ঢাকা রবিবার, ১১ই এপ্রিল ২০২১, ২৯শে চৈত্র ১৪২৭


অর্থনীতিতে বিস্ময়কর উন্নতি


২৬ মার্চ ২০২১ ০৬:২৬

প্রতিকি

যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে গত পাঁচ দশকে অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা এই পরিবর্তন ও অগ্রগতিকে বলছেন বিস্ময়কর। বাংলাদেশে ব্যাংক সূত্রে স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন খাতের পরিবর্তনের একটি তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, খাদ্য, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, মাথাপিছু আয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, আমদানি-রপ্তানি, রেমিট্যান্স, রিজার্ভ, বাজেটের আকার- সব সূচকেই দূরবর্তী এগিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা। কমেছে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও শিশুমৃত্যুর হার।

অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, দেশে ৭৫ পরবর্তী অর্থনীতির যত পরিবর্তন ঘটেছে তার ৭৩ শতাংশ হয়েছে গত ১২ বছরে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলসহ মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে।


বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে পাওয়া তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়-

জিডিপি প্রবৃদ্ধি: স্বাধীনতার পরবর্তী (১৯৭৩-৮০ সময়ে) বাংলাদেশে গড়ে ৩.৮ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল। বর্তমান দশকে (অর্থবছর ২০১০-১১ থেকে ২০১৯-২০ পর্যন্ত) বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি হার দাঁড়ায় ৬.৭ শতাংশ। সম্প্রতি কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সারা বিশ্বের প্রবৃদ্ধির গড় হার যেখানে -৩.৫ শতাংশ সেখানে ২০২০ সালে ৫.২৪ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। কোভিড-১৯ পূর্ববর্তী অর্থবছর ২০১৮-১৯ এ আমাদের প্রবৃদ্ধি ছিল ৮.১৫ শতাংশ। গত পাঁচ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে গড়ে ৭.১ শতাংশ হারে। মহামারির স্থবিরতা কাটিয়ে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৭.৪ শতাংশ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মাথাপিছু আয়: স্বাধীনতার আগে মাথাপিছু আয় ছিল ১০০ ডলারের মতো, ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে তা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৪ ডলার। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কাক্সিক্ষত ফলাফল দারিদ্র্য নিরসনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পেরেছে। দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চার দশক আগে দারিদ্র্যের হার ছিল ৭০ শতাংশেরও বেশি। খানা আয়-ব্যয় জরিপ ২০১৬ অনুসারে দারিদ্র্যের হার ২৪.৩ শতাংশে নেমে এসেছে। সর্বশেষ প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০১৯ সালে দারিদ্র্যের হার ২০.৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বিগত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরাট পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। কৃষিনির্ভরতা কমেছে, বেড়েছে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প ও সেবা খাতের গুরুত্ব। স্বাধীনতার পর যেখানে জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান ছিল মাত্র ৯ ভাগ, তা এখন বেড়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রায় ৩৫ ভাগ হয়েছে, যার মধ্যে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের অবদান ২৪.২ শতাংশ। অন্যদিকে স্বাধীনতার পর যেখানে জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান ছিল ৫০ শতাংশের বেশি, তা এখন হ্রাস পেয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৩ শতাংশ হয়েছে।

আমদানি-রপ্তানি: ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৮৩ মিলিয়ন ডলার। আমদানি ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১.৪ বিলিয়ন ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩.৭ বিলিয়ন ডলার, যা ১৯৭৪-৭৫ এর তুলনায় ৮৮ গুণ বেশি। অন্যদিকে আমদানি ব্যয়ের পরিমাণ ২০১৯-২০ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৫৪.৮ বিলিয়ন ডলারে, ১৯৭৪-৭৫ সালের তুলনায় ৩৯ গুণ বেশি। এখানে উল্লেখ্য যে, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরে পূর্ববর্তী কয়েক বছরের তুলনায় গড় রপ্তানি ও আমদানির পরিমাণ কম ছিল। অর্থবছর ২০১৮-১৯ এ রপ্তানি ও আমদানি ছিল যথাক্রমে ৪০.৫ ও ৫৯.৯ বিলিয়ন ডলার।

