ঢাকা শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৫, ২২শে চৈত্র ১৪৩১


শীতে জবুথবু চুয়াডাঙ্গার জনজীবন, বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ


১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ১০:২২

সংগৃহিত

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা চুয়াডাঙ্গা। কনকনে ঠান্ডা আর হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু জনজীবন। এ জনপদের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস বলছে, জেলায় তাপমাত্রা আরও কমতে থাকবে। উত্তরের হিমালয় থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাবে।

এদিকে, জেলার শীতার্ত মানুষের জন্য জেলা পরিষদ থেকে ১৫ লাখ টাকার শীতবস্ত্র কেনার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারিভাবে ১০ হাজার কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশার সঙ্গে চুয়াডাঙ্গায় শীত পড়তে শুরু করেছে। এর আগে, গত ১০ ডিসেম্বর এ জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরদিন ১১ ডিসেম্বর তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একদিনের ব্যবধানে ১২ ডিসেম্বর তাপমাত্রা কমে দাঁড়ায় ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আর ১৩ ডিসেম্বর তাপমাত্রার পারদ আরও নিচে নেমে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। পরে তা আরও কমে শনিবার তাপমাত্রা দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে।

এদিকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যায়, সকালে তীব্র শীত উপেক্ষা করে বাইরে বেরিয়েছেন দিনমজুর ও শ্রমিকরা। তবে এই ঠান্ডার কারণে কাজ পাচ্ছেন না তারা। অনেকে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। যানবাহন চললেও ছিল না তেমন যাত্রীর চাপ।

মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাহিল হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা। খুব প্রয়োজন না হলে মানুষ সকালে বাইরে বের হচ্ছেন না। অপেক্ষা করছেন রোদ ওঠার। অনেকে আবার জীবিকার তাগিদে তীব্র ঠান্ডা উপেক্ষা করে বের হয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গার শহরের চা-দোকানি মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন ভোরে দোকান খুলতে হয়। ভোরের দিকেই শীত বেশি। সূর্য উঠছে, কিন্তু ঠান্ডা বাতাসও আছে। তাই আরও শীত অনুভূত হচ্ছে।’

ভ্যানচালক মফিজুর রহমান বলেন, ‘এবার শীত যেন একটু বেশি। আমরা পেটের তাগিদে রাস্তায় বের হচ্ছি। কিন্তু রাস্তায় যাত্রী নেই। সকালে তো একদমই ভাড়া হচ্ছে না।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গার শীতার্ত মানুষের জন্য বৃহস্পতিবার সরকারের ত্রাণভান্ডার থেকে ১০ হাজার কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। শুক্রবার থেকে এসব কম্বল বিতরণ শুরু হয়েছে।