ঢাকা শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৫, ২২শে চৈত্র ১৪৩১


কমছে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান, তীব্র হচ্ছে শীত


১২ ডিসেম্বর ২০২৪ ১০:২৩

সংগৃহিত

কুড়িগ্রামে শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে। দিনের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ব্যবধান কমতে শুরু করায় কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। তবে দিনের চেয়ে রাতে শীতের অনুভূতি বেশ তীব্র। দিনে কিংবা রাতে উষ্ণ কাপড় ছাড়া বাইরে বের হওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। মধ্য ডিসেম্বরের পর জেলার ওপর দিয়ে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানায়, জেলায় দিন-রাতের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে এসেছে। ফলে ঠান্ডা বেশি অনুভূত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল (বুধবার) দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত জেলায় সর্বনিম্ন। ওইদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ব্যবধান ছিল ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত সপ্তাহে এই ব্যবধান ছিল ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী তিন দিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষণাগার।

এদিকে, জেলায় রাতের বেলা কুয়াশার ঘনত্ব বাড়ছে। সন্ধ্যা থেকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে থাকছে চারপাশ। রাতের বেলা গাছের পাতা গড়িয়ে কুয়াশা ঘরের চালে পড়ছে টিপটিপ শব্দে। উত্তরের এই জেলার মানুষের নিত্য সঙ্গী এখন দিনে উষ্ণ পোশাক আর রাতে বিছানায় কম্বল কিংবা লেপ। বাজারে কাপড়ের দোকানসহ সড়কের পাশে পশরা সাজানো শীতের কাপড়ের দোকানগুলোতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড় বাড়ছে।

বিকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে নানারকম শীতের পিঠা তৈরি করছেন। ভাপা পিঠার সঙ্গে চলে চিতই পিঠা বিক্রির ধুম।

জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা জানিয়েছে, শীত মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

এদিকে, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের সর্দি-জ্বর বাড়ছে। তবে হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা অনেকটা স্বাভাবিক বলে জানিয়েছে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আল-আমিন মাসুদ বলেন, ‘শীতে সর্দি-জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিক। তবে এই শীতে শিশুদের সুরক্ষায় বাড়তি যত্ন নেওয়া উচিত।’

‘শিশুদের নিয়ে ঠান্ডায় বাইরে ঘুরতে যাবেন না। শিশুকে সকালে ঘর থেকে দেরিতে বের করবেন। ঠান্ডা এড়ানোর জন্য উষ্ণ কাপড় পরাতে হবে।’ অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন এই চিকিৎসক।

রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘দিন দিন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমছে। এই ব্যবধান যত কমবে তত বেশি ঠান্ডা অনুভূত হবে। ডিসেম্বরের ১৫ তারিখের পর জেলায় দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।’