ঢাকা মঙ্গলবার, ২০শে আগস্ট ২০১৯, ৬ই ভাদ্র ১৪২৬


শেখ হাসিনা ‘‘মা’’ ঘর দিছে মোরা পাই নাই, ভোলার ভিক্ষুক দুলাল!


২১ মে ২০১৯ ১৭:৫৮

আপডেট:
২১ মে ২০১৯ ১৯:০১

নতুনসময় ছবি

``খুবই কষ্টে জীবন-যাপন করছেন একটি অসহায় পরিবার।'' সমাজের একশ্রেণীর মানুষ রয়েছে তারা সবদিকেই সফল, হোক গরিবের টাকা দিয়ে কিংবা যেমন চলতে পারেন।, ‘‘সরকারের পক্ষ থেকে’’ গরিব অসহায়দের জন্য বরাদ্দকৃত ঘরটি তাদেরই বাড়িঘরে দেখা যায়।কিন্তু গরিব গরিবই থেকে গেল। এরই ধারবাহিকতায় ঝড়াজীর্ণ খেজুঁর পাতার ঘর তৈরি করে জীবন-যাপন করছেন ভোলার একটি অসহায় পরিবার। সংসারে নেই বড় কোন সন্তান, বয়স্ক মুরুব্বির ওপর সম্পূর্ণ সংসারটি ভর করছে। এমন দৃশ্য বর্তমান সমাজে খুবই কষ্টদায়ক।'

অপেক্ষামান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেয়া গরিব অসহায়দের ঘরের আশায় তাকিয়ে আছেন ভোলার রাজাপুর ইউনিয়নের ভিক্ষুক দুলাল ও তার পরিবার।পরিষদ কিংবা স্থানীয় কোন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে আজও পায়ানি এক কেজী চাল, কিংবা বয়স্ক ভাতা। এদের জন্য বরাদ্দ থাকা সত্বেও মেলেনি সরকারের সুযোগ-সুবিধা। তবে এই গরিব অসহায় ব্যক্তির সন্তান দুটিও প্রতিবন্ধি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া হতদরিদ্রের জন্য দুই বার সরকারি ঘরের জন্য নামের তালিকা দিয়েও সেই ঘর থেকে বঞ্চিত এই অসহায় পরিবারটি। রৌদ্র, বৃষ্টি, আর বাতাসের মধ্যে দিয়েই দিন কাটাচ্ছেন অনেক কষ্টে ভোলার ভিক্ষুক দুলাল ও তার পরিবার।

‘অসহায় পরিবারের আর্তনাদ কণ্ঠের বাণী, ১৯৬৮ সালে আমার জন্ম। তখন আমাদের পরিবারটি ছিলো একেবারে হতদরিদ্র তাই শিক্ষার আলো পায়নি।  ধীরে ধীরে শৈশব, কিশোর জীবন কেটে এখন আমি বৃদ্ধের জীবনে আবদ্ধ হয়েছি। জন্মের ২০ বছর পর মেঘনা নদীর গর্ভে চলে যায় আমার ঘরটি। মেঘনা নদীতে বিলীন হয় সম্পত্তিটুকু। কোন রকম আশ্রয়ের জায়গা হয় ভোলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে। এইখানে বড় হয় আমার ২ মেয়ে ও ২ছেলে। আমি তখন গাছ কাটার কাজ করতাম। আমার পরিবারটি দরিদ্র তাই অল্প শিক্ষায় শিক্ষিত করে বিয়ে দিয়ে দেই আমার অল্প বয়সের দুই মেয়েকে। ছেলে ২টার মধ্যে বড় ছেলে লিঙ্গ প্রতিবন্ধী এবং ছোট ছেলে এবার স্থানীয় বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। আজ ৯ বছর ধরে আমি প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত।

তিনি আরো বলেন, শেষ বয়সে সবকিছু হাঁরিয়ে জীবনের তাগিদে ভিক্ষা করে জীবন-যাপন করছি কোন মতে, তাও অসুস্থতার কারনে মাঝে মধ্যে যেতে পারি। যখন যেতে না পারি ওইদিন পরিবার না খেয়ে দিন কাটিয়ে দেয়। বড় মেয়ের জামাই লজ্জা পাবে তাই সেই এলাকায় ভিক্ষা করি না। প্রতিবন্ধী ছেলেটি স্থাণীয় একটি চায়ের দোকানে পানি টেনে জীবন চালায়। মাঝে মধ্য ভুলত্রুটি হলে দোকানদারও মারে।প্রধানমন্ত্রী ‘‘মা’’ সরকারিভাবে ঘর দেয় কিন্তু আমি পাইনি।গিয়েছি চেয়ারম্যানের কাছেও কিন্তু সেটা থেকেও বঞ্চিত হয়েছি। মেম্বার মিলন ঘরের জন্য দুইবার নাম নিয়েছে কিন্তু ঘর দেয়নি।আমি গরিব তাই পাশেও দাড়াঁতে পারি না,  সমাজের নিম্ন শ্রেণীর মানুষকে কেউই মূল্য দেয়না। কথা বলতে বলতে এইখানেই এসে নীরব হয়ে যান ভিক্ষুক দুলাল। কাঁদতে থাকেন অঝর অশ্রু চোখে নিয়ে।'

স্থানীয়রা জানান, `আর কত যাইবো যেতে যেতে গরিবরা এখন এরা ক্লান্ত ( হরান) হয়ে গেছে। ওগুলো দেয় না সব খাইয়া হালায়। গরিবের জিনিস হেতিগো না খাইতে পারলে রাইতে চোহে ঘুম আয় না।ওতো সব খাইয়া হালায়।'

দুইবার ঘরের নাম দিয়েও নদীভাঙ্গা ভিক্ষুক দুলাল কেনো আজও ঘর পায়নি এবং তার নামের সরকারি বরাদ্ধকৃত কার বাড়িতে জেগে আছে?।

এবিষয়ে রাজাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান খাঁন সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।'

নতুনসময়/আল-এম