ঢাকা সোমবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ই আশ্বিন ১৪২৬


তিন লাখ মানুষের সেবায় ৩ চিকিৎসক


৩ আগস্ট ২০১৯ ১৯:৩৮

আপডেট:
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০৫:১১

ফাইল ফটো

চিকিৎসা, চিকিৎসক, যন্ত্রপাতি ও জনবল সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত যশোরের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সার্জারি যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা, ওয়ার্ডে পানি ও বিদ্যুতের সমস্যা, দুর্গন্ধযুক্ত বাথরুম, ওষুধসংকট, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীদের কাছ থেকে ভিজিট নেওয়া, সরকারি ওষুধ চোরাই পথে বিক্রিসহ এ হাসপাতালের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ উঠেছে।

স্বাধীনতার পূর্বে ১৯৬২ খ্রীষ্টাব্দে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নির্মিত হয়। প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে নির্মিত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর বেনাপোলসহ ঝিকরগাছা উপজেলার (একাংশ) সাড়ে তিন লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবায় নির্ভরতার প্রতীক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়নি সেভাবে।

অনেকদন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে এক্স-রে ও ইসিজি মেশিন। আর প্যাথলজি বিভাগে চলছে অনিয়ম-দুর্নীতি। কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়া, নিম্নমানের খাবার পরিবেশন ও অপরিছন্ন পরিবেশে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা অসহায় দরিদ্র রোগীরা। যথেষ্ট জনবলের অভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। হাসপাতালে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার,অ্যানেসথেসিয়া, গাইনি, সার্জারি, চক্ষু, শিশুসহ কোনো কনসালট্যান্ট নেই। ৩২ জন চিকিৎসকের মধ্যে রয়েছে মাত্র চারজন। এর মধ্যে একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন
শ্রেণির ১১৯ জন কর্মচারীর মধ্যে রয়েছেন ৫৪ জন। স্বল্প জনবল দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক ও নার্সরা।

উপজেলার এই হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৪৫০-৫০০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকছে। রোগীদের কথা বিবেচনা করে ২০১৫ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও গত তিন বছরেও পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

চিকিৎসা সেবা গ্রহন করতে আসা রোগীদের ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে ঠিকমতো ওষুধ দেওয়া হয় না। এক্স-রে ও ইসিজি মেশিন বিকল হয়ে পড়ে আছে। প্যাথলজি বিভাগে চলছে অনিয়ম-দুর্নীতি। ফলে রোগীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। ভর্তি রোগীদের দেওয়া হচ্ছে নিম্নমানের খাবার। দূর-দূরান্ত থেকে সেবার জন্য এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ডাক্তার খুঁজে পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে ছুটে যেতে হয় তাদের যশোর জেলা সদরে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,, প্যাথলজিক্যাল বিভাগের টেকনিশিয়ান হুমায়ূন কবির পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে থাকেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিজস্ব প্যাথলজিক্যাল বিভাগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে আসা ৮০ শতাংশ রোগীকে কমিশন বাণিজ্যের জন্য বাইরের পছন্দের বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ছাড়া হাসপাতালের ওষুধ বাইরে পাচার করে দিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রোগীদের সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

হাসপাতালের টেকনিশিয়ান হুমায়ুন কবীর অভিযোগ অস্বীকার করে জানান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই সব রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। হাসপাতালের কোনো ওষুধ বাইরে বিক্রি হয় না বা কেউ এ কাজ করে না বলে দাবি করে।

শার্শা উপজেলায় একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. অশোক কুমার সাহা বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও লোকবল বাড়ানো হয়নি। প্রতিদিন আন্তর্বিভাগ, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন মাত্র একজন ডাক্তার। স্বল্প জনবল দিয়ে উপজেলার সাড়ে তিন লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে শূন্য পদগুলো পূরণ হলে সঠিকভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।