ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ই আশ্বিন ১৪২৫


ধ্বংসের বড়ি খেয়ে বেসামাল মেয়ে, পিটিয়ে মারলো মাকে


১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১৪:৪৪

আপডেট:
১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১৫:৩৪

ঘাতক টুম্পা খাতুন

নিজের গর্ভধারিণী মাকেই পিটিয়ে মারল মেয়ে টুম্পা খাতুন (২৪)। ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানায়। মাদকাসক্ত মেয়ের বেপোরোয়া চলাফেরায় বাধা দেয়ায় জীবন দিতে হলো মাকে। টুম্পার রডের আঘাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মা মমতাজ বেগম (৪৮)। মাথায় ও ঘাড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কয়েকবার বমি করেন তিনি। এরপর আর জ্ঞান ফেরেনি।

প্রতিবেশীরা মমতাজ বেগমকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় মমতাজ বেগমকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে নেয়ার পথে রাতে মারা যান মমতাজ বেগম। গত (১০ সেপ্টেম্বর) সোমবার সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা এলাকায় এ নির্মম ঘটনা ঘটে।

মমতাজ বেগমের স্বামী আব্দুস সবুর সরদার মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। একমাত্র ছেলে শরীফও মাদকাসক্ত। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর মেয়ে টুম্পা খাতুন ইয়াবাসেবী।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে পাটকেলঘাটা থানায় এসআই আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে মেয়ে টুম্পা খাতুনকে আসামি করে হত্যা মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলা নং-৫।

স্থানীয়রা জানান, মেয়ে টুম্পা খাতুন ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকসেবন করতেন। বেপোরোয়া চলাফেরার কারণে তিন বছর আগে তার স্বামী তাকে তালাক দেয়। মা এগুলোর বিরোধিতা করায় মাকে প্রায়ই মারধর করতেন টুম্পা। মাকে হত্যার পর স্ট্রোক করে মারা গেছে বলে প্রচার করতে থাকে টুম্পা। স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেওয়ার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধারকালে টুম্পা পালিয়ে যায়। সেই থেকে পলাতক রয়েছে মেয়ে টুম্পা।

পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ঘাতক মেয়ে টুম্পা খাতুনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তাই পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। আসামি টুম্পাকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযানে নেমেছে।

 

এমএ