ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ৩রা ডিসেম্বর ২০২০, ২০শে অগ্রহায়ণ ১৪২৭


‘পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে সারাদেশে গ্রীষ্মকালিন পেঁয়াজের চাষ ছড়ি


২ নভেম্বর ২০২০ ০১:৪২

আপডেট:
৩ ডিসেম্বর ২০২০ ০৭:২৫

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে সারাদেশে গ্রীষ্মকালিন পেঁয়াজের চাষ ছড়িয়ে দিতে হবে। রবিবার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অনলাইনে তিনি এ কথা বলেন।

মেহেরপুরের সদর উপজেলার কালিগাংনি গ্রামে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) আয়েজিত ‘গ্রীষ্মকালিন পেঁয়াজের’ মাঠ দিবস উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং কৃষি সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম।

তিনি বলেন, পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে এই উচ্চফলনশীল বারি-৫ জাতের পেঁয়াজের চাষ সারা দেশে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে হবে। কারণ, পেঁয়াজে আমরা অন্যের উপর নির্ভরশীল হতে চাই না, পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চাই। দেশে পেঁয়াজ নিয়ে সংকট চলছে। পেঁয়াজ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার সবচেয়ে সম্ভাবনা তৈরি করেছে গ্রীষ্মকালিন পেঁয়াজ। পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে আমাদের গ্রীষ্মকালিন পেঁয়াজ উৎপাদন করতে হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ অত্যন্ত পচনশীল পণ্য। মজুত করে রাখা যায় না। সহজে মজুত করে রাখতে পারলে পেঁয়াজ নিয়ে সংকট হতো না। পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য কোল্ড স্টোরেজের সুবিধা বাড়াতে হবে অথবা গ্রীষ্মকালিন পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে হবে। বিশেষ কোল্ড স্টোরেজে মজুত করতে পারলে পেঁয়াজ নিয়ে সংকট কমতো, তবে সেক্ষেত্রে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যেতে পারে। সে তুলনায় তুলনামূলকভাবে গ্রীষ্মকালিন পেঁয়াজের চাষ সহজতর ও অধিক সম্ভাবনাময়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনকে দ্রুত সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, এই উচ্চফলনশীল বারি-৫ জাতের পেঁয়াজের চাষ সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে গ্রীষ্মকালিন পেঁয়াজ চাষীদের বীজ, উপকরণ, প্রযুক্তিসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে।
স্বল্পসুদে পেঁয়াজ চাষীদের কৃষিঋণ নিশ্চিত করতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে কমিটি করে দেয়া হবে উল্লেখ করে ড. রাজ্জাক আরও বলেন, পেঁয়াজ, রসুনসহ মসলাজাতীয় ফসলের চাষে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে কৃষকেদেরকে কৃষি ঋণ দেয়া হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলো এ কৃষি ঋণ প্রকৃত কৃষক পায় না। স্থানীয় প্রভাবশালীরা এসব কৃষি ঋণ নিয়ে কৃষিবাদে অন্যান্য কাজে লাগায়। এ কৃষি ঋণ যাতে প্রকৃত কৃষক পায়; পেঁয়াজ, রসুনসহ মসলাজাতীয় ফসলের চাষে কাজে লাগে তা কঠোরভাবে এসব কমিটির মাধ্যমে মনিটর করা হবে।

অনুষ্ঠানে বারির মহাপরিচালক ড. মো. নাজিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান বক্তব্য রাখেন।