ঢাকা শনিবার, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ই আশ্বিন ১৪২৫


রাখে আল্লাহ মারে কে!


১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১৭:১৬

আপডেট:
১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১৮:০৪

ডানে শিশু হাভিয়ার কানিংহাম

এক শিশুর নাকের পাশ দিয়ে শিক ঢুকে মাথার ভেতর প্রায় ৫ থেকে ৬ ইঞ্চি গেঁথে থাকে। এরপরও শিশুটি বেঁচে গেছে। শিশুটির জীবনে ‘রাখে আল্লাহ মারে কে’ প্রবাদই যেন সত্যি হলো।

গেল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের মিজৌরি অঙ্গরাজ্যে ঘটনা। অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া ১০ বছরের সেই শিশুর নাম হাভিয়ার কানিংহাম। এ ঘটনায় বিস্মিত চিকিৎসকরাও।

বাড়ির সামনের গাছঘরে খেলায় মগ্ন ছিল হাভিয়ার। হঠাৎ গাছে থাকা কিছু বোলতা আক্রমণ করে তাকে। এতে গাছঘর থেকে নিচে পড়ে যায় হাভিয়ার। তার মুখ সোজা গিয়ে পড়ে মাটিতে গেঁথে থাকা একটি কাবাব বানানোর শিকের ওপর। শিকটা তার নাকের পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন পর্যন্ত গেঁথে থাকে।

ওই অবস্থায় বাড়ির দিকে ছুটে যায় হাভিয়ার। মা গ্যাব্রিয়েল মিলার ছেলের ছুটে আসা দেখেই আঁচ করেন কিছু হয়েছে। তবে ঘটনা যে এত ভয়াবহ, তা তাঁর কল্পনাও করতে পারেননি। মায়ের কাছে এসেই ঢলে পড়ে হাভিয়ার। কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে, ‘মা, আমি বাঁচব না, বুঝতে পারছি বাঁচব না।’ মিলার দ্রুত ছেলেকে নিয়ে ছোটেন হাসপাতালে।

প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে যান মিলার। সেখান থেকে কানসাস সিটি হাসপাতালে পাঠানো হয় হাভিয়ারকে। পরে ক্যানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসক কজি এবারসোল বলেন, ‘শিকটি মুখের ভেতর থেকে মাথার পেছন পর্যন্ত গেঁথে থাকলেও রক্তপাত খুব বেশি হয়নি। সবচেয়ে বিস্ময়কর ছিল যে ওই লোহার শিকটি শিশুটির চোখ, ব্রেইনস্টেম, স্পাইনাল কর্ড ও রক্তনালিতে আঘাত করেনি। শিকটি নাকের পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার ভেতর প্রায় ৫ থেকে ৬ ইঞ্চি গেঁথে থাকে। অথচ এসব স্পর্শকাতর স্থানে কোনো আঘাত করেনি, যা অলৌকিকই বলা যেতে পারে। এমন সৌভাগ্য ১০ লাখে একজনের হয় কি না সন্দেহ।’

এখন মোটামুটি সুস্থ আছে হাভিয়ার। স্বরযন্ত্রে কিছু সমস্যা থাকলেও চিকিৎসকেরা তার পুরোপুরি সুস্থতা আশা করছেন।

এমআর