ঢাকা শনিবার, ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ই আশ্বিন ১৪২৫


টেরিজা মেকে হত্যায় বাংলাদেশির যাবজ্জীবন


১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১০:২৫

আপডেট:
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৫:৪২

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মেকে হত্যার ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ যুবক নাইমুর জাকারিয়া রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

২১ বছর বয়সী এই যুবক প্রধানমন্ত্রীর ডাউনিং স্ট্রিট অফিসে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভেতরে ঢুকে টেরিজা মেকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। যা আদালতে প্রমাণিত হওয়ায় তার এই শাস্তি।

গত জুলাইয়ে লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালতে নাইমুর দোষী সাব্যস্ত হয়। শুক্রবার (৩১ আগস্ট) আদালত তার শাস্তি নির্ধারণ করে বলে রয়টার্স এর প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়।

উত্তর লন্ডনে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন নাইমুর। গত বছরের ২৮ নভেম্বর গোয়েন্দারা জাল বিস্তার করে গ্রেপ্তার করেন তাকে।

গত বছর অগাস্টে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের অশালীন ছবি পাঠানোর সন্দেহে পুলিশ নাইমুরকে আটক করে। তখন নাইমুরের মোবাইল ফোনে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা দেখতে পান কর্মকর্তারা।

এরপর নাইমুর লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা এমআই ফাইভের সন্ত্রাস দমন কর্মকর্তাদের ছদ্মবেশী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারিত হন। ধারণা করা হয় ব্রিটেনে হামলার জন্য ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ করছিলেন নাইমুর।

আদালতে বলা হয়, নাইমুরের সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দেওয়া এক চাচার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তার ওই চাচাই ব্রিটেনে হামলা চালানোর জন্য তাকে উৎসাহিত করেন। সিরিয়ায় ড্রোন হামলায় তার চাচার মৃত্যু হলে তিনিই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিকল্পনা করেন।

আদালতে বিচারের সময় লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার কাছে টেলিগ্রাম অ্যাপে আইএস সদস্য পরিচয়ে নাইমুরের পাঠানো বিভিন্ন মেসেজ পড়া হয়। গত বছর ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি লিখেছিলেন, “আপনি কি আমাকে স্লিপার সেল এএসএপিতে নিতে পারেন? আমি পার্লামেন্টে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালাতে চাই। আমি টেরিজা মেকে মারার একটি চেষ্টা করতে চাই।”

নভেম্বরে হামলার পরিকল্পনা হিসেবে নাইমুর হোয়াইট হলের আশপাশ ঘুরে দেখেন এবং বিস্ফোরক নিতে একটি ব্যাগ ছদ্মবেশি একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দেন তিনি।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা নকল বিস্ফোরকসহ একটি ব্যাগ ও একটি জ্যাকেট ২৮ নভেম্বর নাইমুরকে দিয়ে বলেন তাকে এগিয়ে যেতে বলেন।

কেনসিংটনের ওই জায়গা থেকে হাঁটা শুরু করার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নাইমুরকে গ্রেপ্তার করে।

আইএমটি