ঢাকা বুধবার, ১৯শে ডিসেম্বর ২০১৮, ৫ই পৌষ ১৪২৫


শীতে শিশুর বাড়তি যত্নে যা যা করণীয়


১১ নভেম্বর ২০১৮ ১০:৪৭

আপডেট:
১১ নভেম্বর ২০১৮ ১০:৫২

ফাইল ফটো

বর্তমানে শীতের আভাষ সর্বত্র অনুভব করা যাচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই কনকনে শীতের আগমন ঘটবে। এ উপলক্ষে নিজেদের প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে বাসার আদুরে শিশুটির প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়া উচিত। শিশুদের জন্য শীতের আগমন মানেই মায়েদের দুশ্চিন্তা বেড়ে যাওয়া। তাই তাদের প্রতি একটু বাড়তি যত্নই নিতে হয়। শীতে জ্বর, সর্দি কিংবা কাশি সাধারণ ঘটনা। জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশির জন্য বয়স অনুযায়ী সাধারণ ওষুধেই ভালো হয়ে যায়। অনেকের আবার তাও লাগে না। লবণ পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার এবং বুকের দুধ ও পর্যাপ্ত তরল খাবার খাওয়ালেই ভালো হয়ে যায়। বাসক পাতার রস এবং মধুও ভালো কাজ দেয়।

শীতে শিশুর সর্দি-কাশির বেশিরভাগই ভাইরাসজনিত। এগুলোয় সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো দরকার পড়ে না। তাই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অহেতুক অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার করলে শিশুর ক্ষতি হতে পারে। ঘরোয়া চিকিত্সাতেই অধিকাংশ সর্দি-জ্বর ভালো হয়। এ সময় মায়েদের উষ্ণ পানি দিয়ে শিশুদের গোসল করাতে হবে।
শীতে শিশুদের গোসল দেওয়া নিয়ে অনেকেই চিন্তিত থাকেন। কী-জানি কখন অসুস্থ হয়ে যাবে। এমন ভয়ে অনেকেই গোসল করানো কমিয়ে দেন। তবে শিশুদের শীতকালে বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

শিশুর শরীরের তৈলাক্ত ময়লা দূর করতে নিয়মিত গোসল করানো জরুরি। ফলে গোসল করানোর সময় বাচ্চাদের গায়ে উপযোগী সাবান ব্যবহার করতে হবে। গোসলের জন্য কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা উচিৎ। অধিক সময় ধরে শিশুকে গোসল করানো যাবে না। গোসল শেষে শিশুর শরীর যেন অতিরিক্ত পানি শোষণ করতে না পারে এদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গোসল শেষে দ্রুত শরীর ও মাথা পরিষ্কার গামছা অথবা তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে। সম্ভব হলে গোসল শেষে কিছুক্ষণের জন্য শিশুকে হালকা রোদে বসিয়ে রাখুন। এতে শিশু আরাম অনুভব করবে। হালকা ফ্যান ছেড়ে ঘুমালেও কোনো ক্ষতি নেই। নাক যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে লবণ পানির ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া বাজারে নরসল ড্রপ কিনতে পাওয়া যায়। পাতলা কাপড় বা কটন বাডে দুই ফোঁটা নরসল ড্রপ লাগিয়ে নাক পরিষ্কার করা যেতে পারে। যদি কাশি হয় তবে ওষুধ ব্যবহার না করে ঘরেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করা যেতে পারে।

যেমন—আধা কাপ লাল চায়ের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খাওয়ানো যায়। অথবা আধা কাপ গরম পানির সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও মধু বা তুলসী পাতার রস ও মধু মিশিয়ে খাওয়ানো যায়। আদা কুচি করে বা আদা-চায়ের সঙ্গে মধু মিশিয়েও শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে। জ্বর ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠলে প্যারাসিটামল সিরাপ খাওয়ানো উচিত। এছাড়া তোয়ালে ভিজিয়ে বারবার শিশুর গা মুছিয়ে দিতে হবে। তবে বাচ্চার নিউমোনিয়ার ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। এ জন্য চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। শিশুর শ্বাসনালি অতি সংবেদনশীল। তাই শীতে হাঁপানির প্রকোপ বাড়ে। এই রোগ প্রতিরোধে বাসায়, শোবার ঘরে কার্পেট রাখবেন না। লোমযুক্ত চাদর, কম্বল ব্যবহার করবেন না। হাঁপানি নিরাময়ে সালবিউটামল সিরাপ এক বছরের নিচের জন্য আধা চামচ আর এক বছর থেকে পাঁচ বছরের জন্য এক চামচ করে দিনে তিনবার খাওয়াতে পারেন।

 

শীতে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম থাকায় পরিবেশে শুষ্কভাব বিরাজ করে। তাই শিশুদের সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য অতিরিক্ত যত্ন নিতে হবে। ত্বক যেন শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ না হয়, এজন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে।

শীতের দিনে শিশুদের নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি এ ধরনের সমস্যা লক্ষ করা যায় বেশি। এজন্য শীতের প্রকোপ থেকে শিশুকে রক্ষা করতে বাবা মাকে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে।


শীত প্রতিরোধের উপযুক্ত পোশাক
শীত থেকে শিশুদের নিরাপদ রাখার ও প্রধান করণীয় হলো শিশুকে ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা করতে পারে এমন কাপড় পরানো। প্রয়োজনে একাধিক কাপড় পরান। শিশুদের শরীরে শীতের অনুভূতি বেশি থাকে তাই শুধু গরম পোশাক পরালেই চলবে না; যাতে ঠাণ্ডা লেগে না যায় তার জন্য শীতের তীব্রতা অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন করুন।


শীতের খাবার
শিশুর শীতের খাবার সম্পূর্ণ আলাদা হওয়া চাই। শিশু যেন অতিরিক্ত ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। লেবু, কমলা, মাল্টা, আমলকি এসব ফল খাওয়ানো ভালো। তবে যেসব শিশু চিবিয়ে খেতে পারে না, তাদেরকে ফলের রস করে খাওয়াতে পারেন।

 

ময়েশ্চারাইজ

শিশুকে গোসল করানোর পর কোমল কোন টাওয়েল দিয়ে শরীর মুছিয়ে তারপর মশ্চারাইজার লাগান। তবে এটি লাগানোর আগে নিশ্চিত হোন সেটি যাতে সুগন্ধি, অ্যালকোহল ও অন্যান্য কেমিক্যাল বিহীন হয়। শীতে শিশুর ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েল ও ভিটামিন ই সমৃদ্ধ তেল ব্যবহার করতে পারেন।

ডায়পার পরিবর্তন

শীতের আদ্রতা থেকে আপনার শিশুর ত্বক বাঁচাতে ঘন ঘন ডায়পার পরিবর্তন করুন। ভেজা ডায়পার যতবেশি আপনার শিশুর ত্বকের সংস্পর্শে থাকবে ত্বকে ততবেশি বুটি ফুসকুড়ি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

 

পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার

আপনার ছোট্ট সোনামণির ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখতে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করুন। গোসলের পর সামান্য পরিমাণ পেট্রোলিয়াম জেলি হাতে নিয়ে হালকা করে শিশুর ত্বকে লাগিয়ে দিন।

অ্যালোভেরা জেল

শিশুর ত্বক শীতে সুরক্ষা দিতে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন। অ্যালোভেরা কাণ্ড ভেঙ্গে সেখান থেকে জেল নিয়ে ত্বকের শুষ্ক জায়গায় লাগিয়ে দেখুন ত্বক নরম ও কোমল থাকবে।

 

এল,এস