ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩শে জুলাই ২০১৯, ৯ই শ্রাবণ ১৪২৬


আষাঢ়েই কাঙ্খিত বৃষ্টি না হওয়ায় আমন চাষ নিয়ে কৃষকের শঙ্কা


৪ জুলাই ২০১৯ ১৩:৫২

আপডেট:
৪ জুলাই ২০১৯ ১৩:৫২

আষাঢ়েই কাঙ্খিত বৃষ্টি না হওয়ায় আমন চাষ নিয়ে কৃষকের শঙ্কা

রাজশাহীর মোহনপুরে চলতি ভরা বর্ষা মৌসুমে এখানো কাঙ্খিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বৃষ্টির জল নির্ভরশীল রোপা আমণ ধানচাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে চাষিদের মাঝে। ধান চাষিরা জানান অন্য বছরের তুলনায় এবার আষাঢ় মাস শেষের দিকে গেলেও এখানো কাঙ্খিত বৃষ্টির দেখা না মেলায় বাধ্য হয়ে কেউ কেউ গভীর নলকুপ (সেচযন্ত্র) হতে বেশি দরে পানি কিনে নিয়ে আমণ চাষ শুরু করেছে। তবে সেখানেও ভোগান্তী। কারণ বর্ষা মৌসুমে এলাকার অধিকাংশ নলকুপের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ভয়ে খুলে রাখা হয়। ফলে অধিকাংশ সেচযন্ত্র কৃষকের কাজে আসছে না। বিশেষ করে উপজেলার মৌগাছি,ধুরইল ও ঘাসিগ্রাম ইউপি এলাকার চাষিরা আমণ চাষ নিয়ে মহা বিপাকে পড়েছেন। বীজ তৈরি করে আমন রোপণের জন্য প্রস্তুতি নিলেও পানির অভাবে রোপণ করতে পারছেনা তারা।

এ বিষয়ে মেলাদি গ্রামের শুকুমার চন্দ্র জানান, ৬ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করার ইচ্ছে থাকলেও পানির অভাবে মাত্র দেড় বিঘা জমিতে ধান রোপন করেছে আর অবশিষ্ট জমি বৃষ্টির অপেক্ষায় রেখেছে। তিনি আরো জানান, কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টি নামলে ধান রোপনে অসময় হয়ে যাবে। ফলে দেড়িতে রোপন করলে ফলন ভাল হবে না।

নন্দনহাট গ্রামের মকসেদ আলী বলেন, আমন রোপণ হয় আকাশের বৃষ্টির পানিতে এবং উত্তোলন পর্যন্ত বৃষ্টির পানিই একমাত্র ভরসা, তবে এবার ভরা মওসুমে এখানো কাঙ্খিত বৃষ্টির দেখা মেলেনি তায় আমণ চাষ নিয়ে চরম হতাশায় রয়েছি। কোন মত কয়েক বিঘা জমিতে ধান রোপন করলেও সেচের অভাবে ভাল হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে চলতি মওসুমে কাঙ্খিত আমন চাষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবেনা। বাকশিমইল গ্রামের আলী হাসান জানান, এমনিতে বাজারে ধানের মূল্য কম তার মধ্যে এবার বৃষ্টি না থাকায় মেশিন দিয়ে সেচ খরচ বেশি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানায়, চলতি মৌসুমে মোহনপুর উপজেলায় এবার রোপা আমণ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর, কিন্ত এখন পর্যন্ত তেমনভাবে রোপণ শুরু হয়নি। সবেমাত্র কৃষকরা জমি তৈরি শুরু করেছেন।

এ ব্যাপারে মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা: রহিমা খাতুন বলেন, আমণ চাষ নিয়ে কৃষকের হতাশ হবার কোনো কারণ নাই এখানো সময় রয়েছে। আসা করছি সঠিক সময়ের মধ্যে কৃষকের প্রয়োজন মত বৃষ্টি নামবে।