ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ২১শে মার্চ ২০১৯, ৭ই চৈত্র ১৪২৫


নতুন পরিকল্পনায় মিম


৪ জানুয়ারী ২০১৯ ০০:০৯

আপডেট:
২১ মার্চ ২০১৯ ০৩:২২

একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনা নিয়ে বছর শুরুর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম।


এ বছরে দর্শকের মনের দরজায় কড়া নাড়তে রসদ নিয়ে প্রস্তুত এ তারকা। নতুন বছরে সেই অভিযাত্রার কথা উঠে এসেছে এ আয়োজনে।

সময় পেলেই ঘুরতে বেরিয়ে যান দেশ থেকে দেশান্তরে। বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে দেশের বিভিন্ন জায়গায় থাকতে হয়েছে ছোটবেলা থেকেই। বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষ্টি-কালচারের সঙ্গে তখন থেকেই পরিচয় তার।

রাজধানী জন্মস্থান হলেও কুমিল্লা এবং ভোলায় দীর্ঘদিন বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতে হয়েছে তাকে। পড়ালেখাও করেছেন এসব জায়গায়। তবে বিনোদন ভুবনের বাসিন্দা হওয়ার পর শুটিংয়ের প্রয়োজনেই সারা দেশ চষে বেড়াচ্ছেন বিদ্যা সিনহা মিম। কখনও সিনেমা, কখনও নাটক।

বিদেশেও যাচ্ছেন শুটিংয়ের প্রয়োজনে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে নিজের জন্য সময় বের করেন ঠিকই। ২০১৮ সালের শেষ সময়টা কাটিয়েছেন থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে। কলকাতার একটি ছবির শুটিংয়ের জন্য সেখানে থাকতে হয়েছে তাকে। বছরের শেষ দিনটিও পার করেছেন সেখানে। এ দিনটিকে সেলিব্রেট করতে বাবা-মাকেও উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।

এরপর ফিরেছেন দেশে। ফিরেই আবার ব্যস্ত শুটিং নিয়ে। ৬ জানুয়ারি থেকে শুরু করবেন প্রথমবারের মতো ওয়েব সিরিজে অভিনয়। পাশাপাশি নতুন বছরে নতুন কিছু ছবির কাজ নিয়েও পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে মিম বলেন, ‘আসলে আমি তো পেশাদার অভিনয়শিল্পী। অভিনয় ছাড়া অন্য কোনো অপশন নিয়ে ভাবি না। এ বছরটা কাজের মাধ্যমে বর্ণিল করে তোলার জন্য পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। বেশ কিছু নতুন ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছি। সেগুলো নিয়ে ভাবছি। এর মধ্যে কয়েকটি সিনেমায় আমার চরিত্র এবং সেসব ছবির গল্পও আমার ভালো লেগেছে।

সহশিল্পী হবেন যারা, তাদের বিষয়েও আমার চিন্তা ইতিবাচক। আশা করছি, শিগগিরই নতুন ছবিতে অভিনয়ের একাধিক খবর জানাতে পারব। কারণ আমার যারা শুভাকাঙ্ক্ষী, তারা যেন দমে না যান সে চিন্তাটিও মাথায় আছে। দর্শক আমাকে আজকের এ অবস্থানে এনেছেন। তাদের কথা চিন্তা করেই আমি কাজ করি।’

মিম এরই মধ্যে তিনটি ছবির কাজ শেষ করেছেন। এগুলো হল- গোলাম সোহরার দুদুল পরিচালিত ‘সাপলুডু’, তারেক শিকদার পরিচালিত ‘দাগ হৃদয়ে’ এবং কলকাতার অঙ্কিত আদিত্যর ‘থাই কারি’। ‘সাপলুডু’ ছবিতে তিনি একজন বাঙালি মেয়ে কিন্তু থাকেন পার্বত্য এলাকায়। সেখানেই তার বেড়ে ওঠা। থ্রিলারধর্মী এ ছবির কেন্দ্রীয় একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন মিম।

