ঢাকা সোমবার, ১৭ই জুন ২০১৯, ৪ঠা আষাঢ় ১৪২৬


তিন দফা দাবিতে আবারো আন্দোলনে নামছে বশেমুরকৃবি'র শিক্ষার্থীরা


২৫ মে ২০১৯ ২১:৪১

আপডেট:
১৭ জুন ২০১৯ ১৬:৪৬

আগামীকাল থেকে আবারো অতিরিক্ত জরিমানা ও বিভিন্ন বাড়তি ফি আদায়ের প্রতিবাদে তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরকৃবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রছাত্রী দাবী আদায় না হওয়া অব্ধি ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী রা।

গত ২০ মে ক্লাসের উপস্থিতির ওপর জরিমানা আদায়ের নোটিশ জারি হলে পরদিনই আন্দোলনে নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল রবিবার সকাল ৯টা থেকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলনে করবে বলে জানিয়েছে আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ , হঠাৎ করেই বশেমুরকৃবি প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছে যদি কোন শিক্ষার্থী ৮০% এর নিচে ক্লাসে উপস্থিত থাকে তাহলে তাকে জরিমানা দিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসতে হবে। শ্রেণীকক্ষে ৭০-৭৯% উপস্থিতি হলে ২০০০ টাকা এবং ৬০-৬৯% উপস্থিতি হলে ৫০০০ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। যা একজন শিক্ষার্থীর জন্য অনেক বেশি।


জানা গেছে, ৮০% ক্লাসে উপস্থিতি না হলে জরিমানা করার বিষয়টি যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি বশেমুরকৃবির শিক্ষার্থীদের। তাই তারা শিক্ষকদের সঙ্গে এ ব্যাপারে সুরাহা করতে গেলে শিক্ষকরা কোন কথা বলেনি। আর সে কারণেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছে।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করছেন, আন্দোলন শুরু করার পর থেকে নানাভাবে আন্দোলন বানচাল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে প্রশাসন। মেয়েদের আবাসিক হল থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। তালাবন্ধ করে রাখা হচ্ছে মেয়েদেরকে। তাদের উদ্ধার করতে গেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে প্রশাসন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেশের ১৩তম এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি স্বায়ত্তশাসনের নামে শিক্ষার্থীদের প্রতি স্বৈরাচারী আচরণ করে যাচ্ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হয়েও এখন পর্যন্ত কোর্স ক্রেডিট সিস্টেমে বছরে তিনটি টার্ম শেষ করে। প্রতি টার্ম শুরুর ১৭ দিনের মাথায় ১ম মিড, ১ম মিড শেষ হবার ১৫ দিনের মাথায় ২য় মিড, আবার ২য় মিড শেষ হবার ২৭ দিনের মাথায় ফাইনাল পরীক্ষায় বসতে হয় শিক্ষার্থীদের। এই মিডের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের ক্লাস, ল্যাব ক্লাস, কুইজ পরীক্ষা যথারীতি চলতে থাকে। পাশাপাশি ৮০% ক্লাসে উপস্থিত না থাকলে চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসতে দেয়া হয় না।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ৪ বছরে ২৪০ ক্রেডিট পড়ার কথা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চিন্তাই করতে পারেন না। সেখানে স্নাতক পর্যায়ে চারটি অনুষদের মধ্যে কৃষি ও কৃষি অর্থনীতি অনুষদে চার বছরে ২৪০, ফিশারিজ অনুষদ ২৩০ এবং ভেটেরিনারি অনুষদ পাঁচ বছরে ২৮৩ ক্রেডিট পড়ানো হয়। তাদের অভিযোগ, বছরে তিনটি টার্মের ( প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির মত) শুরুতে প্রতি স্টুডেন্টের কাছে ফি বাবদ প্রায় ১২ হাজার টাকা নেয় প্রশাসন।

তারা আরো অভিযোগ করে বলেন যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হঠকারিতা, স্বৈরাচারীতা, দুর্নীতি ইত্যাদির জন্য আমাদের জীবন অতিষ্ঠ। এর বিরুদ্ধে কেও কথা বললেই প্রশাসন বিভিন্ন ভাবে ছাত্রছাত্রীদের হুমকি প্রদান করে ও বিভিন্ন অজুহাতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

১৮৭ একরের এই ক্যাম্পাস ছাত্রছাত্রীদের কাছে স্বাধীন বাংলার মাঝে এক পরাধীন যায়গার মত মনে হয় বলে তারা অভিযোগ করে। তাই তারা এর প্রতিবাদে তাদের দাবী নিয়ে সোচ্চার হয়েছে বলে জানান তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবি গুলো হলো-

১. ৮০% এর ক্লাসের উপস্থিতি ধরে যে জরিমানা ধরা হয়েছে সেটা বাতিল করতে হবে এবং পরীক্ষা দেওয়ার সর্বনিম্ন উপস্থিতি হার ৬০% করতে হবে।

২. অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে মিল রেখে এনরোলমেন্ট ফি ১০০০-১২০০ টাকার মধ্যে রাখতে হবে।

৩. ২টি মিড পরীক্ষার একটি বাদ দিতে হবে এবং পরীক্ষার পর কোন ক্লাস-ল্যাব দেয়া যাবে না।

এই প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রছাত্রী দাবী আদায় না হওয়া অব্ধি ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ।

নতুনসময়/হারুন/আইকে