পোশাক খাত: স্বাধীনতা পরবর্তী পাঁচ দশক পর বাংলাদেশে রপ্তানি খাতে বিশাল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ১৯৭২ সালে রপ্তানি আয়ের ৭০ ভাগ ছিল পাটের দখলে। কৃত্রিম তন্তু আবিষ্কারের ফলে সত্তরের দশকেই পাটের চাহিদা কমে যায়। আশির দশকে ধীরে বিকাশ লাভ করে শ্রমঘন পোশাক খাত। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিকারক দেশ। বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে একমাত্র চীনের পরেই এর অবস্থান। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত হচ্ছে এই পোশাকশিল্প। মোট রপ্তানি আয়ের ৮৩ শতাংশই আসছে এ খাত থেকে (অর্থবছর ২০১৯-২০)।

ঔষধ শিল্প: গত এক দশকে ঔষধ শিল্প থেকে রপ্তানি আয় বেড়েছে এগারো গুণ। বর্তমানে বাংলাদেশের ৪৭টি ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশ্বের প্রায় ১৪৭টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ।

বিদেশে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স: বর্তমানে বিশ্বের ১৬৮টি দেশে কাজ করছেন বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ কর্মী। প্রতি বছর প্রায় ৭ লাখ কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হচ্ছিলো, তবে গত ২০২০ সালে কেভিড-১৯ জনিত কারণে মাত্র ২.২ লাখ কর্মীর কর্মসংস্থান হয়। রেমিট্যান্স প্রবাহের দিক দিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে অষ্টম এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। কেভিড-১৯ সময়ে বাংলাদেশসহ মাত্র ৩টি দেশ রেমিট্যান্স প্রবাহে ধনাত্মক ধারায় ছিল। এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ আমাদের মোট জিডিপি’র প্রায় ৫.৫ শতাংশ, রপ্তানি আয়ের অর্ধেক (৫৪%) এবং প্রাপ্ত বৈদেশিক সাহায্যের প্রায় তিনগুণ (নিট বৈদেশিক সাহায্য ৬ বিলিয়ন)। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ। আলোচ্য সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৮.২ বিলিয়ন ডলার, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ১০.৯ শতাংশ বেশি। সর্বশেষ জুলাই-ফেব্রুয়ারি ২০২০-২১ সময়ে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬.৭ বিলিয়ন ডলার যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৩.৫ শতাংশ বেশি।

রিজার্ভ: ২০২০-২১ অর্থবছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সালে রিজার্ভ নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে ৪৪.০২ বিলিয়নে দাঁড়ায়। সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৩ মার্চে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৪৩.৩৭ বিলিয়ন ডলার। দেশে এ ধরনের বিপুল পরিমাণ রিজার্ভ সৃষ্টি হওয়াটা যে কোনো বিচারেই বিরাট অর্জন। কোনো দেশের তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকলেই তাকে সন্তোষজনক রিজার্ভ হিসেবে গণ্য করা হয়। আমাদের বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে দেশের প্রায় নয় মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

বাজেটের আকার: ১৯৭৩-৭৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের রাজস্ব বাজেট ছিল ২৮০ কোটি টাকা। রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেট মিলে ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা প্রায় পাঁচ লক্ষ এক হাজার কোটি টাকা হয়েছে।

ব্যাংক খাত: ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত মাত্র ছয়টি ব্যাংক ছিল। বর্তমানে সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশী মিলে মোট ব্যাংক রয়েছে ৬১টি। এসব ব্যাংকের ১০ হাজার ৭৫২টি শাখার সমন্বয়ে বাংলাদেশের বর্তমান ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। শহর ও গ্রামের শাখা প্রায় সমান। ডিসেম্বর ২০২০ শেষে সবগুলো ব্যাংক শাখায় সাড়ে ১২.২৩ কোটির বেশি আমানতকারী ও প্রায় ১.০২ কোটি ঋণ গ্রহীতা রয়েছে। আর মোট আমানত ও ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১৪ হাজার ১৪৫ ও ১১ হাজার ৫৭ বিলিয়ন টাকা।

