গৌরব-ঐতিহ্যের ১০৩ পেরিয়ে ১০৪, আজো নানা সমস্যায় জর্জরিত ‘ঢাবি’
-2024-07-01-14-30-43.jpg)
* কাটেনি আবাসন সংকট
* গবেষণায় নেই পর্যাপ্ত বরাদ্দ
* ১১ বছর পর উচ্চতর গবেষণা প্রতিষ্ঠান
* পরিকল্পনা পালটাবে ঢাবি
ব্রিটিশ শাসনামলে পূর্ববঙ্গের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে উচ্চশিক্ষা প্রসারের পথপ্রদর্শক, একটি জাতিরাষ্ট্র গঠনের বুদ্ধিবৃত্তিক সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত পূর্বের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৩ পেরিয়ে ১০৪- এ পদার্পণ করলেও আবাসন সংকট, গবেষণায় অপ্রতুল বরাদ্দ, হলগুলোতে মানহীন খাবারের মতো নানা অভিযোগ হরহামেশাই ওঠে। অথচ দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, আমলা কিংবা ব্যবসায়। সর্বত্র আজও নেতৃত্বের স্থান ধরে রেখেছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া দেশের ক্রান্তিলগ্নে ত্রাতা রূপে সর্বদাই আবির্ভূত হয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের। নানা সমস্যায় জর্জরিতের ফলে প্রত্যাশা যেন এখনো পূরণ হয়নি।
১৯২১ সালের জুলাই মাসে ৩টি অনুষদের অধীনে (বিজ্ঞান, কলা ও আইন) ১২টি বিভাগ ও ৮৪৭ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। প্রতিষ্ঠাকালীন আবাসিক হল ছিল ঢাকা হল (শহীদুল্লাহ হল), জগন্নাথ হল ও মুসলিম হল (সলিমুল্লাহ মুসলিম হল)। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিধি বেড়ে বর্তমানে ১৩টি অনুষদের অধীনে ৮৪টি বিভাগ রয়েছে। বেড়েছে হলের সংখ্যা। বর্তমানে ছেলেদের জন্য ১৪টি ও মেয়েদের জন্য ৫টি হল রয়েছে। দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ব্যাপ্তি বাড়লেও কাটেনি আবাসন সংকট। দলীয় রাজনীতির মধ্যে আবদ্ধ থেকে গণরুমে দিনের পর দিন পার করতে হয়।
১৯টি আবাসিক হল ও ৩টি হোস্টেলে বর্তমানে আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে ১৫ হাজার ২৫৯ জনের। অথচ এখন নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭ হাজার ৬৪; অর্থাৎ ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা রয়েছে, বাকি ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর সেই সুবিধার বাহিরে। জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাকাডেমিক উন্নয়ন পরিকল্পনা (এডিবি) ও ভৌত অবকাঠামোগত মাস্টার প্ল্যান (পিএমপি) নামে দুটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। যা ২০৪৫ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে যাবে অনন্য উচ্চতায়। যার ফলে পাল্টে যাবে এর অ্যাকাডেমিক ও ভৌতিক চিত্র।
ভৌত অবকাঠামোগত পরিকল্পনা (পিএমপি) সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে আধুনিক গবেষণাগারসহ অ্যাকাডেমিক ফ্লোর স্পেস ২৭ লাখ ৫৩ হাজার ৭০০ বর্গফুট থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫৯ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ বর্গফুট হবে। লাইব্রেরির সুবিধা ১ হাজার ৫০০ জন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার জন হবে এবং নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা ৩৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭০ শতাংশে উন্নীত হবে। মাস্টার প্ল্যানে প্রদর্শিত ভবনসমূহ বহুতলবিশিষ্ট হওয়ায় ভবনসমূহের ফুটপ্রিন্ট ২৭ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ২২ শতাংশে নেমে আসবে।
ফলে সবুজ চত্বর ও উন্মুক্ত স্থান বৃদ্ধি পাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিশন ও মিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তাবিত এ দুটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অ্যাকাডেমিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই বিদ্যাপীঠ উচ্চতর গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে, যা কার্নেগির শ্রেণিবিভাজন অনুযায়ী আর টু বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২০৪৫ সালে এটি রূপান্তরিত হবে গবেষণা-প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে, যা কার্নেগির বিভাজনে আর ওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়।
এ প্রসঙ্গে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দুই পরিকল্পনার ফেইজ-১ সংক্রান্ত অবকাঠামো উন্নয়নের একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে সক্রিয় বিবেচনাধীন। সেখানে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল, অ্যাকাডেমিক ভবন ও আধুনিক লাইব্রেরি নির্মাণ এবং উন্নতমানের গবেষণাগার স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’
গেল মাসে প্রকাশিত যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা সাময়িকী কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডসের (কিউএস) এবারের র্যাংকিংয়ে এগিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। যেখানে দেখা যায়, ২২.৫০ সামগ্রিক নম্বর নিয়ে ঢাবি এবারের অবস্থান ৫৫৪তম। গতবারে যা ছিল ৬৯১-৭০০তম। এদিকে বিগত ১০ অর্থবছরে তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়েছে গবেষণার বরাদ্দের আকার। যদিও এই বাজেট পর্যাপ্ত না বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দীন। যেখানে শিক্ষক প্রতি গড়ে গবেষণা বাবদ ১ লাখ টাকা বরাদ্দ পাবেন।
তিনি বলেন, যে বাজেট গবেষণার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেটি পর্যাপ্ত নয়। গড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ১ লাখ টাকা করে পাবেন।