তালগাছের গ্রাম চৌগ্রাম

সব বয়সের মানুষের পছন্দ তালের শাঁস। গ্রীষ্মকালের একটি সুস্বাদু ও রসালো ফল তালের শাঁস। প্রচন্ড গরমে কচি তালের শাঁস সকলকে তৃপ্তি দেয়। তাছাড়া তাল পুষ্টিকর খাদ্য। শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে খাওয়া যায় পাকা তাল।
প্রচন্ড দাবদাহে যখন পরিবেশ দুর্বিষহ হয়ে উঠে তখন একটু স্বস্তি পেতে শিশু থেকে তরুণ-তরুনী সহ সকল বয়সের মানুষের পছন্দ তালের শাঁস। মধু মাসে তাল শাঁসের কদর রয়েছে।
গ্রীষ্মকালে তাল পাখার বাতাস গ্রামের মানুষের শরীরে হিমেল পরশ বুলিয়ে দেয়। তাছাড়া ঝড়বৃষ্টি থেকে বাড়িঘর রক্ষা ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় তাল গাছের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ইতিহাস সমৃদ্ধ একটি গ্রাম চৌগ্রাম। কালের আবর্তনে যখন তাল গাছ বিলুপ্তির পথে তখন গ্রামটি তালগাছের গ্রাম হিসেবে পরিচিত। নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের পাশে অবস্থিত গ্রামটিতে ব্যক্তি মালিকানার জায়গা ও খাস পুকুরের ধারে লাগানো একধারে সারি সারি তালগাছ এখনো দৃষ্টি কাড়ে দর্শনার্থীদের। বর্ষা ও শীত কালে জামাই ও আত্বীয়দের দাওয়াত করে রকমারি তালের পিঠা বানিয়ে খাওয়ানোর উৎসব পড়ে যায় এ গ্রামে।
জানা যায়, চৌগ্রামে রয়েছে প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন রাজা রসিক রায়ের রাজবাড়ী। প্রায় ৩শ বছরের পুরনো এ জমিদার বাড়িটি ইতিহাসের স্বাক্ষী হিসাবে আজও দাঁড়িয়ে আছে। তৎকালিন রাজশাহী জেলার ৪৮টি পরগনার অন্যতম চৌগ্রাম পরগনার রসিক রায়ের পুত্র কৃষ্ণকান্ত বিশাল এলাকা নিয়ে এই জমিদার বাড়ি গড়ে তোলেন। আর তারই প্রচেষ্ঠায় ওই সময় আবর্জনা ও জঙ্গল সাফ করে এসব তালগাছ রোপন করা হয়। সারি সারি তালগাছ এ গ্রামের পরিচিতি যেমন কেড়েছে তেমনি কেড়েছে সৌন্দর্য। তাছাড়া তালের শাঁস বিক্রি করে এ গ্রামের অনেকে জীবিকা নির্বাহ করেন।
চৌগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম ভোলা জানান, তালগাছ চৌগ্রামের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। এই গ্রামের মালিকানা জায়গা ও পুকুরের ধারে লাগানো একধারে সারি সারি শত শত তালগাছ রয়েছে। তাছাড়া তালগাছ ঝড়বৃষ্টি থেকে বাড়িঘর রক্ষা ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তালগাছ রোপন বিষয়ে কৃষি বিভাগের নজর দেয়া উচিত।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাজ্জাদ হোসেন জানান, তালগাছের গ্রাম হিসেবে খুবই পরিচিত সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম ইউনিয়ন। প্রতি বছর উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে চৌগ্রামসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে রাস্তার ধারে তাল গাছ রোপন করা হয়।
একেএ