ঢাকা রবিবার, ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২১, ৫ই আশ্বিন ১৪২৮

বাংলাক্রাফটে বিধি বহির্ভুতভাবে ২৪ জন সদস্য বাড়ানোর অভিযোগ


২২ আগস্ট ২০২১ ১৮:৫০

ছবি- সংগৃহিত

নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ হস্তশিল্প প্রস্তুত কারক এবং রপ্তানী কারক সমিতি বাংলাক্রাফটে বিধি বর্হিভূতভাবে নতুন ২৪ জন সদস্য বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ১৮ আগষ্ট বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের ডিটিও শাখাতে দেয়া এক অভিযোগপত্রে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি এসইউ হায়দার এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাক্রাফটের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট গোলাম আহসান এবং তার পরিষদের সদস্যরা যোগসাজশে নিয়কানুনের তোয়াক্কা না করে নিজেদের ফোরামের লোকজনদের ২৪ জনকে সদস্য পদ দিয়েছে।

অভিযোগে আরো বলা হয়, বর্তমান নির্বাহী কমিটি দ্বায়িত্ব নেবার পর থেকে বর্তমান সভাপতি ও গুটিকয়েক নির্বাহী কমিটির সদস্য এই ঐতিহ্যবাহি সংগঠনের মূল লক্ষ্যকে জলাঞ্জলি দিয়ে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে।

লিখিব অভিযোগে এসইউ হায়দার জানান, বর্তমান কমিটি তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থে নতুন ২৪জন ভোটার তরৈী করেছে। এমতাবস্থায়, নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে এ ধরনের পদক্ষেপ গঠনতন্ত্র বিরোধী, যা ফলশ্রুতি আগামী নির্বচনকে প্রভাবিত করবে এবং সংগঠনের সদস্যদের ঐক্যকে বিনষ্ঠ করবে। তাছাড়া ২৪ জন সদস্যের নতুন করে ভোটার হবার ব্যাপারে প্রস্তাবনা বিধিসম্মত নয়। কারণ এটা সর্বসম্মতিক্রমে বিগত কার্যনির্বাহী সভায় আলোচনা ও অনুমোদিত হয়নি। একতরফাভাবে গৃহীত যে কোন সিদ্ধান্ত সংগঠনের কাজকে অগামীতে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। সুতরাং এই মুহূর্তে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোন পদক্ষেপ কাম্য নয়।

তিনি এ ব্যাপারে বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের ডিটিও শাখাকে বাংলাক্রাফটের অভিবাবক হিসেবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের আহবান জানান।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিটিও শাখার অতিরিক্ত সচিব সোলাইমান হোসেন বলেন, অভিযোগের কাগজটি এখনো আমার হাতে আসেনি। হাতে আসলে কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

 

নিচে অভিযোগের চিঠি হুবহু উল্লেখ করা হলো..

 

বিষয়: বাংলাক্রাফটের আগামি নির্বাচন কে প্রভাবিত করতে বিধিবহির্ভূত ভাবে নতুন ভোটার করন প্রসংজ্ঞে।

 

মহোদয়,

 

আপনার সদয় অবগতির জন্য বিনিত ভাবে জানাতে চাই যে, বাংলাক্রাফট একটি ঐতিহ্যবাহি বানিজ্য সংগঠন হিসেবে গত ৪২ বছর পক্ষপাতহীনভাবে সংগঠনের সদস্যদের কল্যানার্থে অত্যন্ত নিষ্ঠার সহিত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু বর্তমান নির্বাহী কমিটি দ্বায়িত্ব নেবার পর থেকে বর্তমান সভাপতি ও গুটিকয়েক নির্বাহী কমিটির সদস্য এই ঐতিহ্যবাহি সংগঠনের মূল লক্ষ কে জলাঞ্জলি দিয়ে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় নিজেদের ক্ষমতা সু সংহত করতে আগামি নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে আনার লক্ষে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে বিধি বহির্ভুত ভাবে নিজেদের অনুগত এসোসিয়েট সদসাদের নতুন ভোটার করার পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। এখানে উল্লেখ থাকে যে বাংলাক্রাফটের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এসোসিয়েট সদস্যাগন সংগঠনের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে কিন্তু ভোট প্রয়োগ করতে পারবে না। শুধুমাত্র অর্ডিনারি সদস্যরাই ভোট প্রয়োগ করে সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচন করবে।

 

জনাব গত ২৯/০৫/২০২১ ইং তারিখে আয়োজিত বাংলাক্রাফটের কার্যনির্বাহী সভার ৪র্থ এজেন্ডায় এসোসিয়েট মেম্বার থেকে নতুন ভোটার করার পদক্ষেপ দেখে বিস্মিত হই।

