ঢাকা শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৫, ২১শে চৈত্র ১৪৩১


শতাধিক পণ্য ও সেবায় শুল্ক–কর বাড়ল


১০ জানুয়ারী ২০২৫ ০৯:৪৫

প্রতিকি

২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাঝপথে এসে সরকার শতাধিক পণ্য ও সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়েছে। এর ফলে এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে আরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। মোবাইল ফোন সেবা, পোশাক, রেস্তোরাঁর খাবার, এমনকি বিভিন্ন ভোক্তাপণ্য যেমন সিগারেট, মিষ্টি, ওষুধ ও এলপি গ্যাসের দামও বেড়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাতে সরকার দুটি অধ্যাদেশ জারি করেছে, যা সংশ্লিষ্ট শুল্ক ও কর বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করে। এই দুটি অধ্যাদেশ হলো ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’ এবং ‘এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’। এসব পরিবর্তন এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে কার্যকর হয়ে গেছে।

এনবিআরের প্রস্তাবের ভিত্তিতে গত ১ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে শুল্ক ও কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এই সিদ্ধান্ত অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ না থাকার কারণে সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে শুল্ক-কর বৃদ্ধির এই পদক্ষেপ নিয়েছে। জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত মেনে শতাধিক পণ্যের ওপর শুল্ক-কর বৃদ্ধি করা হয়েছে।

যেসব খাতে খরচ বাড়বে

এ পর্যন্ত সিম বা রিম কার্ডে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ছিল, যা এখন বাড়িয়ে ২৩ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে মোবাইলে কথা বলা এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ বৃদ্ধি পাবে। ব্র্যান্ডের দোকান ও বিপণিবিতানের তৈরি পোশাকের ওপর ভ্যাট ছিল ৭.৫ শতাংশ, যা বেড়ে ১৫ শতাংশ হয়েছে। সব ধরনের রেস্তোরাঁর ওপর ভ্যাটও ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।

শুল্ক-কর বৃদ্ধির তালিকায় আরও কিছু পণ্য যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে টিস্যু, সিগারেট, বাদাম, আম, কমলালেবু, আঙুর, আপেল, নাশপাতি, ফলের রস, তাজা ফল, রং, ডিটারজেন্ট, মদের বিল, পটেটো ফ্ল্যাকস, চশমার প্লাস্টিক ও মেটাল ফ্রেম, রিডিং গ্লাস, সানগ্লাস, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও তাতে ব্যবহৃত তেল, বিদ্যুতের খুঁটি, সিআর কয়েল, জিআই তারসহ আরো অনেক পণ্য। এছাড়া, ভ্রমণ করও বাড়ানো হয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ধরনের কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। এর ফলে নিম্ন আয় ও প্রান্তিক আয়ের মানুষদের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও আরও বেশি চাপে পড়বেন। নতুন শুল্ক-কর বৃদ্ধির কারণে এ শ্রেণির মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হবে।