ঢাকা শনিবার, ৫ই এপ্রিল ২০২৫, ২২শে চৈত্র ১৪৩১


কমেছে ডিমের ডজন, বাড়তি মুরগির দাম


১৮ অক্টোবর ২০২৪ ১৫:০০

ফাইল ফটো

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়তে থাকা ডিমের দাম আমজনতার ক্রম ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার পর সরকারের বেশ কিছু পদক্ষেপের কারণে তা কমতে শুরু করেছে। যার সুফলও দেখা যাচ্ছে বাজারে। এরই মধ্যে কমতে শুরু করেছে ডিমের দাম। তবে নতুন করে অস্বাভাবিক হতে শুরু করেছে মুরগির দাম। সোনালি মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা পর্যন্ত।

 

অন্যদিকে বাজারে কিছুটা কমেছে কাঁচামরিচের ঝাঁজ। পাশাপাশি সামান্য কমলেও সবজির দাম এখনো সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি দিতে পারেনি।

 

শুক্রবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

 

বাজারে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বেশ আলোচনায় ছিল ডিম। বিশেষ করে চলতি সপ্তাহে প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৮০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। তবে এ দাম এখন বড়বাজারে ১৫০ টাকায় নেমেছে। যদিও পাড়া-মহল্লায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে কেউ কেউ এখনো ডিম বিক্রি করছেন ১৬০ টাকা ডজন। সরকার এরমধ্যে ডিমের শুল্কছাড়, আমদানির অনুমতি এবং বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি করতে ব্যবসায়ীদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। যার সুফল মিলছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

 

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার নিয়মিত অভিযান এবং খামারি ও কর্পোরেটদের ডিম সরবরাহ বাড়ানোর কারণে দাম কমে আসছে। তাছাড়া শুল্কছাড়ের সঙ্গে সরকার নতুন করে আরো সাড়ে চার কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দিচ্ছে। এটিও দাম কমার পেছনে কারণ হিসেবে কাজ করছে।

 

এদিকে একই সময় বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১০ টাকা বাড়তে দেখা গেছে। এ মুরগির দাম আগের সপ্তাহেও বেড়েছিল। যা এখন বিক্রি হচ্ছে ২০৫ থেকে ২১৫ টাকা পর্যন্ত। যা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ১৮০ টাকার মধ্যে।

 

অন্যদিকে অস্বাভাবিকভাবে সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৫০ টাকা বেড়ে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ছিল ২৭০-২৮০ টাকা।

 

কারওয়ান বাজারে মুরগির বিক্রেতা জামিল বলেন, হুট করেই সরবরাহ কমিয়ে মুরগির দাম বাড়াচ্ছে পাইকাররা। ওরা (পাইকারি বিক্রেতারা) জানিয়েছে বন্যা ও বৃষ্টির কারণে মুরগির সরবরাহ কম।

 

এদিকে উত্তাপ ছড়ানো সবজির বাজারও রয়েছে কমতির দিকে। যদিও এখনকার দাম সাধারণ ক্রেতাদের জন্য মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়। বাজারে শুধু কমদামের সবজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। এরপর রয়েছে পটল, যার দাম কেজি ৮০ টাকা। এছাড়া ঢেড়স ৮০-৯০, বরবটি ১০০-১২০, গোল বেগুন ১৩০-১৪০, লম্বা বেগুন ১০০-১২০, টমেটো ১৮০-১৯০, ধুন্দল, ঝিঙ্গে ও চিচিঙ্গা ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

সপ্তাহজুড়ে তেজ ছড়ানো কাঁচামরিচের বাজারও নামতে শুরু করেছে। কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ৩০০ টাকা দরে। যদিও এখনো কিছু কিছু খুচরা দোকানি একপোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচামরিচের দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা হাঁকাচ্ছেন।

 

এদিকে চলতি সপ্তাহে তেল ও চিনিতেও শুল্কছাড় দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী জানান, শুল্ক কমানোর খবরে পাইকাররা তেল ও চিনির দরে কিছুটা ছাড় দিচ্ছে। তবে ভোক্তাদের শুল্কছাড়ের সুফল পেতে কিছু দিন সময় লাগবে। বরং পাইকারিতে চিনির বস্তায় (৫০ কেজি) ১০০-২০০ টাকার মতো কমেছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে এসব পণ্যের খুচরা দাম আরো কমে আসবে।