নারী নাদিয়া। তার সঙ্গে যৌথ ভাবে এ পুরস্কার পেয়েছেন কঙ্গোর চিকিৎসক ডেনিস মুকওয়েজি।
পাকিস্তানের মালালা ইউসুফ জাইয়ের পর সবচেয়ে কমবয়সী হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ সম্মানজনক পুরস্কারটি জিতলেন ইরাকের এ তরুণী। তার পুরো নাম নাদিয়া মুরাদ। বয়স ২৫। জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হাতে তিন মাস জিম্মি ছিলেন নাদিয়া। এ সময় আইএস জঙ্গিরা তাকে ব্যবহার করেছে যৌনদাসী হিসেবে। ভয়ংকর সেই সময়ে চোখের সামনে তার ছয় ভাই ও মাকে খুন করেছে জঙ্গিরা।
আইএসের যৌন আস্তানা থেকে পালিয়ে ২০১৬ সালে সেন্ট্রাল লন্ডনের ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস হাউসে দেয়া এক বক্তৃতায় আইএস জঙ্গিদের যৌন তাণ্ডব ও নৃশংসতার কথা তুলে ধরেছিলেন নাদিয়া। সেই ভয়ানক অভিজ্ঞতার কথা জানাতে তিনি হাতে তুলে নিয়েছিলেন কলম। ‘দ্য লাস্ট গার্ল’ নামে লেখা একটি বইয়ে সেই কাহিনি তুলে ধরেন।
বর্তমানে জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করছেন নাদিয়া। আইএস জঙ্গিদের হাতে বন্দি ইয়াজিদি নারী এবং যারা জঙ্গিদের হাত থেকে পালিয়ে এসেছে তাদের নিয়ে কাজ করছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের কথা। তখন আইএস জঙ্গিদের দখলে চলে গেছে পুরো উত্তর ইরাক।
ইরাকের এ অংশে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ থাকতেন। জঙ্গিরা এসে গ্রামের পর গ্রাম উজাড় করে দেয়। খুন, ধর্ষণ, লুটপাটের পাশাপাশি ইয়াজিদি নারী, তরুণী, কিশোরীদের তুলে নিয়ে যেতে শুরু করে। চলে তাদের যৌনদাসী বানানোর কাজ।
নাদিয়া সেই সময় দাবি করেন, একজন তার পেটে সিগারেটের আগুনে ছ্যাঁকা দেয়। সেই ব্যক্তিই তাকে কিনে নেয়। অনেক ইয়াজিদি নারী সম্ভ্রম বাঁচাতে আত্মহত্যা করেন। মুরাদ বলেন, ‘নরক থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ধরা পড়ে গিয়েছিলাম। ধরা পড়তেই চলে গণধর্ষণ। ভেঙে পড়িনি। আমার মতোই হাজারো নারী জঙ্গিদের কব্জায় ছিল, এটাই আমাকে সাহস জুগিয়েছিল। নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে বলতে থাকলাম একদিন মুক্ত হবোই।’
‘সেই সুযোগও এসে গেল একদিন। এক জঙ্গি দরজা না আটকে বেরিয়ে যায়। আইএসের সেই জঙ্গি চলে যেতেই দৌড় শুরু করেন তিনি। আর পেছনে ফিরে তাকাননি। ধরা পড়লেই মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও সাহসে ভর করে বেরিয়ে পড়েছিলাম।’
অন্ধকার রাস্তা ধরে দীর্ঘ পথ হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে এক বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় চান। সেই পরিবারই তাকে মসুল থেকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন। পরে ২০১৫ সালে জার্মানির শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেন তিনি।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (৫ অক্টোবর) নরওয়ের অসলোতে নোবেল অ্যাকাডেমি আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিতে এবছর নোবেল জয়ী হিসেবে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়।
এসএ