খাদ্য উৎপাদন: বাংলাদেশ এখন খাদ্য উৎপাদনে অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। একাত্তরের তুলনায় খাদ্য উৎপাদন প্রায় পাঁচগুণ (৪.৭৫) বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার কোটি ২১ লাখ টন (অর্থবছর ২০১৮-১৯)। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ খুব সামান্যই চাল আমদানি করেছে। ফেব্রুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত বেসরকারি খাতে মাত্র ০.০৪ লক্ষ মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়েছে। জুলাই-ফেব্রুয়ারি ২০২০-২১ সময়ে বাংলাদেশ ধান/চাল রপ্তানি করে ৮৩.৭ লক্ষ মার্কিন ডলার আয় করে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বর্তমানে (সর্বশেষ [প্রক্কলিত] ২০১৯ সালে) ১.৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, সর্বশেষ শুমারি ২০১৭ অনুযায়ী এ হার ১.৩৭ শতাংশ। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশি নারীরা গড়ে ৬.৩টি সন্তান জন্ম দিতেন, ২০১৯ সালে তা দাঁড়িয়েছে ২.০৪ টিতে।

শিশুমৃত্যুর হার: ১৯৭১ সালে শিশুমৃত্যুর হার ছিল ১৪.৬ শতাংশ। ২০১৯ সালে তা ২.৮ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশে মা-মৃত্যুর হার ২০১৯ সালে ০.১৭ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০১৯ সালে প্রতি হাজারে শিশু মৃত্যুহার ২১ এ নেমে এসেছে। বাংলাদেশে মা-মৃত্যুর হার ২০১৯ সালে প্রতি হাজারে ১.৬৫। মানুষের গড় আয়ু পাঁচ দশকের ব্যবধানে ৫০ থেকে বেড়ে ৭২.৬ বছরে দাঁড়িয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা: প্রাথমিক শিক্ষায় নারী-পুরুষের আনুপাতিক অসাম্য দূরীকরণে বাংলাদেশের সাফল্য বিশাল। প্রাথমিক স্তরে ১৯৯০ এর দশকে ছেলেমেয়ের অনুপাত যেখানে ছিল ৫৫ ঃ ৪৫, নারী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব প্রদান ও মাধ্যমিক স্তরে বিনামূল্যে নারী শিক্ষা প্রবর্তনের ফলে বর্তমানে এ অনুপাত দাঁড়িয়েছে ৪৮.৯ ঃ ৫১.১-এ। বর্তমানে ছাত্রের চেয়ে ছাত্রী ভর্তি হার বেশী। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৪৯ হাজার ৫৩৯ টি, যা ২০১৯ এ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৫৮টি। জাতিসংঘের ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে মানব উন্নয়ন সূচকে ১৮৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৫।

পাঁচ দশকে দেশের আমুল পরিবর্তন ঘটেছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, সার্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশে বিস্ময়কর পরিবর্তন ঘটেছে। যুদ্ধপরবর্তী দেশের অর্থনীতির আকার ছিলো ৬.৩ বিলিয়ন। বর্তমানে সেটি দাঁড়িয়েছে ৩৩০ বিলিয়নের বেশি। ১৯৭৫-এর পর থেকে আজ পর্যন্ত যে পরিমাণ অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি ঘটেছে তার ৭৩ শতাংশ হয়েছে গত ১২ বছরে।

তিনি বলেন, অস্বাভাবিক এ পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় অবদান বঙ্গবন্ধুর। কারণ তিনি শক্তিশালী একটি ভিত্তি দাঁড় করে রেখে গেছেন। তিনি জনসংখ্যা কমানোর জন্য নীতি তৈরি করেছিলেন। কৃষি উন্নয়ন, প্রথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ, মানবিক উন্নয়ন, এসব এর ভিত্তি তিনিই তৈরি করেছেন। আমাদের রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৮৫ গুণ। রপ্তানি আয় ১৩৩ গুণ বেড়েছে।

তিনি আরো জানান, গত ১২ বছরে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৩ গুণ, রিজার্ভ ৭ গুণ। চাল উৎপাদন বেড়েছে ৪ গুণ। মাছ সবজি ৬ গুণ। গ্রামীণ অর্থনীতিতে এসেছে বিরাট পরিবর্তন। কৃষির বাহিরেও গ্রামের মানুষের আয় বেড়েছে ডিজিটাল ব্যবসায়।

পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলের কাজ সম্পূর্ণ হলে দেশের চেহারা বদলে যাবে উল্লেখ করে সাবেক এ গভর্নর বলেন, অর্থনীতির এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে এবং আরও সামনে এগিয়ে যেতে দেশের মেগা প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের নীতি সহজ করতে হবে। সহজে কীভাবে একজন উদ্যোক্তা ব্যবসা শুরু করতে পারেন, সেদিকে নজর দিতে হবে। এবং ঋণের ক্ষেত্রে সহজীকরণ করতে হবে। তবেই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।