আইসিবির বন্ডে বিনিয়োগে ব্যাংকগুলোকে ছাড়

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) দুই হাজার কোটি টাকার সাত বছরমেয়াদী বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় পেয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।
আইসিবির এ বন্ডে বিনিয়োগকে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করা হবে না বলে অর্থ বিভাগের কাছে গত বুধবার পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এর ফলে ব্যাংকগুলো যেমন সহজে আইসিবির বন্ড কিনতে পারবে তেমনি আইসিবির আর্থিক সক্ষমতাও বাড়বে। তখন আইসিবি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে পারবে। বিশেষ করে মন্দার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে আইসিবি পুঁজিবাজারকে সহায়তা করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আবু ফরাহ মোঃ নাছের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, “আইসিবির ইস্যুতব্য ৭ বৎসর মেয়াদী বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগ্রহী ব্যাংক-কোম্পানিকে ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ২৬ক(১)(খ) ধারার পরিপালন হতে অব্যাহতি প্রদানের লক্ষ্যে ব্যাংক-কোম্পানি আইনের ১২১ ধারা অনুযায়ী সরকারের সদয় সম্মতি কামনা করা হলো।”
চলতি বছর ১৭ জুলাই আইসিবিকে দুই হাজার কোটি টাকার নন-কনভার্টেবল ফিক্সড রেট সাবঅর্ডিনেটেড এই বন্ড ছাড়ার অনুমতি দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বন্ড বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ প্রধানত প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করবে আইসিবি। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড ও এনআরবি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফান্ড নামের দুটি তহবিল গঠনে এর উদ্যোক্তা হিসেবে বিনিয়োগ করবে।
এছাড়া অবকাঠামোসহ সরকারের প্রাধিকারভুক্ত প্রকল্প এবং পিপিপিতে বিনিয়োগ করবে।
আইসিবির এই বন্ড বিভিন্ন ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কর্পোরেট হাউজ এবং উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।
পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা সংক্রান্ত নীতিমালার কারণে ব্যাংকগুলো বন্ডটি কিনতে আগ্রহী হচ্ছিল না বলে শর্তটি শিথিল করতে আবেদন করেছিল। আইসিবির আবেদনে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক তাতে সম্মতি দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার জাতীয় নির্বাচনের আগে পুঁজিবাজারে নেতিবাচক ধারা ঠেকিয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে আইসিবির সক্ষমতা বাড়াতে এই ছাড় দিয়েছে ।
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, একটি ব্যাংক তার বিধিবদ্ধ মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে। স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটে বিনিয়োগের পাশাপাশি তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির শেয়ার ও বন্ডে বিনিয়োগও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য হয়।