প্রথমত, মে-২০২১ মাসে বর্তমান কার্যকরী কমিটির নিয়মতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা করার কথা ছিল। কিন্তু কোভিড মহামারীর অজুহাতে বর্তমান কমিটি নির্বাচন পিছিয়ে দেবার প্রস্তুতি নিয়েছে যাহার প্রয়োজন ছিলোনা। কারন ইতোমধ্যে দেশের শীর্ষ বাণিজ্যিক সংগঠন এফ.বি.সি.সি. আই সহ আরো অনেক বাণিজ্যিক সংগঠন ধারাবাহিক ভাবে নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন সম্পন্ন করিয়াছে।

নতুন ভোটার করার ব্যাপারে আমাদের ব্যক্তিগত কোন অনীহা নেই, তবে তা সংগঠনের গঠনতন্ত্র মেনে হওয়া আবশ্যক।বাংলাক্রাফটের গঠনতন্ত্রে পরিষ্কার ভাবে আর্টিকেল অব এসোসিয়েশন ধারা 2 (6) এবং ধারা 5 (2) তে এসোসিয়েট ও অর্ডিনারি মেম্বার করার বিধান সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা আছে।

তবে এসোসিয়েট মেম্বার কে আপগ্রেড করে অর্ডিনারি মেম্বার বা ভোটার করার কোন বিধান বাংলাক্রাফটের গঠনতন্ত্রে নেই। এ ব্যাপারে গত ২১/০৩/২০২১ তারিখে অনুষ্ঠিত বাংলাক্রাফটের এ.জি.এম. এ পূর্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিলো, যাহা মেনে চলার জন্য মাননীয় সদস্যগন সম্মত হয়েছিলেন।

কিন্তু তারপরও বর্তমান কমিটি তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থে নতুন ভোটার করার অপততপরতা অব্যাহত রেখেছে। এমতাবস্থায়, নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে এ ধরনের পদক্ষেপ গঠনতন্ত্র বিরোধী, যা ফলশ্রুতি আগামী নির্বচনকে প্রভাবিত করবে এবং সংগঠনের সদস্যদের ঐক্যকে বিনষ্ঠ করবে। তাছাড়া ২৪ জন সদস্যের নতুন করে ভোটার হবার ব্যাপারে প্রস্তাবনা বিধিসম্মত নয়। কারণ এটা সর্বসম্মতিক্রমে বিগত কার্যনির্বাহী সভায় আলোচনা ও অনুমোদিত হয়নি।একতরফা ভাবে গৃহীত যে কোন সিদ্ধান্ত সংগঠনের কাজকে অগামীতে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। সুতরাং এই মুহূর্তে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোন পদক্ষেপ কাম্য নয়।

প্রয়োজনে নির্বাচনোত্তর সংগঠনের গঠনতন্ত্র মেনে কার্যনির্বাহী কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে গঠনতন্ত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে এই সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুরোধ করে নিম্ন স্বাক্ষর কারীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বর্তমান সভাপতি কে দেওয়া হয়েছে (চিঠি সংযুক্ত-১), কিন্তু বর্তমান কমিটি আমাদের মতামতকে উপেক্ষা করে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

উল্লেখ্য বর্তমান কমিটির নানা অনিয়ম ও অনৈতিক কার্যকলাপের ব্যাখ্যা চেয়ে ইতোপূর্বে কারন দর্শানো নোটিশ পরিচালক মহোদয়ের অফিস থেকে বর্তমান কমিটিকে দেওয়া হয়েছিল(সংযুক্ত)।

সুতরাং, বানিজা সংগঠন সমূহের অভিভাবক হিসেবে মহোদয়ের নিকট বনিত নিবেদন এই যে উপর্যুক্ত বিষয়টি আমলে নিয়ে একটি ঐহিত্যবাহি সংগঠনের গৌরব উজ্জ্বল সুনাম যেন মুষ্ঠিমেয় গুটি য়েক ক্ষমতালোভি ব্যক্তি ক্ষুন্ন করতে না পারে সে বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ ও আগামি নির্বাচন উপলক্ষে নতুন ভোটার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে না পারে সে লক্ষে সুস্পষ্ট নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করছি।

অতএব, বাংলাক্র্যাফটের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, বিগত নির্বাচনের প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারদের অভিমতের পক্ষে

 

আমি বর্তমান কার্যনির্বাহী সদস্য ও প্রাক্তন সভাপতি সাক্ষর করিলাম।

 

নিবেদক

 

এসইউ.হায়দার

কার্যনির্বাহী সদস্য ও প্রাক্তন সভাপতি,বাংলাক্রাফট

সত্বাধিকারী. আইল্যান্ড ট্রেডিং কর্পোরেশন।