ঢাকা মঙ্গলবার, ৩রা আগস্ট ২০২১, ১৯শে শ্রাবণ ১৪২৮


বৈশাখী ঝড়ের প্রভাবে নরসিংদীতে বিনষ্ট ৩৫০ হেক্টর জমির ধান


২০ এপ্রিল ২০২১ ২০:১০

ছবি- সংগৃহিত

গত কিছুদিন পূর্বে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা উত্তপ্ত বৈশাখী ঝড়ে নরসিংদীতে প্রায় ৮হাজার হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরোপুরি বিনষ্ট (চিটা হয়ে যাওয়া) হয়ে গেছে ৩শত ৫০হেক্টর জমির ধান। ২ হাজার ৮শত জন কৃষক এই ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আগামী বৈশাখী ঝড়ের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে বর্তমানে জমিতে যে ধান আছে তা আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে উত্তোলন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছে নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

নরসিংদী জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবার রোদ বেশি থাকার কারনে ধানের ফলন ভাল হবার সম্ভাবনা ছিল। গত ৪ এপ্রিল বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিম দিক থেকে আসা গরম ঝড়ো হাওয়ায় ধান গাছের ব্যাপক ক্ষতি হযেছে। বেশিরভাগ ধান গাছে চিটা ধরে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে রায়পুরা, বেলাব ও শিবপুরে।

জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন এবার এই গরম বৈশাখী ঝড়ে তাদের ধানের জমির যে ক্ষতি হয়েছে তা তাদের কাটিয়ে উঠা সম্ভব নয়। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের যদি কোন ধরনের সহায়তা না দেয়া হয় তবে বেশ কষ্টে জীবন-যাপন করতে হবে। এমনিতেই করোনা মহামারীর কারনে স্বাভাবিক জীবনযাত্র ব্যাহত হয়ে আয় উপার্জন অনেকটাই কমে আসছে। এই অবস্থায় সরকারের কাছে বিশেষ সহযোগীতা কামনা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

এ ব্যাপারে নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে জেলা কৃষি প্রশিক্ষন কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রশীদ জানান, এবারের বোরো মৌসুমে ৫হাজার ৩শত ২৪ হেক্টর জমিতে ২লাখ ২৯হাজার ৯৯৭মেট্রিক টন ধান উৎপাদন লক্ষমাত্রা ছিল।

বৈশাখী গরম ঝড়ো হাওয়ায় প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত ও ৩৫০হেক্টর জমির ধান চিটা হয়ে গেছে। তারপরও লক্ষমাত্রার কাছাকাছি ধান উৎপাদনে আশাবাদি আমরা। জেলার প্রায় ২হাজার ৮শত জন কৃষকের তালিকা মন্ত্রণালয়ে প্রেণ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক প্রণোদনাসহ বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতা করা হবে।