এতে তার সহশিল্পী আরিফিন শুভ। শিগগিরই ছবিটি মুক্তি পাবে বলে জানিয়েছেন মিম। অন্যদিকে তারেক শিকদার পরিচালিত ‘দাগ হদয়ে’ নামের ছবিটিতে মিম একজন চিত্রশিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এতে তার নিবাস সিলেটে।

কিন্তু নাম গোপন করে ছদ্মনামে তাকে ছবি আঁকতে দেখা যায়। গল্পের শেষ প্রান্তে এসে তার আসল পরিচয় উন্মোচিত হয়। এতে তার সহশিল্পী বাপ্পী চৌধুরী। ত্রিভুজ প্রেমের গল্পের এ ছবিটি আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। অঙ্কিত আদিত্য পরিচালিত কলকাতার ‘থাই কারি’ ছবিতে তিনি দ্বিতীয়বার সোহমের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন।

এর আগে তারা একসঙ্গে ‘ব্ল্যাক’ ছবিতে অভিনয় করেন। এসব ছবিতে অভিনয় প্রসঙ্গে মিম বলেন, ‘তিনটি ছবির গল্পই আমার পছন্দের। এ ছাড়া ছবিগুলোয় আমার হিরোরাও দর্শকপ্রিয়। সবাই মিলে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই কাজ করেছি।’

ছবিগুলোয় নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দর্শক আমাকে তিনটি নতুন চরিত্রে এ ছবিগুলোয় দেখতে পাবেন। অভিনয় করতে গিয়ে সেসব চরিত্রে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলাম। আমার কাছে চরিত্রগুলো অনেকটা সন্তানের মতো। দীর্ঘ সময় এগুলো লালন করতে হয়েছে।

একজন অভিনয়শিল্পীকে চরিত্র জীবন্ত করে তোলার জন্য চরিত্র নিয়ে ভাবতে হয়, কল্পনা করতে হয়। সেই কাজগুলো আমি সব সময়ই করে আসছি। এর প্রতিদান কিন্তু সব সময়ই দিয়ে থাকেন। দর্শকের সেই ভালোবাসাগুলোই আমার প্রাপ্তির খাতায় যোগ হয়।’

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যয়নরত মিম লাক্স সুপারস্টার হওয়ার সময়েই সিনেমায় অভিষিক্ত হন। হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ‘আমার আছে জল’ ছবিতে অভিনয় করেন। প্রথম ছবি দিয়েই দর্শকের কাছে পরিচিতি পান।

সে ছবিতে নতুন অভিনেত্রী হিসেবে প্রশংসিত হয়েছিলেন তিনি। এরপর চলচ্চিত্র এবং নাটক-দুই মাধ্যমেই সমানতালে অভিনয় করতে থাকেন। বড় পর্দায় কাজের ব্যস্ততা বাড়লে নাটক থেকে সরে আসেন মিম।

বিশেষ দিবস কিংবা ঈদ আয়োজনে ছোট পর্দায় তাকে ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠানে শুধু দেখা যায়। ২০০৮ সালে চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শুরু করে ১০ বছর ধরে এ অঙ্গনে সফলতার সঙ্গেই পার করেছেন মিম।

সামনের সময়গুলোয়ও শুধু চলচ্চিত্রেই কাজ করতে চান তিনি। তবে সহসাই বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন না এ অভিনেত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখনই বিয়ে করার চিন্তা নেই। পরিবারের সম্মতিতেই কাজটি করতে চাই।

বিয়ের আগের এ সময়টায় আরও ভালো কিছু ছবি দর্শকদের উপহার দেয়ার পরিকল্পনা করছি।’ নতুন বছরে বিদ্যা সিনহা মিম যেন তার স্বপ্নগুলো বাস্তবে রূপ দিতে পারেন- সেই প্রত্যাশা মিম ভক্তদের।