ঢাকা শুক্রবার, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ই আশ্বিন ১৪২৬


আল্লাহর দোহাই, সৌদিতে লোক পাঠাবেন না


১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১৮:০৭

আপডেট:
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১৮:০৯

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মাতানিয়া গ্রামের বাসিন্দা কবির আহমেদ। ২১ বছর ধরে সৌদি আরব বাস করছেন তিনি। বর্তমানে মদিনা শহরে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করছেন।

তিনি একুশ বছর ধরে এমন দূরাবস্থা দেখেননি কখনও। এখন তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আল্লাহর দোহাই লাগে, ভিসা পেলেও বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে লোক পাঠাবেন না। সরকারকে নিষেধ করেন। ভিসা নিয়ে আসতে পারলেও এখানে করার মত তেমন কাজ নাই। কাজ পেলেও বেতন খুবই সামান্য। টাকা ছাড়া কোম্পানি আকামা দেয় না। আকামা পেলেও নির্দিষ্ট ওই কোম্পানির বাইরে কাউকে কাজে পেলে তাকে অবৈধ বলে দেশে পাঠিয়ে দেয়।

কবির আহমেদ বলেন, ‘সৌদি সরকার আকামা, ভ্যাট ও ইন্সুরেন্সসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগের তুলনায় ফি বৃদ্ধি করায় পুরনো-নতুন সব বাংলাদেশির জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পুরনোদের বেতন কমছে, নতুনরা কাজই পাচ্ছেন না। ফলে সৌদি আরবে বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখ লাখ মানুষ চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তায় দিনাতিপাত করছেন।’

দেশটির এমন ভিন্ন চিত্রের বিষয়ে কবির আহমেদ জানান, গত দুই দশক সৌদি আরবে রাজারহালে দিন কাটিয়েছেন তিনি। চাকরি-ব্যবসা সব ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা ছিল, কিন্তু এখন চিত্র ভিন্ন।

নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২৬০০ রিয়েল বেতন পাই। আগে বাসাভাড়া ২০০, পরিবহন ১০০ ও আকামা বাবদ ২০০ রিয়েলসহ কোম্পানি ৫০০ রিয়েল কেটে নিলেও ২১০০ রিয়েল বেতন পেতাম। এখন কোম্পানি এক হাজার রিয়েল কেটে নিয়ে মাত্র ১৬০০ রিয়েল বেতন দিচ্ছে।

তিনি জানান, পরিবারের পীড়াপীড়িতে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে ২৩ বছর বয়সী ছেলেকে মদিনায় নিয়ে আসেন। যে কোম্পানির মাধ্যমে এসেছেন তাদের ওখানে চাকরি না থাকায় গত সাত মাস ধরে বেকার। তিনি সহজেই অন্য কোথাও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন, তবে ধরা পড়লে দেশে ফেরত পাঠাবে এই ভয়ে ছেলেকে কাজে দেননি। পুরনো আকামার চার মাস বাকি রয়েছে। আবার নতুন করে পাঁচ লাখ টাকায় আকামা করতে হবে। এমতাবস্থায় চার মাস পর নিজেই ছেলেকে দেশে পাঠিয়ে দেবেন বলে মনস্থির করেছেন।

দেশের মানুষ যেন সৌদি ভিসা পেলেই আসার জন্য পাগল না হয়, জেনেশুনে ও বুঝে যেন না আসে- সে ব্যাপারে সরকারকে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।

এমএ