ঢাকা শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল ২০২৫, ২২শে চৈত্র ১৪৩১


গ্রামের নাম ভাতুড়িয়া যেভাবে হলো


১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১৯:৩৩

১৭৫৭ সালে ২৩ জুন পলাশী যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌল্লার পরাজয়ের পর ইংরেজদের হাতে চলে যায় বাংলার শাসন ক্ষমতা। তারা বাংলার নিরিহ মানুষের উপর চালায় নির্মম অত্যাচার ও অবিচার। ধবংস করে দেয় আমাদের অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে। এ সময় প্রচুর ক্ষয়-ক্ষতি হয় বাংলার মানুয়ের। যার ধারাবহিকতা বাদ যায়নি কোন গ্রামের মানুষ।

একদিকে জমিদারদের করের বোঝা অন্যদিকে, অনাবৃষ্টি অতিবৃষ্টির করণে দেখা দেয় দূর্ভিক্ষ। যার প্রভাব পড়ে যশোর জেলার প্রত্যেকটি গ্রামে। যেটাকে আমরা ৭৬ এর মনান্তর বলি।

১৭৭০ ইং বাংলায় ১১৭৬ সনের কথা। সারা বাংলায় যখন খাদ্যাভাব দেখা দেয়, তখন একমাত্র আমাদের গ্রাম খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ন ছিল। গ্রামের মোরব্বীদের কাছ থেকে শোনা যায় এই গ্রামের মানুষের কোন অভাব ছিলনা। পাট,ধান, সবজিসহ সব কিছু উৎপাদিত হতো গ্রামে।
জ্বলেশ্বর বিলে সারা বছর পানি থাকায় মাছেরও অভাব ছিল না।

আমাদের গ্রামের মানুষ ছিল অত্যান্ত দয়ালু, পরোপকারী। সেই সময় অনন্য এলাকা থেকে আমাদের গ্রামে লোক আসতো ভাতের জন্য। পাশের গ্রামে ছিল ‘নলখাগড়া’যেটা এখন নলডাঙ্গা গ্রাম নামে পরিচিত। সেখান থেকে নলখাগড়া এনে শালবনে রান্না করা হতো ভাত। শালবন বলতে ভাতুড়িয়া গ্রামের পূর্বদিকে রয়েছে শালবার হাট নামে গ্রাম।

ক্ষুধার্ত মানুষদের ভাত বিতরণ করা হতো বুদোরবট তলা সংলগ্ন দক্ষিণদিকের জমিগুলোতে। সেই সময় থেকে মানুষ বলতো ভাতের এরিয়া। ইংরেজি এরিয়া শব্দের অর্থ হলো এলাকা । অর্থৎ ভাতের এলাকা।
কেউ কেউ বলতো শাল বনে ‘ভাত উড়ে’।

সেখান থেকে গ্রামের নাম হলো ‘ভাত উড়িয়া’ পরবর্তীতে বাংলা গ্রামারের সদ্ধি আনুসারে নাম করা হয় ভাতুড়িয়া।
যেমন: ভাত+ উড়িয়া= ভাতুড়িয়া।
কালের পরিবর্তনের সাথে সেই ঐতিহাসিত স্থানগুলো বিলিন হয়ে গেছে। তবুও বিভিন্ন সময়ে মাটি খোঁড়ার সময় বেড়িয়ে আসে অনেক পুরাতন জিনিসপত্র। যা আমাদের ইতিহাসের গুরুত্বপুর্ণ স্মৃতি বহণ করে

তথ্য সংগ্রহক : এইচ এম মহিদুল ইসলাম। বাংলা বিভাগ সরকারী এম এম কলেজ, যশোর।