ঢাকা শনিবার, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ই আশ্বিন ১৪২৫


শিক্ষিত তরুণীদের ভরসা এই কাপ!


৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১৩:০৭

আপডেট:
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৫:১১

৪ বছর আগে পরিবর্তনটা এসেছিল। দেরিতে হলেও এতো দিনে আধুনিক বিকল্পের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন অনেক নারী। ঋতুকালীন প্রয়োজন মেটাতে অনলাইনে ‘মেনস্ট্রুয়াল কাপ’ কিনে ব্যবহার করছেন মেয়েরা। ‘মেনস্ট্রুয়াল কাপ’ যারা কিনছেন, তাদের বেশির ভাগ শিক্ষিত তরুণী বা কর্মজীবী।

মেনস্ট্রুয়াল কাপ কী? জিনিসটি রবার বা সিলিকনের তৈরি, অনেকটা ছোট ফানেল-এর মতো দেখতে। এটি ভাঁজ করে যোনিপথ দিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া যায়। তার পরে সেটা ছাতার মতো খুলে গিয়ে জরায়ুমুখে আটকে যায়। ঋতুস্রাবের সময় এর মধ্যেই জমে ঋতুকালীন রক্ত। আট-নয় ঘণ্টা পরপর সেই ফানেল বা কাপ বের করে পরিষ্কার করে আবার জরায়ুমুখে ঢোকানো যায়। নির্মাতা সংস্থাগুলির দাবি, ঠিকঠাক ব্যবহার করলে এক-একটি কাপ ৮-১০ বছর চলতে পারে। দাম মোটামুটি ৪০০ থেকে ১২০০ টাকার মতো। বিদেশি সংস্থার তৈরি কাপ ২ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা মতো দাম পড়ে।

আপাতত ভারতের ৪-৫টি সংস্থা এই কাপ তৈরি করছে। সংস্থাগুলির তরফে রেশমী রাজেশ, সাহতাজের মতো অনেকে জানিয়েছেন, গত এক-দেড় বছর হল পশ্চিমবঙ্গে তাদের বিক্রি বাড়ছে। মাসে ২৫০টি কাপ বিক্রি হলে অন্তত তার ১২-১৩টি কিনছেন পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা।

তাদের দাবি, কাপ ব্যবহার করলে বারবার ন্যাপকিন কেনা-বদলানো-ফেলার ঝামেলা বা কাপড়ে-বিছানায় দাগ লাগার ভয় নেই। অনেকের মতে, বর্জ্য তৈরি না হওয়ায় পরিবেশের পক্ষেও এটা ভাল। ভারতের মতো দেশে যেখানে মেয়েদের ‘ভার্জিনিটি’ বা সতীত্ব নিয়ে বাড়াবাড়ির অন্ত নেই, সেখানে অবিবাহিতা তরুণীরা ‘হাইমেন’ বা সতীচ্ছদ রক্ষার পরোয়া না করে ‘মেনস্ট্রুয়াল কাপ’ ব্যবহার করলে সেটা যথেষ্ট সাহসী পদক্ষেপ বলেও মনে করছেন সমাজবিদ এবং নারী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত অনেকে। যদিও তারা একই সঙ্গে মনে করাচ্ছেন, এ দেশে এখনও সিংহভাগ মেয়ের কাছে স্যানিটারি ন্যাপকিনই পৌঁছে দেওয়া যায়নি। সেখানে মেনস্ট্রুয়াল কাপ-এর ব্যবহার একটি বিশেষ শ্রেণির বাইরে হওয়া মুশকিল।

আবার স্ত্রীরোগ-বিশেষজ্ঞেরাও মুক্ত কণ্ঠে খুশি হতে পারছেন না। তাদের চিন্তা, ‘হাইজিন’ বা পরিচ্ছন্নতা নিয়ে। ভারতে গরম, আর্দ্রতা ও ধুলোয় এমনিতেই সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি থাকে। সেখানে বারবার আঙুলের সাহায্যে মেনস্ট্রুয়াল কাপ যোনিপথে ঢোকানো এবং বের করা কতটা নিরাপদ, সে প্রশ্ন থাকছে। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ রঞ্জিত চক্রবর্তীর মতে, ‘‘যদি মহিলারা হাত ও জরায়ু যথেষ্ট পরিচ্ছন্ন না রাখেন তবে সংক্রমণ নিশ্চিত।’’ ঠিক এই কারণেই ভারতে ‘ট্যাম্পুন’ জনপ্রিয় হয়নি বলে মত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ মল্লিনাথ মুখোপাধ্যায়ের।

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সুসুপ্তা চৌধুরীও মনে করছেন, ‘মেনস্ট্রুয়াল কাপ সাবান দিয়ে ধোওয়া যাবে না, কারণ জরায়ুতে সাবান থেকে সংক্রমণ হয়। প্রতিবার ব্যবহারের পর গরম জলে ফোটাতে হবে। সেটা সবাই মেনে চলতে পারবেন তো? সামান্য রক্ত থেকে গেলেই কিন্তু ব্যাকটেরিয়া-ফাঙ্গাসের বাড়বাড়ন্তের আশঙ্কা থাকবে।’