ঢাকা শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর ২০২০, ১৩ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭


দালালের খপ্পরে শিক্ষার্থীর স্বপ্নভঙ্গ


২১ নভেম্বর ২০২০ ১৫:৩৭

আপডেট:
২৭ নভেম্বর ২০২০ ০৫:৫২

প্রতিকি

অনেক স্বপ্ন নিয়ে চীনে গেলেন। চায়না ভাষাও শিখলেন। কিন্তু কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারলেন না। ফিরতে হলো দেশে। ৫ লাখ টাকাও গেলো জলে। অভাবে চীন ফেরত হাশেম এখন কাজ করেন ক্ষেতে। দালালের খপ্পরে পড়ে এমন অবস্থা হয়েছে তার।

দেশে ফেরার পর তারা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে টালবাহানা শুরু করেন। এ পর্যায়ে এখন টাকা চাইতে গেলে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। এনিয়ে থানায় অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাননি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হাতিয়া গ্রামের মো. ময়েন উদ্দিনের ছেলে মো. হাশেম আলী। জীবন শুরতেই এমন ধাক্কায় চারদিকে তিনি এখন অন্ধকার দেখেন।

হাশেম জানান, তাদের একই গ্রামের মো. মোজাম্মেল হকের ছেলে মো. ফাহিম হাসান চপল চীনে থাকতেন। তিনি এখন বাড়িতে আছেন। তার ভাই মো. ফরিদ হাসান চয়ন (২৮) তিনি বাড়িতে থাকতেন। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকার সুবাদে ফাহিম চীনে থাকাকালীন মোবাইলে হাসেমের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাকে জানায়- চীনে ভালো ভার্সিটিতে ফুল ফ্রি স্কলারশীপ স্টাইপেনসহ বি.এস.সি তে ভর্তি করিয়ে দেবেন।

হাসেম বলেন, আমি চীনে যেতে রাজি হলে ফাহিম আমার নিকট ভার্সিটির ভর্তি খরচ বাবদ ৫ লাখ টাকা দাবি করেন এবং বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার প্রলোভন দেখায়। পরে ফাহিমের কথামত আমি এবং আমার বাবা ২০১৮ সালের ১০ জুন বিকেলে ফাহিমের বড় ভাইকে আমাদের বাড়িতে ডেকে ৫ লাখ টাকা দেই।

টাকা দেওয়ার পর ফাহিম আমাকে চীনে নেয়। যাওয়ার পর চায়না ভাষা শেখার জন্য ফাহিম আমাকে ৬ মাসের কোর্সে ভর্তি করে দেয় । এসময় সে বলে, ভাষা শেখা শেষ হওয়া মাত্রই যেকোন একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেবো। ভাষা শেখার কোর্স শেষ হওয়ার ফাহিম আর আমাকে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করায় না। আজ না কাল করে করে টালবাহানা করতে থাকে।

এরমধ্যে আমার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমি দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হই। দেশে ফিরে তাদের কাছে টাকা ফেরত চাইলে দেই-দিচ্ছি বলে বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকে। কয়েকদিন আগে টাকা চাইলে, টাকা দিতে অস্বীকার করে আমাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়। এ বিষয়ে আমি থানায় অভিযোগও দিয়েছি। কিন্তু কোনো সুফল পাইনি।

টাকা নেওয়ার বিষয় অস্বীকার করে ফাহিম বলেন- আমরা তার কাছ থেকে কোনো টাকা নেই নি। সে আমার ভাইয়ের বন্ধু। সেই কারণে আমি তাকে সহযোগিতা করেছি। ৫ লাখ টাকা নেওয়ার যে অভিযোগ করছে এটা সম্পুন্ন মিথ্যা। সে চায়না গেছে-যেখানে যেখানে টাকা খরচ করা লেগেছে, সে নিজে হাতেই করেছে। আমরা এমন অনেককেই সহযোগিতা করে থাকি। আমাদের পরিবারের অনেকেই চায়না থাকে। আমাদের ব্যাপারে এলাকার সকলে জানেন। তাকে আমি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করি। চায়না ভাষার কারণে সে তখন ভর্তি না হয়ে চলে না। কিছু দিন আগে আমি আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করে কাগজ পত্র তার বাড়িতে পাঠিয়েছি।

এ প্রসঙ্গে হাসেম বলেন, কাগগপত্র বাড়িতে পাঠিয়েছে এটা সঠিক। কিন্তু টাকার বিষয় যে অস্বীকার করেছে এটা সঠিক না। কারণ আমরা তাদের ৫ লাখ টাকা দিয়েছি।