ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই নভেম্বর ২০১৮, ৩রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫


মাল্টা চাষে অর্থনৈতিক মুক্তি মিলবে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকের


১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১৩:৫৩

আপডেট:
১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১৩:৫৪

বরেন্দ্র অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে মাল্টা চাষে সফল হয়েছে তানোর উপজেলা কৃষি অফিস। বর্তমানে তানোরে রয়েছে ২৫ টির মত মালটা বাগান । আর এ সব বাগানে ফল আসায় মালিকদের মুখে ফুটেছে হাঁসি।

এ ব্যাপারে তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নতুন সময়কে বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের উচু জমিতে মালটা চাষে কৃষকের অর্থনৈতিক মুক্তি ঘটবে ।

বরেন্দ্র অঞ্চলের উচু নিচু জমিতে ধান বা গমের মত ফসল ফলাতে অধিক পরিমানে সেচের প্রয়োজন হয়। এতে করে কৃষকের খরচ হয় বেশি । আবার সেই তুলনাই কৃষক লাভের মুখ দেখতে পাই কম। এসকল দিক বিবেচনা করে বরেন্দ্র অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে মাল্টা চাষের জন্য সরকারি খরচে তানোরের বিভিন্ন কৃষকের জমিতে ২৫ টির মত বাগান তৈরি করা হয়েছে ।

এক বছর আগে রাজস্ব’র অর্থায়নে তানোর উপজেলা কৃষি অফিস এসব মাল্টার বাগান তৈরি করে। এক বছরের মাথায় এই সব বাগানে মাল্টা ধরতে শুরু করেছে। এসময়ের মধ্যেই প্রতিটি গাছে প্রায় ৪০-৬০ টির মত মাল্টা ধরেছে । আবার কয়েকটি গাছের মাল্টা খাওয়ার উপযোগী হয়েছিল । সেগুলো খেয়ে দেখা গেছে এ অঞ্চলের মাল্টার স্বাদও উৎকৃষ্ট মানের।

কৃষি অফিসের তত্বাবাধনে রাজস্ব’র অর্থায়নে তৈরি বাগানগুলোর এক বাগানের মালিক চান্দুড়িয়ার শামসুজ্জোহা সামুর সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি এক বছর পূর্বে কৃষি অফিসের সহায়তায় এক বিঘা(৩৩ শতাংশ ) জমিতে মাল্টার বাগান তৈরি করেন । ইতি মধ্যে তার বাগানের গাছে মাল্টায় ভরে গেছে । এতে তিনি অনেক আনন্দিত হয়েছেন ।

সামু বলেন, মাল্টা বাগান তৈরিতে খরচ কম এবং এতে সেচ খুব কম লাগে । আবার এই অঞ্চলে উৎপন্ন মাল্টার গুনগত মান খুব সুস্বাদু। তিনি আরো বলেন,মাল্টা উৎকৃষ্ট মানের ফল হওয়ার এর দাম অনেক। যা আমরা অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হতে পারব। তাই আমি মাল্টা চাষে আগ্রহী । আগামীতে আরো কয়েকটি মাল্টার বাগান তৈরি করব বলেন সামু।

এ বিষয়ে তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, মাল্টায় বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে পারে । এই অঞ্চলের কৃষকের জন্য মাল্টা সুখের বার্তা বয়ে নিয়ে আসবে।

তিনি বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির স্তর অনেক দূরে । আর ধান বা গমের মত ফসল ফলাতে পানি সেচ দিতে হয় অনেক বেশি । এতে করে কৃষকের খরচ পড়ে অনেক বেশী ।আবার লাবও কম হয় । তাই এই সব অঞ্চলে সেচ কম লাগে তাই এমন ফলের বাগান তৈরি করাই ভালো। এই সব ভাবতে ভাবতে আমরা মাল্টা চাষে মনোযোগ দেই এবং কৃষকদের বাগান তৈরিতে উদ্ভুদ্ধ করি । এতে করে দেখা যায়, এ সব অঞ্চলের উচু জমিতে মাল্টা চাষের উপযোগী । এবং এগুলোর গুনগত মানও খুব ভালো ।

তিনি বলেন, মাল্টা চাষে কৃষকরা অনেক লাভবান হবে । তিনি আরো বলেন, একটি মাল্টার গাছ ১২-১৫ বছর পর্যাপ্ত পরিমানে ফল দেবে । আর মাল্টা দামী ফল হওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকের অর্থনৈতিক মুক্তি ঘটবে ।

আইএমটি