ঢাকা সোমবার, ২১শে জানুয়ারী ২০১৯, ৯ই মাঘ ১৪২৫


দেশে বিদেশে সম্পদের পাহাড়, বিদেশ ঘুরেছেন ২৮ বার!


১০ জানুয়ারী ২০১৯ ১৯:৪২

আপডেট:
২১ জানুয়ারী ২০১৯ ১৩:২১

হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ আফজাল হোসেন

পেশায় তিনি হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা। উত্তরায় আছে চারটি ৫ তলা বাড়ি। বাড়ি আছে অস্ট্রেলিয়ায়ও। শহরে আর গ্রামের বাড়িতে নামে-বেনামে অনেক জমির মালিক তিনি। ২৮ বারেরও বেশি ভ্রমণ করেছেন ইউরোপ-অস্ট্রেলিয়া। তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমে হতবাক খোদ দুদক।

স্ত্রীর নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খুলে সেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ আফজাল হোসেন। নিজেও জড়িয়েছেন নানা দুর্নীতির সঙ্গে। এসব দুর্নীতির সত্যতা খুজে পেতে আজ দুদকের কার্যালয়ে আফজাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা সামসুল ইসলাম।

সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সামসুল আলমকে জিজ্ঞাসাবাদে সম্পদের যে তথ্য পেয়েছে দুদক তাতে হতবাক অনুসন্ধান টিম। শুধু আফজাল হোসেনই নয়, স্বাস্থ্য অধিপ্তরের পরিচালকসহ অনেক কমকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ গড়ার অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, বিপুল সম্পদের তথ্য পেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবজাল হোসেনকে সকাল ১০ থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের উপ-পরিচালক সামছুল আলমের নেতৃত্বাধীন টিম।

জিজ্ঞাসাবাদে দুদক জানতে পারে স্ত্রীর নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও লাইসেন্স তৈরি করে সেই লাইসেন্সের মাধ্যমে টেন্ডার বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন আবজাল হোসেন। হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার পদে থেকে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সেক্টরে টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেন এ কর্মকর্তা। গত সপ্তাহেই অবৈধ সম্পদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবজাল হোসেনকে নোটিশ দেয় দুদক। দুদকে আসার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের ফটোকপি, নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে অর্জিত স্থাবর, অস্থাবর সম্পদের বিবরণ ও আয়কর রিটার্নের ফটোকপি সঙ্গে রাখতে আবজাল হোসেনকে বলা হয়।

দুদকের অভিযোগ থেকে জানা যায়, আবজাল দম্পতির নামে রাজধানীর উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডে তিনটি পাঁচ তলা বাড়ি এবং একটি প্লট রয়েছে। এছাড়া ১৬ নম্বর রোডে রয়েছে একটি পাঁচ তলা বাড়ি। এছাড়া রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ও ফরিদপুরের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে তাঁদের অঢেল সম্পদ। অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে তাঁদের বাড়ি। দুদক সেই বাড়ির সন্ধানও পেয়েছে।

দুদক জানায়, আফজালের স্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার স্টেনোগ্রাফার রুবিনা খানমের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান করছে দুদক। এর আগে এই দুজনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সংস্থাটি। তাঁদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু হলে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক সামসুল আলমের আবদনের প্রেক্ষিতে তাদের বিদেশ গমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা পুলিশের বিশেষ শাখায় আবেদন করলে বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন) এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেন। এর আগে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দেশ বিদেশে বিপুল পরিমান অর্থ পাচার, টেন্ডারবাজিসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ পেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা: কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, অধ্যাপক ডা: আবদুর রশীদ, সহকারী পরিচালক ডা: আনিসুর রহমান ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আফজাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে তলব করেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা সামছুল আলম। তলবের প্রেক্ষিতে আজ হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আবজাল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আগামী ১৪ জানুয়ারি বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মকর্তা হয়ে আবজাল হোসেন গত এক বছরে অষ্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ২৮ বারেরও বেশি সময় সফর করেছেন। ঠিকমতো অফিস করতেন না এ কর্মকর্তা। বছরের অধিকাংশ সময় তিনি অফিস না করেও হাজিরা দেখিয়েছেন নিয়মিত। এশিয়া - ইউরোরীপ ইউনিয়ন ভুক্ত বিভিন্ন দেশে আবজাল হোসেনের সফরের যে ব্যয় হয়েছে সেই অর্থ কোথায় পেয়েছেন তা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিপ্তরেও রয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

নতুনসময়/এসএ/আইএ