বেনাপোল বন্দরে ৮ কোটি টাকার ব্ল্যাক আয়রন লাইন পাইপ জব্দ

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) বেনাপোল স্থলবন্দর অফিসের তথ্যের ভিত্তিতে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ৮ কোটি টাকা বাজার মূল্যের এমএস ব্ল্যাক আয়রন লাইন পাইপ জব্দ করেছে।
সূত্র জানায়, আমদানিকারক প্রাইম ইঞ্জিনিয়ারিং ঢাকা ভারত থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দুইটি চালানে ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৮ কেজি ওজনের এমএস ব্লক আয়রন লাইন পাইপ আমদানি করে। আমদানিকারকের পক্ষে কাজ করে সিএন্ডএফ এজেন্ট গনি এন্ড সন্স এবং এনেক্স ইন্টারন্যাশনাল। পন্য চালান দুটি ৪১ এবং ৩৭ নং সেডে রক্ষিত রয়েছে। যার বিল অফ এন্ট্রি নং ৮২২৪৩ ও ৮২০৮০ তারিখ ২৫/০৯/২০২৪ ইং। অন্য চালান টি রাজস্ব কর্মকর্তা হেলিম ভুইয়া ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ফুল মিয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চালানটি ছাড়করনের সমস্ত কাজ সমাপ্ত করে। চালানটির কাস্টমস কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের কাছে গোপন তথ্য আসে যে বিপুল অঙ্কের টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার জন্য সিএন্ডএফ এজেন্ট ভারতীয় ১৩ টি গাড়ির ওজনের নকল ম্যানুফেস্টের কাগজ তৈরি করে চালান দুটি খালাস নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) এর কর্মকর্তারা বিষয়টি বেনাপোল স্থল বন্দরের কমিশনার কে অবগত করলে পণ্য চালান দুটো সাময়িক আটক করে।
তাৎক্ষণিক কাস্টমস কর্মকর্তারা বন্দরের ওজন স্লিপ/ম্যানুফেস্ট পরীক্ষা করে দেখেন ভারতীয় ১৩ টি গাড়ির ওজোন স্লিপ বন্দরের ৫ নং ওজোন স্কেলে কর্মরত ওয়ার হাউস সুপারন্টেন মোঃ নাসির হোসেনের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে ওজনের তারতম্য ঘটিয়ে ভুয়া ম্যানুফেস্ট তৈরি করেছে। মোটা অংকের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার জন্যই সিএন্ডএফ এজেন্ট এই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে।
বেনাপোল স্থল বন্দরের ৫ নং ওজন স্কেলে কর্মরত ওয়্যার হাউস সুপারেনটেন্ট নাসির উদ্দিনের স্বাক্ষর জাল করে দুইটি চালানের ২৬ টি গাড়ির মধ্যে ১৩ টি গাড়ির ভুয়া ওজন স্লিপ তৈরি করে আনুমানিক প্রায় ৮ কোটি টাকার বাজার মূল্যের এমএস ব্ল্যাক আয়রন লাইন পাইপ খালাস করে নেওয়ার সময় কাস্টমস কমিশনারের নির্দেশে তা জব্দ করে পুনরায় পরীক্ষনের নির্দেশ দেন। যার সিএন্ডএফ হিসেবে কাজ করছে গনি সন্স এবং এনেক্স ইন্টারন্যাশনাল বেনাপোল যশোর। আমদানি কারক প্রাইম ইঞ্জিনিয়ারিং ঢাকা । পন্য চালান দুটিতে এলসি মূল্য ৪ কোটি ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৪৮৩ টাকা ও মোট রাজস্ব ১ কোটি ৪০ লাখ ৭ হাজার ৫৮৯ টাকার বিল অফ এন্ট্রি দাখিল করেছে। রপ্তানি কারক প্রতিষ্ঠানের নাম জিন্দাল ইন্ডিয়া লিমিটেড পশ্চিমবঙ্গ ভারত।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের চৌকস ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন কর্মকর্তাদের নজরদারি বৃদ্ধির কারণে বেনাপোল স্থল বন্দরে অনেক বড় বড় শুল্ক ফাঁকির চালানগুলো আটক হচ্ছে। যেখানে কাস্টমস, কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দা ও বিজিবি বা বিএসবি এ ধরনের শুল্ক ফাঁকির চালান আটক করতে অক্ষম সেখানে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের কর্মকর্তারা সক্ষম হচ্ছে বা সফলতা দেখাচ্ছে এবং রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি রাজস্ব আহরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এনএসআই কর্তৃক আটক শুল্ক ফাঁকির বড় চালান গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হোমিও মেডিসিন ১০০ কোটি টাকার উর্দ্ধে , সালফিউরিক এসিড ১৮ কোটি টাকা ঊর্ধ্বে, ৩ টন গোল্ড পাউডার, ক্যাপসিকাম চালান শীসা মাদক, যৌন উত্তেজক ঔষধ, থ্রি পিস ও ইমিটেশনের গহনা, ফেব্রিক চালান, ১৪.৫০ কেজি নিলা পাথর, ব্লিসিং পাউডার চালানে থ্রি পিস ও দামি ফেব্রিক্স, দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো র আইপিবিহীন শত শত কোটি টাকা পণ্য। অধিক রাজস্ব আহরণে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে তারা সর্বদা সচেষ্ট।