ঢাকা শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ই আশ্বিন ১৪২৭

ফোনে নির্দেশ পেয়ে কাউন্সিলর বাপ্পীকে টার্গেট করা হয়


৫ আগস্ট ২০২০ ১৩:১৬

আপডেট:
৫ আগস্ট ২০২০ ১৩:২১

জামিল নামে একজনের নির্দেশে গ্রেপ্তার হওয়া ওই তিন সন্ত্রাসী পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী ও সাধারন সম্পাদক জুয়েল রানাকে হত্যা করার মিশনে নেমেছিল। জুয়েল রানাকে বাদ রেখে শুধু বাপ্পীই ছিল তাদের মূল টার্গেট।

পল্লবী থানার অভ্যন্তরে বোমা বিষ্ফোরণের ঘটনার পর বেড়িয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। গোপন সূত্রে পাওয়া এক ভিডিও ফুটেজের বরাত দিয়ে জানা যায় আটককৃত তিনজনকে দিয়ে জামিল নামের এক সন্ত্রাসী ফোনলাপের মাধ্যমে বাপ্পিকে খুন করার নির্দেশ দেয়ার পরই শুরু হয় তৎপরতা। প্রথম দিকে পল্লবী থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা সন্ত্রাসীদের টার্গেট থাকলেও পরে নির্দেশে জুয়েলকে হুমকি দিয়ে অন্য একজনকে হত্যা করতে বলা হয়, যদিও তার নামটি পরিষ্কার করে কিছু বলা হয়নি।

এ হত্যা মিশনের জন্য সন্ত্রাসীদের অগ্রিম ৫ হাজার টাকা দেয়া হয় এবং বাকিটা কাজ শেষে পরিশোধ করাসহ তাদের বিপুল অর্থ দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। নির্দেশ মোতাবেক সেই অজ্ঞাত ব্যক্তি কে তা পরিষ্কারভাবে জানা না গেলেও বিভিন্ন হুমকি ও ফোনালাপের রেকর্ড এর মাধ্যম ইঙ্গিত দেয়া ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরি ( বাপ্পি ) র দিকে।

প্রাপ্ত ওই ভিডিও ফুটেজে র্দূবৃত্তদের একজন কোন একটা বিষয়ে বাপ্পির সাথে কথা বলতে চেয়েছিল বলে শোনা যায়। আবার অন্যদিকে ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাপ্পিকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও মারার পরিকল্পনা চলছিলর বেশ আগে থেকেই।

একটি ভয়েস কলের রেকর্ড পর্যালোচনা করে জানা যায় বাবু নামে একজনের সাথে কাউন্সিলর বাপ্পির বেশ সময় ধরে মোবাইল ফোনে কথা হয়। সেই ফোনালাপে জানা যায় কাউন্সিলর বাপ্পি নিজের জিবন রক্ষার জন্য বাবুর মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের এক লক্ষ টাকাও প্রদান করেছিলেন।

জামিল ও লাক্কু বাপ্পির ঘোরতর শত্রু হয়ে কাজ করছে। তারা বিভিন্ন সময় বাপ্পিকে হত্যার জন্য ছক করেন তৈরি করেন।

বাপ্পির সর্মথকরা বলেন, কাউন্সিলর নির্বাচনের পর তার ওয়ার্ডে চাঁদাবাজি বন্ধে ও তার নিয়ন্ত্রাধীন এলাকা সন্ত্রাসী মুক্ত করতে সোচ্চার ছিলেন বলেই অনেক সন্ত্রাসীদের শত্রু হয়ে গেছিলেন বাপ্পি চৌধুরি। যার কারণে হয়তো তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

প্রসঙ্গত গত ২৯ জুলাই সকালে পল্লবী থানার অভ্যন্তরে বিকট শব্দে একটি বোমা বিষ্ফোরিত হয়। এতে ৪ পুলিশ সদস্যসহ মোট ৫ জন গুরুত্বর আহত হয়। ঘটনার পরপরই সেখানে প্রশাসনের বিভিন্ন বাহিনী হাজির হয়ে বাকি বোমা গুলি নিষ্কিয় করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের পরে এক প্রেস বিফিং জানানো হয় ২৮ জুলাই কালশী কবরস্থান এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনজনকে আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে বোমা ও পিস্তল উদ্ধার করা।

বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের প্রত্যেককে অস্ত্র মামলায় সাত দিন এবং বিস্ফোরক মামলায় সাত দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- রফিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও মোশাররফ। তবে এই অভিযুক্তদের ঠিক কখন গ্রেফতার করা হয় এই সময় নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

থানায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার দু’দিন আগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে গ্রেপ্তারকৃত দু’জনের পরিবার অভিযোগ করেছে। অন্যদিকে জঙ্গী সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইসিস দাবি করেছে, তারা পল্লবী থানায় ঐ বোমা হামলা করেছে। যদিও পুলিশ আইসিসের দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছে, পল্লবী থানার ঘটনার সাথে জঙ্গী সম্পৃক্ততা তারা পায়নি।

ঘটনার ব্যাপারে পুলিশের বক্তব্য ২৮ জুলাই বুধবার ভোরে তাদের গ্রেফতারের সময় গুলিসহ দু’টি পিস্তল এবং ওজন মাপার যন্ত্র উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছিল এবং সেই ওজন মাপার যন্ত্রে গ্রেফতারকৃতদের লুকিয়ে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছিল।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আসামীদের আদালতে নেওয়া হয়। এসময় রিমান্ডে শুনানিতে এই গ্রেফতারকৃতদের আইনজীবীরা বলেন, থানায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার দু’দিন আগে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হলেও ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার বিধান মানা হয়নি। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মিরপুরের বাউনিয়াবাঁধ এলাকার সি ব্লকের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন যাত্রবাহী বাসের চালক।

শহিদু্লের স্ত্রী জেসমিন আকতার জানান, আমার স্বামীকে গত ২৭শে জুলাই বিকেলে ডিবি পরিচয় দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর আমরা ডিবি কার্যালয়ে গেলাম, সেখানেও তার কোনো খোঁজ মেলেনি। তখন থানায় জিডি করেছি।